Profile Photo

Abul Hasan TuhenOffline

  • abulhasantuhen
  • Profile picture of Abul Hasan Tuhen

    Abul Hasan Tuhen

    1 year, 7 months ago

    নাটক – বেলাশেষে -১
    রচনা – আবুল হাসান তুহিন
    কাহিনী সংক্ষেপ:
    নাটকের পাত্র-পাত্রী
    ১। রকি       ২। লাবু      ৩। ঋতু     ৪। রহিম          ৫। শফিক      ৬। রেজা       ৭। আসলাম  ৮। লাবণ্য
    ৯। প্রিন্সিপাল ১০ । পিয়ন     ১১। ব্যাংক ম্যানেজার
    ১২। রাতুল     ১৩। সানজিদা  ১৪। করিম সাহেব ১৫। মিজান সাহেব

    দৃশ্য।। ০১।। দিন।। কলেজ ক্যাম্পাস।। আউটডোর
    চরিত্র: রকি, লাবু
    [ফ্রেমে দেখা যায় রকি হেঁটে আসছে অন্য দিক থেকে লাবুও হেঁটে আসছে। দুজনে মুখোমুখি দেখা। লাবু রকিকে দেখে হত ভম্ভ হয়ে যাবে।]

    লাবু      :  কেমন আছো রকি ? বাড়ি সবাই নিশ্চয়ই ভালো ?
    রকি      : আছে একরকম, তা তুই এখানে কেন? কলেজ ক্যাম্পাসে মেয়েদের সাথে আড্ডা মারতে এসেছিস বুঝি?
    লাবু      : না না, আমিতো এই কলেজের চান্স পেয়েছি। ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে এসেছি। আর তুমি?
    রকি      : না এমনি ঘুরতে এলাম।
    লাবু      : ও আচ্ছা। আমি ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো জেনে আসি । (লাবু এগিয়ে গেল)
    রকি      : (রকি কোন উত্তর দিল না, স্বাগত ) না এই কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে না ছোটলোকের বাচ্চাটা যে কলেজে পড়বে আমাকে সেই কলেজে পড়তে হবে ওর বাবা আমাদের বাড়িতে কাজ করে। তাঁর ছেলের সাথে আমাকে একই কলেজে পড়তে হবে! এটা কখনো সম্ভব নয় আমি অন্য কলেজে ট্রাই করবো।না হলে মান সম্মান নিয়ে টানাটানি হবে।
    (Cut to)

    দৃশ্য।। ০২।। দিন।। রুম।। ইনডোর
    চরিত্র: রাতুল , লাবণ্য, সানজিদা
    [ ফ্রেমে দেখা যায় রাতুল, টেবিলে বসে চারপাশটা খামের মুখ এঁটে তারপর ঠিকানা লিখছে, লাবণ্য একপাশে বসে আছে]
    রাতুল    : হ্যা রে লাবণ্য তোর কাছে কিছু টাকা হবে?
    লাবণ্য   : হবে ভাইয়া কিন্তু আমার না কলেজের ফাইনাল পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে হবে তাই টাকাগুলো রেখেছিলাম।
    রাতুল  : ওখান থেকে আমাকে শ দুই টাকা দে, এই দরখাস্ত গুলো আজই ডাকে পাঠাতে হবে।
    লাবণ্য   : তুমি এ যাবত চাকরির আবেদন করতে গিয়ে যে পরিমাণ পেয়ে অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট, ডাক খরচ দিয়েছো, সেই টাকা দিয়ে এতদিন ব্যবসা করতে পারতে।
    রাতুল   : তুই ঠিকই বলেছিস, চাকরির পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে অর্থ এবং সময় দুটির অপচয় হয়।
    লাবণ্য    : (লাবণ্য টাকা দেয়) এই নাও ভাইয়া টাকা নাও।
    রাতুল     :  খামের পাশে রাখ, (খামের পাশে টাকা রাখে) হ্যারে, লাবণ্য, আব্বা তো বাড়িতে নেই? 
    লাবণ্য    : মনে হয় পেনশনের ফাইলটা ব্যাপারেই গেছে ফাইলটা কিছুতেই সই করছে না।
    রাতুল   : আব্বার টেনশনের টাকাগুলো পেলে মায়ের চিকিৎসা করানো যেত আর আমি কি একটা চাকরি-বাকরি জন্য কিছু টাকা নিতে পারতাম । শোন মায়ের দিকে খেয়াল রাখিস আমি পোস্ট অফিসে খামগুলো পোস্ট করে আসি। (রাতুল খাম এবং টাকা নিয়ে বেরিয়ে যায়, লাবণ্য দরজা বন্ধ করে,  ওদিকে মা এ চিৎকার)
    [Intercart: অন্য ঘরে মা সানজিদা অসুস্থ বিছানায় শুয়ে আছে ]
    সানজিদা : লাবণ্য আমাকে এক গ্লাস পানি দিয়ে যাতে মা গলাটা কেমন শুকিয়ে গেছে কই?
    লাবণ্য      : এইতো আসছি মা,
    সানজিদা  : এক গ্লাস পানি নিয়ে আসিস মা।
    লাবণ্য      🙁 লাবণ্য পানি নিয়ে মায়ের কাছে বসে এবং পানি পান করায়) আস্তে করে মাথাটা উঁচু করো নাও খাও।
    সানজিদা : তোর আব্বাকে তো দেখছি না কোথায় গেলেন তিনি?
    লাবণ্য   : মনে হয় অফিসে গেছেন পেনশনের ফাইলটা কি অবস্থা সেটা দেখার জন্য।
    সানজিদা  : তোর আব্বা রিটার্ড করল আমি অসুস্থ হলাম এদিকে রাতুরও কোন চাকরি-বাকরি পেল না তোর কলেজের পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে। চারিদিকে যেন একটা হাহাকার।
    লাবণ্য : মা তোমাকে এত চিন্তা ভাবনা করতে হবে না দিন এমনিতেই পার হয়ে যাবে একটু শান্ত হয়ে থাকো শুয়ে থাকো। আমি  দেখি রান্নাবান্নার কিছু ব্যবস্থা করা যায় কিনা।
    সানজিদা: আচ্ছা মা যা, (প্রস্থান) cut to

