-
দ্য ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট
আকরাম সাহেবের ক্যান্সার ধরা পড়ার পরে লাভের লাভ এই হয়েছিল যে তিনি তার স্ত্রীর থেকে আলাদা শুতে পারছিলেন। যদিও তার স্ত্রী অনেক আপত্তি করেছিলেন কিন্তু তিনি অসুস্থতার দোহাই দিয়ে সরে পরেছেন। এখন তিনি সামনের ঘরে ঘুমান সঙ্গে থাকে তার আদরের ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট। ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইটের গায়ে কিছু কমলা ছোপও আছে। কিন্তু সে ক্যালিকো না। তার লেজের ডগাটা শুধু কালো।
স্ত্রীকে তিনি বুঝিয়েছিলেন এখন বারবার আমি বাথরুমে যাব-আমি বরং আলাদা শুই। আসলে তিনি চাচ্ছিলেন বিড়ালটা তার সঙ্গে আরাম করে ঘুমাক। তার স্ত্রী বিছানায় বিড়ালটাকে নিতে চাইতেন না। স্ত্রীকে ছেড়ে এসে তার ঘুমও হচ্ছে ভালো। এই বয়সে স্ত্রীর চেয়ে বিড়ালটিকে তার বেশি আপন মনে হয়।
দেশি ব্রিডের এই বিড়ালটাকে তার গ্যারেজে কেউ ফেলে দিয়ে গিয়েছিল। ছোট ছানাটি ভয়ে এদিকে ওদিকে দৌড়াচ্ছিল। সেই থেকে ছানাটিকে তিনি পটি ট্রেইন করে দেখে শুনে রাখছেন। তার স্ত্রী ছানাটির বিষয়ে ওজর আপত্তি করলেও তিনি খুব একটা কান দেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় বিড়ালটির সঙ্গে কাটান। তার বুকের উপর উঠে ঘুমায় ছানাটি।
ক্যান্সার ধরা পড়েছে শুনে তার ছেলে সুমন এসেছে ক্যানাডা থেকে। সুমন তার স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়ে রাইনাকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। বিদেশ থেকে আনা ফলমূল আর উষ্ণতা খুবই ভালো লাগছে তার। নাতনি তার জন্য একটা লাল টুকটুকে সোয়েটার এনেছে। উলের সেই লাল রংয়া সোয়েটার দেখতে তার এতো ভালো লাগছে যা বলার না। মানুষ যে কেন বিদেশে গেলে আর ফিরতে চায়না তা বুঝতে পারছেন তিনি।
সুমনের মেয়ে রাইনার সঙ্গে ভালো করে ভাব জমানোর সুযোগ পেলেন না তিনি। ঢাকায় এসেই তারা দু’একদিনের মধ্যে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লো। এখন জানুয়ারি মাস। উইন্টার ভ্যাকেশন শেষ। তাই বেশি দিন থাকতে পারবে না তারা-সেকথাই বারবার বলতে লাগলো।
সুমনরা যে কয়দিন ছিল বেশ হৈচৈ হচ্ছিল। এটা সেটা রান্না, খাওয়া দাওয়া ভালোই চলছিল। মাঝে মাঝে ফিরে যাওয়ার গুঞ্জন। মেয়ের স্কুল খুলে গেছে। সুমনের অফিসে অনেক কাজ। ছেলের কী এমন ব্যস্ততা যে অসুস্থ বাবার সঙ্গে কিছুদিন থাকতে পারে না! এসব ভেবে আকরাম সাহেবের মন ভীষণ খারাপ হয়। মন খারাপের মাঝেই তিনি বিড়ালটিকে কোলে নিয়ে বসে থাকেন। নিজেকে সান্ত্বনা দেন।
এরি মধ্যে একদিন সুমন চলে যায়। না ফেরার দেশে চলে যেতে যাওয়া বাবার জন্য তার হাতে বেশি সময় নেই। আকরাম সাহেব নিচে নেমে ছেলেকে এগিয়ে দেন। আসলে তিনি এয়ারপোর্টে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু কেউ তাকে যেতে দেয়নি। ফিরে এসে তিনি শুয়ে পড়েন। বিড়ালটাও তার বুকের উপরে এসে শুয়ে পরে। তার বুকের মধ্যে জমে থাকা ভারী নিশ্বাস বের হয়ে আসে। ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট গড় গড় শব্দ করে ওঠে। ধীরে ধীরে মাথা গুজে নিঃশব্দ হয়ে আদর চায়। বিড়ালকে আদর করতে করতে তিনি ভুলতে থাকেন ছেলের কথা।
3 Comments-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 22 September 2024 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
Friends
Rokter Sagor
@roktersagor
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Arif
@arif1
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Sharmin
@sharmin1
Zahidul Islam Roni
@roni03



😭