Profile Photo

Kanej-RoksanaOffline

  • Kanej-Roksana
  • Profile picture of Kanej-Roksana

    Kanej-Roksana

    1 year, 8 months ago

    রনি

    সকাল থেকে রান্না করলাম দু বার। সকালে খিচুড়ি আর আগের দিনের বেচে যাওয়া গরুর মাংসের ভুনা খেয়ে রনি চলে গেছে রফিকের বাসায়। আমরা থাকি উত্তরায়। রফিকের বাসা মোহাম্মদপুরে। রনিকে বলতে চেয়েছিলাম যে একটু দেরি করে যাও, পরে রনির উচ্ছাস দেখে নিজেকে সামলে নিলাম।

    রনি খুব সকালে উঠে মুখ ধুতে গিয়ে গোসল করে শাড়ি পড়তে বসলো। একবার ভাবলাম বলি “রনি তোমাকে শাড়িতে মানায় না।” তারপর কিভাবে কথাটা নেবে ভেবে কিছু বললাম না। কাল রাতে একবার শুধু ওকে চুমু খেয়েছিলাম ওই পর্যন্ত।

    খাবার টেবিলে ও একবার শুধু কাচা মরিচটাতে কামড়ে দিয়ে ঝালের চোটে উফ! করে উঠলো। এরপরে নিশব্দে খাওয়া। খাবার শেষে ও একটা সিএনজি ডেকে দিতে বলে আবার আয়নায় নিজেকে দেখতে গেল। মোটেও সুন্দর লাগছে না ওকে। হয়তো ভুল দেখছি। হয়তো ওকে অনেক সুন্দর লাগছে, আমার চোখ বিট্রে করছে।

    সিগারেট টানলাম কয়েকটা। রনির ব্যাগে ছিল প্যাকেটটা, মনে করে রেখে দিয়েছি। রনির কথা মনে আসছিল বারবার। গোসল করতে গিয়ে ওর কাপড় ধুয়ে বারান্দায় শুকাতে দিলাম। বারান্দায় দু’জনের কাপড় শুকাচ্ছে, আমার শার্টের পাশে রনির কামিজ। এইতো আমি ছুয়ে আছি ওর জামা। এই জামা পরে ও সেদিন গিয়েছিল রফিকের সঙ্গে দেখা করতে। সবুজ কামিজে সোনালী সুতার কাজ।

    শাক, আর মাছের ঝোল রাধলাম অনেক্ক্ষণ ধরে। ধনে পাতা দিয়ে রুই মাছের ঝোল রনির খুব পছন্দ।
    আজ প্রথম রনি আমাকে ছেড়ে অন্যের সঙ্গে শুতে যায়নি। রফিককে ও কলেজের ফার্স্ট ইয়ার থেকে পছন্দ করে। রফিক কখনো রনিকে চায়নি। আমি আর রনি মালয়েশিয়ায় পড়তে গিয়ে একসঙ্গে ছিলাম পাচ বছর। দেশে ফিরে রনি আমেরিকা গেছে, বারদুয়েক বিয়েও করেছে। কিন্তু রফিক ওকে ডাকেনি কখনো। ইদানিং রফিকের বউ চলে যাওয়ায় রফিক আর রনির ঘনিষ্ঠতা বেড়ে গেছে হঠাৎ করে। রনির যৌন কাতর শরীরকে গান শুনিয়ে ঘুম পাড়ানো যায় না। আমার সব ভালোবাসা ওর কামনার কাছে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে বারবার।

    দুপুরে মাছ দিয়ে খেতে খেতে ছোটবেলাকার কথা মনে পড়লো বারবার। গরমের দিনে বাড়ির পাশের নদীতে মাছ ধরতে যেতাম। খেয়ে ওঠার একটু পরে রনি ফিরে আসলো। একটু অপেক্ষা করলে রনির সঙ্গে খাওয়া যেত।

    “খেয়েছিস?” এটুকু বলে রনি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। রনির মুখ হা হয়ে আছে। ঘুমন্ত রনির ঠোঁটের কোনা থেকে লালা গড়িয়ে পড়ছে, ভীষণ মায়া লাগছে ওর জন্য।

    4
    1 Comment
    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 02 October 2024 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Friends

Profile Photo
Rokter Sagor
@roktersagor
Profile Photo
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Profile Photo
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Profile Photo
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Profile Photo
Arif
@arif1
Profile Photo
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Profile Photo
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Profile Photo
Sharmin
@sharmin1
Skip to toolbar