    দৃশ্য।। ০৩।। দিন।। রুম।। ইনটডোর
    চরিত্র: রহিম, লাবু, শফিক সাহেব
    [ফ্রেমে দেখা যায় শফিক সাহেব বসে চা খাচ্ছেন রহিম একটি পেপার হাতে প্রবেশ করে, শফিক সাহেবের হাতে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ]

    শফিক    : (শফিক সাহেব পেপারে চোখ বুলিয়ে) কি ব্যাপার রহিম মিয়া কোন সমস্যা? কিছু বলবে?
    রহিম     : না বড় ভাই তেমন কিছু না, কিছু টাকার দরকার ছিল।
    শফিক    : ও আচ্ছা, তা  এ সময় তোমার আবার টাকার দরকার কেন?
    রহিম      : না মানে ছেলেটা কলেজে ভর্তি হবে তো তাই ভর্তির জন্য টাকা পয়সা লাগবে।
    শফিক     : গরিব ঘরের সন্তানের এত লেখাপড়া করে কি হবে হ্যাঁ? একটা কাজ কর্মে ঢুকে গেলে তো তোমার কষ্টটা দূর হতো!
    রহিম     : আপনি তো সবই জানেন শুধু শুধু আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন! সব সন্তানের পিতার মাতার একটা আশা আকাঙ্ক্ষা থাকে।
    শফিক  : হ্যাঁ তা ঠিকই? গরিবের আবার ঘোড়া রোগ।  কথাটা তোমার ভালোর জন্যই বললাম আচ্ছা দেখো চেষ্টা করে কতদূর এগোতে পারো।
    রহিম   : ওর মায়ের একান্ত ইচ্ছা ছিল কিন্তু ছেলের এই দেখে চোখে দেখে যেতে পারলেন না
    শফিক :  সব আশা সবসময় সকলের পূরণ হয় না। ও শোনো সেই ছোটবেলা থেকেই তোমার ছেলেকে আমাদের এই বাড়িতে আসতে নিষেধ করেছি কিন্তু সে তো কোন কানেই শোনে না । আজ দেখলাম আসতে এর পরে সে যেন  আমাদের বাড়িতে আর না আসে , কারণ আমার মেয়ে বড় হচ্ছে সেটা তুমি তো জানো আমি চাইনা তোমার ছেলে এ বাড়িতে আসুক।
    রহিম : না ও তো সচরাচর আসেই না শুধু এসেছে আজ টাকা জন্য।
    শফিক  : শোন এই মুহূর্তে কিন্তু আমি কোন টাকা পয়সা দিতে পারবো না , আমার হাতের অবস্থা খুব খারাপ তুমি অন্য ব্যবস্থা কর।
    রহিম    : বড় ভাই কিছু টাকা দিলে অনেক ভালো হতো —–।
    শফিক   : বললাম তো! (পেপারে চোখ বেলাতে থাকবে)
    রহিম     : আচ্ছা ঠিক আছে ।  দেখি অন্য কোন ব্যবস্থা করতে পারি কিনা। (প্রস্তান) Cut to
    [Intercart ঋতু তাদের কথোপকথন গুলো শুনবে]

    দৃশ্য।। ০৪।। দিন।। রুম।। ইনডোর
    চরিত্র:  রাতুল, করিম,
    [ ফ্রেমে দেখা যায় করিম সাহেব, রাতুলের সাথে কথা বলছে তার মায়ের অসুখের রিপোর্টগুলো নিয়ে]

