-
ডায়বেটিস ও কয়েকটি মিষ্টির গল্প
হামিদ সাহেব তার অন্যান্য ভাই বোনদের সাথে কোরবানির ঈদ কাটাতে এসেছেন মেজ ভাইয়ের বাসায়। মেজ ভাইয়ের বাসায়ই সাধারণত তারা ঈদের সময় সবাই আসেন। চার বোন ও চার ভাইয়ের ছেলে মেয়ে নাতি নাতনি যারা ঢাকায় থাকে তাদের সবাই প্রায় ঈদের সময় মেজ ভাইয়ের বাসায় আসে৷ ভাইদের মধ্যে মেজজনের টাকা পয়সা বেশি তাছাড়া তার এপার্টমেন্ট বড়। অন্য ভাইদের বাসাগুলোতে এতো লোকের জমজমাট আড্ডা দেওয়া সম্ভব না।
তার মেজ ভাই জাভেদ ছাপ্পান্ন বছর বয়সে চার নমবর বিয়ে করেছে। জাভেদ প্রতিটি বউয়ের প্রতি অনুগত ছিল তা তিনি নিশ্চিত জানেন। কিন্তু কিছুতেই তার বিয়ে টিকে না৷ নতুন বউটা একটা হলুদ থ্রিপিস পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রথমেই তাকে সেমাই আর সরবত খেতে দিল। দুটো খাবারেই চিনি দেয়া দেখে তিনি নিজের উপর জোর খাটালেন। সেমাই না খেলেও সরবত খাওয়াটা এড়াতে পারলেন না। তাও তার মনে একটা বেশ ভালো বিজয়ী বিজয়ী ভাব আসলো। হামিদ সাহেবের ডায়বেটিস অনেক বেড়ে গেছে। ডায়বেটিসের কারণে আবার হার্নিয়া হয়েছে তার। ব্লাড সুগার এতো বেশি যে হার্নিয়া অপারেশন করাতে পারছেন না। সবার সাথে গল্প গুজব করতে করতে ভাত খেতে বসলেন তিনি। ছোট ভাইয়ের বউটা জিজ্ঞেস করলো,
-দাদা, আপনি নাকি খাবারে কম লবন আর বেশি লবনের পার্থক্য করতে পারেন না? যা দেওয়া হয় তাই খেয়ে ফেলেন?
-আসলে তা না, আমি বুঝতে পারি। কিন্তু কাউকে কিছু বলি না।
-খুব ভালো, দাদা। রবিনতো রান্নায় লবন কম হলেই চিতকার করে বাড়ি মাথায় তোলে।এই রকম নানা গল্প খাবার টেবিলে ছড়িয়ে পরে। রবিনের কোন এক বন্ধুর বাসায় এক হুজুর প্লেট এতো চেটে খেয়েছে যে না ধুয়েই সেই প্লেটে আরেক হুজুরকে খেতে দিয়েছে। খাবার যে দিচ্ছিলো সে বুঝতেই পারেনি প্লেটটি ধোয়া হয়নি।
ভাত খাওয়ার শেষে এক প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে আসে নতুন বউটি। হামিদ সাহেব মিষ্টির প্যাকেট দেখে “না, না” করে ওঠেন। ওহ, কী শান্তি আবার জয় করা গেছে। মিষ্টির প্যাকেট চোখের সামনে দেখেও মিষ্টি খাননি হামিদ সাহেব। সেমাই আর মিষ্টি দুটোতেই জয় লাভ করা গেছে। কিন্তু তার মনে হয় মিষ্টি আছে। কাছেই আছে। নতুন বউটি মিষ্টির প্যাকেটটি ফ্রিজে রেখে দেয়। হামিদ সাহেবের জিহ্বার টেস্টিং বাডগুলো সামান্য লালায় ভিজে যায়।
এরপর তারা টিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে বসে যান। সুইজারল্যান্ড আর ব্রাজিলের খেলা চলছিল। তার ছোট ছেলে সোহান তার দুই বছরের বাচ্চা রূহানকে জিজ্ঞেস করে,
-রূহান তুমি সুইজারল্যান্ড না ব্রাজিল?
-সুইজা, সুইজা রূহান চিতকার করে ওঠে।সুইজারল্যান্ডের একটি প্লেয়ারের নাম জাকারিয়া হওয়ায় হামিদ সাহেবের ছোট বোনের স্বামী জাহিদ সুইজারল্যান্ডের পক্ষ নেয়। তখন হামিদ সাহেবের বড় ছেলে তামাম জানায় জাকারিয়া একটি খ্রিস্টান প্লেয়ার। কথাটা শুনে জাহিদ চুপ মেরে যায়।
খেলা আর গল্প চলে সমান তালে। হামিদ সাহেবের মনে হয় মিষ্টির প্যাকেট কাছেই আছে। তার মুখ আবার লালায় ভরে যায়। খেলা শেষ হতে রাত বারোটা বাজে।
সবাই বিভিন্ন রুমে ঘুমাতে চলে যায়। হামিদ সাহেব বিছানায় উশখুশ করেন। কিছুতেই তার ঘুম আসে না। বারবার মনে হয় কাছেই আছে, মিষ্টির প্যাকেট কাছেই আছে। কিছুক্ষণ পরে বিছানা ছেড়ে উঠে টিভি রুমের পাশে ডাইনিংয়ে যান তিনি। দ্রুত ফ্রিজটা খুলে গপাগপ কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে বাথরুমে চলে যান হামিদ সাহেব। না, কেউ দেখেনি। পা টিপে টিপে তিনি বিছানায় এসে শুয়ে পরেন।1 Comment
Friends
Rokter Sagor
@roktersagor
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Arif
@arif1
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Sharmin
@sharmin1
Zahidul Islam Roni
@roni03


যাদের মিষ্টি অনেক পছন্দ তাদের জন্য ডায়াবেটিক খুব কষ্টের ব্যাপার।