-
লাবন্য
রুবি অনেকক্ষণ বাথরুমের আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকে। গোসল সেরে টাংগাইলের তাতের শাড়িটা পরেছে সে। তাকে কি “শেষের কবিতা”র লাবন্য’র মতো লাগছে? লাবন্য কেমন? সে কি লাবন্য হতে পারবে। রুবি, রুবি বলে ডাকছে কেউ, সে বাথরুমের দরজা খুলে বেরিয়ে আসে।
মেজ ভাই বাইরে থেকে জুতায় কাদা মেখে এসেছে। রুবি রান্নাঘর থেকে একটা ন্যাকড়া এনে মেজ ভাইয়ের জুতা মুছে দেয়। এরপরে মা তাকে রান্নাঘরে ডাকে। একটার পর একটা কাজ ক রতে করতে রুবি লাবন্য’র কথা ভুলে যায়। কিন্তু কাজ কাম শেষ হলেই লাবন্য’র কথা মনে পড়ে তার। আনিস স্যার লাবন্য’র কথা উচ্ছসিত স্বরে বলেন। স্যারকে খুব ভালোবাসে রুবি। রুবি স্যারের দিকে প্রচন্ড আবেগ নিয়ে তাকায়। স্যার দেখেও না দেখার ভান করে। লাবন্য কি তার মতো কালো, না কী ফর্সা। কালো বলে রুবির বিয়ে হচ্ছে না। বিয়ে হচ্ছে না বলে রুবি অবশ্য খুশি। সেদিন হাতেম আলী কলেজের এক শুটকো অর্থনীতির টিচার এসেছিল তাকে দেখতে, একের পরে এক সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন করে যেতে লাগলো তাকে। রুবি কোন উত্তর দিল না। বিয়েটা ভেংগে যাওয়ায় রুবি মন খারাপ করার ভান করে ঘুরে বেড়াতে লাগলো। নাহলে তার বুদ্ধিমান ভাইয়েরা কিছু একটা সন্দেহ করবে।
আজ ইন্টারমিডিয়েট পরিক্ষার রেজাল্ট দেবে। গত তিনবার রুবি ইন্টারমিডিয়েটে ফেল করেছে। এবারো ফেল করবে জানে সে। তারপরেও রুবি রেজাল্ট আনতে যায়। ভালোই হলো এই সুযোগে আনিস স্যারের সঙ্গে দেখা করে আসা যাবে। রুবি বাথরুমের আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে হালকা সাজে। ঠোঁটে একটু লিপস্টিক আর চোখে আই লাইনার লাগায় সে। আনিস স্যারের বাসায় আগে যাবে না রেজাল্ট আগে আনবে ভাবতে ভাবতে স্যারের বাসায় যায় সে। স্যার বিয়ে করেন নি, বোনের সঙ্গে থাকেন। রুবিকে দেখে স্যার উচ্ছসিত হয়ে ওঠেন।
“কি ব্যাপার তোমাকে আজকাল দেখাই যায় না।”
“এইযে আসলাম” রুবি অর্থপূর্ণ চোখে তাকায়।
স্যার কথা ঘুরিয়ে নেন। “রেজাল্ট কি তোমার”
“এবার ও ফেল করব।” রুবি হাসে, স্যারও হাসেন।
রুবি একবার ভাবে স্যারকে বলবে আপনার জন্যইতো ফেল করি। তারপর আবার কি ভেবে বলে না।বাসায় কেউ নেই বলে রুবির জন্য নিজেই চা বানায় আনিস স্যার। কি হবে রুবি যদি স্যারকে একটু জড়িয়ে ধরে, ৫০ বছর বয়সী স্যারকে রুবি জড়িয়ে ধরার কল্পনা করে। কিন্তু না, রুবি সাহস করে উঠতে পারে না। স্যারের বাসা থেকে দুইটা গল্পের বই নিয়ে ও রেজাল্ট নিয়ে বাসায় ফেরে রুবি। মন খারাপ করে বাসায় ঢোকে। কেউ আর তাকে কিছু বলে না। মা কয়েকবার রুবির ঘরে এসে দেখে যায় রুবি কি করছে। বিকেলে রুবি রান্নাঘরে যায় চা বানাতে। স্বাভাবিকভাবে সবাইকে চায়ের কাপ তুলে দেয়।
এভাবে বছর বছর ফেল করে রুবির অভ্যাস হয়ে গেছে। শুধু স ন্ধ্যায় যখন লাল আভার মধ্যে সূর্য্যটা ডুবেতে থাকে তখন রুবির মন কেমন করে ওঠে, ব্যাকুল হয়ে ভাবে সে কবে আসবে অমিত রায়!
3 Comments
Friends
Rokter Sagor
@roktersagor
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Arif
@arif1
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Sharmin
@sharmin1
Zahidul Islam Roni
@roni03


মধ্যবিত্ত ঘরের কালো লাবণ্যর জন্য অমিত রায়রা আসে না।