    করিম   : শোন, তোর মায়ের রিপোর্টগুলো আজ হাতে পেয়েছি।
    রাতুল     : কি বললেন ডাক্তার?
    করিম   : তোর মায়ের দুটো কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে।
    রাতুল     : কিডনি চেঞ্জ করা কি সম্ভব?
    করিম    : তাঁর যে শারীরিক অবস্থা। তাতে কিডনি চেঞ্জ করা সম্ভব নয়! তাছাড়া তাকে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।
    লাবণ্য    : তাহলে মাকে তো বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখা যাবে না!
    করিম    : ডাক্তার সে কথাই বলেছেন বলেছেন প্রায় শেষ পর্যায়ে। করা সম্ভব হচ্ছে না এখন যে কদিন বেঁচে থাকেন ওষুধের পরে রাখতে হবে। তোর মা তার অসুখের  বিষয়ে কোন কিছু টের না পায়।
    রাতুল   : তবু আব্বা শেষ চেষ্টা তো করতেই হবে! আর কিডনি চেঞ্জ করতে গেলে  গ্রুপ মিলতে হয় সেটা একটা কঠিন ব্যাপার আর কিডনি বাংলাদেশে আত্মীয়-স্বজনে ডোনেট ছাড়া   সহজে পাওয়া যায় না।
    করিম    : ভারতে চিকিৎসার  জন্য  লাগবে প্রচুর টাকা এখন আমাদের সে অবস্থা! রিটায়ার্ড করলাম কিন্তু কোন টাকা পয়সা পেলাম না ফাইলটা তো জায়গা থেকে কিছুতেই নড়ছে না। এই কদিন অনেক দৌড়াদৌড়ি করলাম কিন্তু কোন লাভ হলো না।
    cut to

    দৃশ্য।। ০৫।। দিন।। নির্জন স্থান।। আউটডোর
    চরিত্র: ঋতু,  লাবু,
    [ ফ্রেমে দেখা যায় ঋতু অপেক্ষা করছে লাবু সামনে দিয়ে হেঁটে আসছে সামনাসামনি দেখা হবে]

    ঋতু    : কি ব্যাপার লাবু ভাই? এভাবে লুকিয়ে আসলেন আবার লুকিয়ে চলে যাচ্ছেন?
    লাবু    : তুমি তো সবই জানো এবং সবই বোঝো। তোমার পিতা চান না আমি তোমাদের বাড়িতে আসি।
    ঋতু    : আজ হঠাৎ এলেন আবার চলে যাচ্ছেন?
    লাবু    : (দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে) এসেছিলাম কলেজে ভর্তির জন্য টাকা পয়সা লাগবে তাই আব্বাকে বললাম ম্যানেজ করে দিতে।
    ঋতু    : খালুজান কি বললেন?
    লাবু    : আব্বা তেমন কিছু বললেন না শুধু বললেন দেখি কি করা যায় ।তাই হতাশা ফিরে যাচ্ছি।
    ঋতু    : (হাত মুঠো করে) হাতটা এগিয়ে দিন। আহ্ দিন না । ( দ্বিধাদ্বন্দ্বে লাবুহাতটা পাতে, ঋতু একটা সোনার চেন তার হাতে দেয়)
    লাবু    : কি হবে এটা? তোমরা চেনটা আমার হাতে দিলে কেন?
    ঋতু    : কেন দিলাম আপনি বুঝতে পারছেন না?
    লাবু    : না মানে? এটা নিয়ে কি করব?
    ঋতু    : কি করবেন মানে আপনাকে কলেজে ভর্তি হতে হবে না!
    লাবু    : হতে হবে কিন্তু এটা আমি নিতে পারবো না!
    ঋতু    : কোন কিন্তু নয়! চেন টাকে আপনি ভালো করে  দেখুন কি চিনতে পেরেছেন? কিছু মনে পড়ছে? (লাবুর চিন্তিত মুখ) এই চেনটা আপনার মায়ের। ছোটবেলায় আমার চেইন পড়ার অনেক শখ ছিল তাই খালাম্মা ওটা দেখে আমাকে দিয়েছিলেন। কি মনে পড়েছে?
    লাবু  : হ্যাঁ পড়েছে! তো, ওটা তোমাকেই তো দিয়েছে আমি কি করবো?
    ঋতু   : এটা স্বর্ণকারের দোকানে গিয়ে বন্ধক রাখবেন, যে টাকা পাওয়া যাবে ওটা দিয়ে আপনি কলেজে ভর্তি হবেন এবং কিছু জামাকাপড় তৈরি করবেন।
    লাবু   :  কিন্তু!
    ঋতু   : আবার কিন্তু কিন্তু! কোন কিন্তু নয়! এবার হাসিমুখে মায়ের স্মৃতিটা বুকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। ও হ্যাঁ চেইনের দাবিটা কিন্তু ছাড়ছি না, সময় সুযোগ ভালো হলে, চেইনটা  বন্ধক ছাড়িয়ে এনে আমাকে আবার ফেরত দেবেন,
    লাবু  : আচ্ছা ঠিক আছে, তোমার কাছে ঋণী হয়ে গেলাম, তাহলে চলি। (প্রস্থান)
    ঋতু  : ভালো থাকবেন। (লাবুর চলে যাওয়া পথের দিকে চেয়ে, স্বাগত) চেইনটা আমার কাছে আমানত, খালাম্মা আমাকে যে বন্ধনে বেঁধেছেন আমি সেটা বুঝেছি কিন্তু লাবু ভাই হয়তো এখনো বুঝতে পারেননি, বুঝলেও তিনি প্রকাশ করবেন না খুব সহজে।( ফেড হয়ে যাবে) Cut to

    দৃশ্য।। ০৬।। দিন।। নির্জন স্থান।। আউটডোর
    চরিত্র: আসলাম , রেজা
    [ ফ্রেমে দেখা যায় ওরা দুজন একটি গাছের নিচে বসে নিজেদের মধ্যে কথা বলছে, রেজা চি এবংরকুমার, আসলাম প্রেমে ব্যর্থ যুবক সামনে একগাদা মেয়েদের ছবি ছড়ানো দুজনেরই মানসিক সমস্যা]

    আসলাম : ওরে হতচ্ছাড়া, ছ্যামড়া তুই তো প্রেমও করিস নি বিয়েও করিস নি বুঝবি কি আর জ্বালা
    রেজা     : ওসব ঝামেলায় না জড়ায়ে আমি ভালো আছি, প্রেম করে তোমার মত পাগল হব আমি।
    আসলাম : কি আমি পাগল?
    রেজা      : থুক্কু এ পাগল সে পাগল না তুমি হচ্ছো প্রেমের পাগল।
    আসলাম  : ঠিকই কইছিস একদম মনের মত কথা । শোন একটা গান শোন,
    ( ছবিগুলো নিয়ে একটা গান করতে থাকে রেজা গানে তাল দেবে )
    ও আমার সোনা মনা কচি ময়না
    আমার ঘর আলো করে ছুটে আয় না,
    ও আমার সোনা মনা কচি ময়না।।

    শূন্য আমার বুকের জমিন চাই যে পেতে তোরে,
    এ জনমে না পাইলে তোরে আমি মরে যাব ওরে
    আর কতকাল থাকবি দূরে কাছে ছুটে আয়না
    আমার সোনা মনা কচি ময়না।।

    শূন্য ঘরের কেঁদে কেঁদে রইলাম বন্ধু একা
    কেমন করে পাবো আমি মন বধুয়ার  দেখা
    অন্তর পুড়ে হইলো কালা কষ্ট যে আর প্রাণে সয়না
    ও আমার সোনা মনা কচি ময়না।।
    [গান গাইতে থাকবে , শফিক সাহেব, রহিম,লাবু, রকি ,ঋতু ওদের কিছু ওদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড এর ভেতর দিয়ে ভেসে যাবে,

    দৃশ্য।। ০৭।। রাত ।। রুম ।। ইনটডোর
    [ফ্রেমে দেখা যায় ঋতু  বসে বই পড়বে, শফিক সাহেব এসে উঁকি দিয়ে দেখে চলে যাবে]
    cut to

    দৃশ্য।।০৮।। বাড়ি।। দিন
    চরিত্র: করিম সাহেব, রাতুল
    [ফ্রেমে রাতুল কলিং বেল বাজাবে করিম সাহেব এসে দরজা খুলে ]

    করিম   : রাতুল সারাদিন কোথায় ছিলি বাবা ? 
    রাতুল   : আজ চাকরির ভাইভা ছিল।
    করিম   : ও আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। তা কবে জয়েন্ট করতে হবে ?
    রাতুল  : লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পরও চাকরিটা হবে না বাবা। কারণ কর্তৃপক্ষের উপর নাকি অনেক চাপ, সেই চাপ ঠেকাতে তিন লক্ষ টাকা দিতে হবে। আমি না করে দিয়েছি।

    করিম     : তিন লক্ষ টাকার জন্য তোর ভবিষ্যত নষ্ট হলো ।এক কাজ করি আমাদের এই স্বপ্নমহল বাড়িটা বিক্রি করে দেই। এতে দুটো কাজ হবে, তোর চাকরির জন্য তিন লক্ষ টাকাও দেওয়া হবে সেই সাথে তোর মায়ের অপারেশন করা হবে। 

    রাতুল    : কি বলছো আব্বা, তুমি সারা জীবন যে নীতি আদর্শের কথা বলেছো,সেই আদর্শ থেকে সরে আসবে ! সারা জীবন একটি টাকাও অন্যায় পথে ঘরে আনোনি । সেই তুমি —–!

    করিম : নীতি আর আদর্শের কাছে আমি বড্ড অসহায়। যার স্ত্রী বিছানায় মৃত্যুর প্রহার গুনছে টাকার অভাবে অপারেশন হচ্ছে না, যার সন্তান ঘুষের টাকা না দেওয়ার অপরাধে চাকরি পায়নি।
    পেনশনের টাকা না পেয়ে দেনায় জর্জরিত হয়ে, না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে , সে কি করতে পারে বল বাবা কি করতে পারে । (কান্না জড়িত কন্ঠে)

    রাতুল : আমার সরকারি চাকরি না হোক সেটা মানতে পারবো কিন্তু ঘুষ দিয়ে আমি চাকরি করতে পারবো না। তাছাড়া বাড়িটা বিক্রি করলে মাথার উপরে ছাউনী টা থাকবে নাা। খাই না খাই অন্তত মাথার উপর ছাউনীটা আছে। মা চান না যে বাড়ি বিক্রির টাকায় তার চিকিৎসা হোক।মা চান তার স্বপ্নের বাড়িতে শুয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে ।
       
    করিম : যা হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নে , কালকে আমার পেনশনের ফাইলটার জন্য মিজান সাহেবের কাছে যাস। টাকাটা পেলে তোর মায়ের চিকিৎসাটা করাতে পারবো , ডাক্তার ৩ সপ্তাহ সময় দিয়েছিল সেটাও শেষ হয়ে গেছে।

    রাতুল : আব্বা আসার সময় মুদি দোকানদার বকেয়া টাকা দেওয়ার জন্য বলেছে, বকেয়া টাকা না দিলে ——– ।
    করিম : বাকি দিতে পারবে না এই তো।কাল বাজার না করলে খাওয়া হবে না । তোর মায়েরে ওষুধ আনতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

    রাতুল : আর কত দিনে এই ভাবে চলবে আব্বা!

    করিম  : পেনশনের টাকা পাওয়ার আশায় হাতের পাঁচ যা ছিল সব শেষ, সামনে কিভাবে চলবো জানিনা। এক কাজ কর এই আংটিটা নে (আংটি খুলে দেবে) এটা বিক্রি করে মুদি দোকানের বকেয়া শোধ করবি বাকি টাকা দিয়ে বাজার করবি।

    রাতুল  : শুনেছি এটা তোমার বিয়ের আংটি শেষ পর্যন্ত এটাও বিক্রি করতে হবে।

    করিম  : কি আর করা , বাস্তবতার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে ফেরার উপায় নেই।  Cut to

    দৃশ্য।।৯।। দিন ।। বাড়িরগেট । আউটডোর
    [ফ্রেমে দেখা যায় শফিক সাহেব সেজেগুজ অফিসে যাচ্ছেন]cut to

    দৃশ্য।। ১০।। রাত ।। রুম ।। ইনটডোর
    [ফ্রেমে দেখা যায় রকি মোবাইল চ্যাট করছে ]
    cut to

    দৃশ্য।। ১১।। দিন।। প্রিন্সিপালের রুম ।। ইনডোর
    চরিত্র: লাবু  প্রিন্সিপাল ও অন্যান্য স্যার
    [ফ্রেমে দেখা যায় প্রিন্সিপাল তার রুমে অন্যান্য স্যারদের সঙ্গে কথা বলছেন,  লাবু প্রিন্সিপালের রুমে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করবে]

    লাবু         :  আসতে পারি স্যার?

    প্রিন্সিপাল: ও হ্যাঁ এসো ভিতরে এসো, (লাবু এগিয়ে আসে)
    লাবু         : আসসালামুআলাইকুম স্যার।
    প্রিন্সিপাল : ওয়ালাইকুমাসালাম,
    লাবু         : স্যার আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন!
    প্রিন্সিপাল : হ্যাঁ, এতক্ষণ তোমার কথাই হচ্ছিল। আমরা কলেজ থেকে মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের বিদেশে স্কলারশিপের জন্য  নাম পাঠিয়েছিলাম। আমাদের কলেজের মেধার  ভিত্তিতে একজনই চান্স পেয়েছে আর সেটা হচ্ছে তুমি ।
    সকলে   : তুমি ভাগ্যবান , আর আমরা গর্বিত।
    লাবু        : আবেগে আপ্লুত হয়ে কি বলছেন স্যার আ– আ –আমি ।

    প্রিন্সিপাল : হ্যাঁ তুমি, এই নাও তোমার প্রাথমিক কনফার্মেশন লেটার এখানে সকল নিয়মকানুন লেখা আছে সেই মোতাবেক তুমি কাগজপত্র রেডি করবে এবং কয়েক দিনের মধ্যে জমা দেবে আমরা কলেজের পক্ষ থেকে  সহযোগিতা করব।
    [লাবু প্রিন্সিপালের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করবে অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে এসে বুকে জড়িয়ে ধরবে]
    Cut to

    দৃশ্য।। ১২।। দিন।।  রুম ।। ইনডোর
    চরিত্র: লাবু , রহিম
    [ফ্রেমে দেখা যায় লাবু ও তার পিতা রহিম মুখোমুখি বসে আছে। পিতা বেশ চিন্তিত]

    রহিম    :  তুমি যে বিদেশে লেখাপড়া করতে যাবি, কিন্তু আমরা তো এখন গরিব মানুষ কি করে তরে বিদেশে  পাঠাবো ?
    লাবু        : আব্বা শোনো তোমার এতো চিন্তা করতে হবে না । আমি তো লেখাপড়ার জন্য স্কলারশিপ পেয়েছি। ওখানে গিয়ে আমি লেখাপড়া করব সব খরচ‌ ঐ দেশের সরকারের। পাশাপাশি আমি জব করতে পারব।
    রহিম    : আমি তো জানি , লাখ লাখ টাকা খরচ করে মানুষ বিদেশে যায়, বাপের জমি জায়গা বিক্রি করে, আমার তো তেমন কিছু নেই। আর যা ছিল তা তোর মার অসুখের পিছনে সেগুলো তো বিক্রি করে, তোর মার চিকিৎসা  করেছি। শেষ পর্যন্ত তোর মা কে বাঁচাতে পারলাম না। (দীর্ঘশ্বাস ছাড়বে)
    লাবু      :  তবে এটুকু সান্ত্বনা যে আমরা মাকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করেছি। হয়তো আমাদের সাময়িক কষ্ট হয়েছে। এ কষ্ট আর থাকবে না আব্বা আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি তোমার জন্য ওই দেশ থেকে টাকা পাঠাবো। আমাদের কষ্ট আর থাকবে না।
    রহিম       : তোর মা সব সময় বলতো আমার ছেলে লেখাপড়া শিখে মস্ত বড় অফিসার হবে আজ তোর মায়ের সেই আশা পূরণ হয়েছে কিন্তু দুর্ভাগ্য যে তোর মা তোরই উন্নতিটা দেখে যেতে পারল না।
    লাবু     : দুঃখ করো না আসলে জীবন মৃত্যু সবই তো আল্লাহর হাতে এখানে তোমার আমার কিছুই করার নেই তবু তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে হবে। আব্বা তাহলে আমি এখন উঠি কারণ শফিক আঙ্কেল দেখলে তোমাকে বকাবকি করবে তিনি চান না যে আমি এ বাড়িতে আসি।  (প্রস্তান)

    দৃশ্য।। ১৩।। দিন।। নির্জন স্থান ।। আউটডোর
    চরিত্র: লাবু , ঋতু, লাবণ্য
    [ফ্রেমে দেখা যায় ঋতু ও লাবণ্য গল্প করছে লাবু অন্যপাশ দিয়ে হেঁটে আসছে, সামনে আসবে একে অপরের সাথে কথা বলবে]

    লাবণ্য  : পরীক্ষার প্রিপারেশন কেমন নিয়েছিস?
    ঋতু     : তা বেশ ভালই এ প্লাস তো অবশ্যই পাবো। তোর প্রিপারেশন কেমন?
    লাবণ্য   : আমিও ভালোই পড়েছি আমিও এ প্লাস পাব। ইন্টার পাশ করার পর কি আর কি পড়বি ?
    ঋতু     : সমাজবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়ার ইচ্ছা আছে।
    লাবণ্য      : ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবি না?
    ঋতু        :  সবাই যদি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হয় তাহলে রোগী হবে কে ? ব্যবসা-বাণিজ্য সমাজ উন্নয়ন করবে কারা!
    লাবণ্য   :  তোর সাথে কথায় পারবো না বাবা। আচ্ছা তোর সেই মনের মানুষের খবর কি বলতো?
    ঋতু         : আমার মনের মানুষ আমার মন বোঝেনা অসুবিধা নাই আমি চাই সে বড় হোক উন্নতি করুক তারপর সরাসরি বিয়ে। (দুজনে হেসে ওঠে হাসি আটকে যায় লাবুকে দেখে)
    লাবণ্য     : ওই যে বাবাদ অনেকদিন বাজবে বলতে বলতেই আসামি হাজির আমি তালি গেলাম তুই কথা বল (লাবণ্যের প্রস্থান)
    ঋতু       : কেমন ছিলেন?
    লাবু      :  ভালো, একটা খুশির সংবাদ আছে, আমি অস্ট্রেলিয়ায় স্কলারশিপ পেয়েছি।
    ঋতু       : (আনন্দে) এত সৌভাগ্যের ব্যাপার। সকল চাওয়া পাওয়া একসাথে পূরণ হবে এবার।
    লাবু       : সে তো হতেই হবে। চেষ্টা করলে সফলতা আসবেই।
    ঋতু       :  খুশির সংবাদ শুনে মিষ্টি খাওয়াতে হয় কিন্তু কিভাবে খাওয়াবো আশেপাশে তো কোন মিষ্টির দোকান নেই। 
    লাবু        : সমস্যা নেই, মঙ্গল কামনা করলেই হবে।
    ঋতু         : সে কথা কি বলতে হয়! (ঋতু হাত থেকে চুড়ি খুলে লাবুকে দেবে) এটা নিন আপনার জন্য সব সময় আমার শুভকামনা থাকবে।
    লাবু        : কি ছেলেমানুষি করছো এসব! কি করবো চুড়ি দিয়ে?
    ঋতু       :  ছেলে মানুষ হচ্ছেন আপনি বাইরে যাবেন অনেক কাগজপত্র রেডি করতে হবে পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে তারপর পোষাকষাক বানাতে হবে টাকা লাগবে না! যাইহোক এখন অনেক সোনার দাম এই ছুড়ি বন্ধক রাখলে অনেক টাকা পাওয়া যাবে দুই ভরির উপরে ওজন আছে লাখ টাকা তো হবেই।
    লাবু      : তোমার মত ঘরে ঘরে যদি সে এমন শুভাকাঙ্খী থাকতো তাহলে সকল বাঁধা বিপত্তি সবার চোখ বুঁজে পার করে দিত।
    ঋতু         : আপনি পৌঁছে আমাকে চিঠি দেবেন। সব সময় ভালো মন্দ সবকিছু জানিয়ে চিঠি লিখবেন। আমি প্রতীক্ষায় থাকবো।
    লাবু         : অবশ্যই । এবার যাই। (লাবু এগিয়ে যাবে ঋতু তার পথে দিকে চেয়ে থাকবে।)
                       Cut to

    দৃশ্য।। ১৪।। দিন।। রুম ।।ইনডোর
    চরিত্র: রকি, শফিক সাহেব
    [ফ্রেমে দেখা যায় শফিক সাহেব চা খাচ্ছে পেপার পড়ছে এর ভিতর রকি প্রবেশ করবে পিতার সাথে কথা বলবে]

    শফিক      :  কি ব্যাপার রকি কোন আবদার আছে নাকি?
    রকি          : আব্বা আমি কিছু একটা করতে চাই?
    শফিক       :  কি করবে শুনি?
    রকি          :  আমি শেয়ার বিজনেস করবো।
    শফিক    : ঠিক আছে ভালো কথা, করো ব্যবসা করো।
    রকি          : আব্বা তার জন্য তো টাকা লাগবে।
    শফিক     : ব্যবসা করবে তুমি আর টাকা দেবো আমি তাহলে হয়!
    রকি          : তুমি টাকা না দিলে আমি টাকা কোথায় পাবো?
    শফিক      : আমার পিতা আমাকে কখনো এভাবে সাহায্য করেনি আমি নিজে নিজে সবকিছু করেছি। আচ্ছা ঠিক আছে যখন বলছ একটা চেক লিখে দিচ্ছি এটা নিয়েই শুরু করো । (একটা চেক লিখে দেয়) না এটা ক্যাশ করে নিও।
    রকি       : আমার উপর ভরসা রাখতে পারো আব্বা আমি ঠিকই উন্নতি করব।( প্রস্থান) Cut to

    দৃশ্য।। ১৫।। দিন।। রাস্তা ।। আউটডোর
    চরিত্র: রেজা , আসলাম, পোস্ট অফিসের পিয়ন
    [ফ্রেমে দেখা যায আসলাম প্রেমের গান গেয়ে হাঁটছে পিছনে পিছনে রেজা  পিয়ন বাড়ির ঠিকানা মিলাতে মিলাতে যাচ্ছে এটা  চোখে পরে রেজা এবং আসলাম পিয়নের কিছু নেয় ]

                ।।  গান ।।
    ও আমার সোনা মনা কচি ময়না
    আমার ঘর আলো করে ছুটে আয় না,
    ও আমার সোনা মনা কচি ময়না।।

    শূন্য আমার বুকের জমিন চাই যে পেতে তোরে,
    এ জনমে না পাইলে তোরে আমি মরে যাব ওরে
    আর কতকাল থাকবি দূরে কাছে ছুটে আয়না
    আমার সোনা মনা কচি ময়না।।

    শূন্য ঘরের কেঁদে কেঁদে রইলাম বন্ধু একা
    কেমন করে পাবো আমি মন বধুয়ার  দেখা
    অন্তর পুড়ে হইলো কালা কষ্ট যে আর প্রাণে সয়না
    ও আমার সোনা মনা কচি ময়না।।

    আসলাম : ওই বেটা তুমি চোরের মত সমস্ত বাড়ির দিকে নজর দিতে যাচ্ছ কেন? ডাকাতি করবা নাকি?
    রেজা     : আলিবাবা চল্লিশ চোরের মত নিশানা করে যাচ্ছে।
    পিয়ন  : না ভাই ওসব না ।আমি হচ্ছি পোস্ট অফিসের পিয়ন। চিঠি বিলি করছি তাই ঠিকানা দেখে দেখে মিলাচ্ছি। আচ্ছা ঋতু আক্তার কেয়ার অফ শফিকুর রহমান কোন বাড়িটা বলুন তো?
    আসলাম : ঋতু আক্তার কেয়ার অফ শফিকুর রহমান। ওই বাড়িটা
    রেজা      : আসলাম ভাই তোমার প্রেমিকেরা তোমার নামে চিঠি যায় না?
    আসলাম : হ্যাঁ ঠিক বলেছিস। ও পিয়ন ভাই তুমি দেখো তো আমার নামে কোন চিঠি আছে কিনা আমি কত মেয়েরে ভালবাসি কিনা।
    পিয়ন   : ঠিক আছে ভাই চিঠি আসলে আমি তোমাকে খুঁজে দিয়ে যাব।
    আসলাম : শোনো পিয়ন সামনের দিন যদি তুমি আমার নামের চিঠি না নিয়ে আসো তাহলে এই পথে গেলে তোমার সব চিঠি কিন্তু আমি রেখে দেবো।
    পিয়ন     : পরে কথা হবে আমি যেটা পৌঁছে দিয়ে আসি। (পিয়ন দ্রুত প্রস্থান করে)
    আসলাম   : দেখলি রেজা বেটা কেমন ভয়ে পালিয়ে গেল । আরে আমি হচ্ছি বিশ্বপ্রেমিক আমার নামে গাদা গাদা চিঠি আসবে। Cut to

    দৃশ্য।।১৬।। বাড়ির বারান্দায়।। দিন।। ইনডোর
    চরিত্র: করিম সাহেব, রাতুল
    [ফ্রেমে দেখা যায়, মিজান সাহেব বারান্দা দিয়ে হেঁটে আসছে রাতুল তার সামনে এসে দাঁড়ায়]

    রাতুল    : স্যার আমার ফাদারের ফাইলটা আজ সই করার কথা ছিল, আপনাকে অফিসে পাইনি তাই—–।
    মিজান  : বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছো। এই ছেলে তোমাকে অফিসের তো সাফ জানিয়ে দিয়েছি। তোমার তোমার পিতা একজন সৎ মানুষ ছিলেন, তাঁর সততাকে সম্মান করি। তাঁর সম্মানের খাতিরে অংকটা অনেক কম বলেছি। যাও ওটার ব্যবস্থা করো ফাইল দৌড়াতে শুরু করবে। আমি না হয় ছেড়ে দেবো কিন্তু বাদ বাকি আরো টেবিল আছে।

    রাতুল    : কিন্তু স্যার আপনি তো সবই জানেন আপনার চাহিদার অংকটা আমার ফাদারের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। আর আমাকে টিউশনির টাকায় চলতে হয়।
    মিজান   :এ্যা টিউশনি টাকায় চলতে হয় যতসব। যাও অংকটা মিলিয়ে আনো, না হলে ফাইলের উপর ধুলোর স্তর জমবে। ধুলো ঝাড়তে টাকার অংকটা আরো বাড়বে।
    রাতুল    : স্যার একটু বুঝতে চেষ্টা করুন আমার মা বিছানা শয্যায় অপারেশন করাতে হবে অর্থভাবে আমাদের——।
    মিজান   : না খেয়ে থাকতে হয়। থাকবেই তো  তোমার পিতাকে বহুবার বুঝিয়েছি, আমার কথা শুনলে পেনশনের টাকার বা নির্ভর করতে হতো না। উনি ওনার আদর্শ থেকে এক চুল পরিমাণ নড়েনি। এখন সততা আর আদর্শের বুলি কোথায় গেল?
    রাতুল   : স্যার ফাইল সই না করা পর্যন্ত আমার ঘরে ফেরা হবে না। প্রয়োজনে আমি আপনার বাড়ির সামনে অনশন করব।
    মিজান  : কি করবে তুমি অনশন করবে পথ আগলে রাখবে। শোন ছোকড়া তোমার আচরণে আমি কিন্তু পুলিশ ডাকতে বাধ্য হবো। অভিযোগ করবো তুমি সরকারি কাজে বাধা দিচ্ছো।
    রাতুল   : আমিও চাই আপনি পুলিশ ডাকুন । আমার কাছে আপনার সমস্ত কথা রেকর্ড আছে এই যে এই মোবাইল ফোনে আমি সব গোপনে রেকর্ড করেছি। প্রয়োজনে দুদকের কাছে জমা দেবো।
    মিজান   : তুমি আমাকে হুমকি দিচ্ছো, ব্ল্যাকমেইলিং করছো, তোমার জানোো না আমার হাত কতদূর লম্বা। যাও অংকটা মিলিয়ে আনো ফাইলটা দৌড়োবে। যাও না হলে দারোয়ান দিয়ে –না থাক। যাও । (প্রস্তান)
    রাতুল  : স্যার স্যার
    মিজান: রহিম ছোকরাটাকে বের করে গেটে তালা লাগিয়ে দাও।
    রাতুল   : দারোয়ান কে ডাকতে হবে না আমি নিজেই চলে যাচ্ছি, তবে আমি আবার আসবো। ফাইল তো আপনাকে সই করতেই হবে স্যার।cut to

    চলবে

    2
    1 Comment

Abul Hasan Tuhen

Friends

Skip to toolbar