Profile Photo

Pritam BiswasOffline

  • Pritam-Biswas
  • Profile picture of Pritam Biswas

    Pritam Biswas

    1 year, 6 months ago

    শূন্য পৃথিবী
    প্রীতম বিশ্বাস

    পরমাণু যুদ্ধের পর পৃথিবী যেন মরণের রাজ্য। শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া সূর্যের আলোকে আটকে দিয়েছে। মৃত নদী আর উষর জমি বেঁচে থাকা মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন নিয়ে এসেছে—“এখানে কি আর কখনো জীবন ফিরবে?”

    পৃথিবীতে বেঁচে থাকা মানুষগুলো ছোট ছোট দলে বিভক্ত। খাদ্যের অভাব, তেজস্ক্রিয়তা, এবং অজানা শত্রুর ভয় তাদের প্রতিদিন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

    তবে বেঁচে থাকার স্বপ্নে কিছু মানুষ এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রীতম, একজন মেধাবী বিজ্ঞানী, এই যুদ্ধের আগেও মহাকাশ গবেষণায় কাজ করতেন। তার লক্ষ্য একটাই—মানুষকে নিয়ে মঙ্গলে একটি নতুন বসতি স্থাপন করা। তিনি জানেন, পৃথিবীতে আর ফেরার কোনো আশা নেই।

    মহাকাশযাত্রার পরিকল্পনা

    এক সন্ধ্যায়, ধ্বংসপ্রাপ্ত এক গবেষণা কেন্দ্রে প্রীতম তার দলকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন।

    প্রীতম:
    “আমাদের হাতে আর বেশি সময় নেই। মহাকাশযানের শেষ অংশটুকু তৈরি করতে হবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে। মঙ্গলে বসতি গড়াই এখন আমাদের একমাত্র আশা।”

    জেরিন: (চিন্তিত স্বরে)
    “তবে প্রীতম, জন্তুগুলো দিন দিন আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। শেষ অভিযানে তো আমাদের তিনজনকে হারিয়েছি। এই তেজস্ক্রিয় প্রাণীগুলো কেমন যেন বুদ্ধিমান হয়ে উঠছে।”

    আবিদ: (প্রীতমের সহকারী)
    “জেরিন ঠিক বলেছে। ওরা যেন আমাদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপ আগেই আন্দাজ করতে পারে। কিছু একটা করতে হবে।”

    প্রীতম গভীরভাবে চিন্তা করলেন। পৃথিবী এখন শুধুই ধ্বংস আর মৃত্যু। কিন্তু এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য তাকে একটা পথ খুঁজে পেতেই হবে।

    অজানা শত্রুর আবির্ভাব

    পৃথিবীর তেজস্ক্রিয় মাটি থেকে উদ্ভূত হয়েছে ভয়ংকর সব প্রাণী—বিকৃত মাকড়সা, সাপ, এবং কৃমি। তারা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকে এবং সুযোগ পেলেই শিকার করে।

    এক রাতে, শিবিরে থাকা দলটি হঠাৎ ভূমিকম্পের মতো শব্দ শুনতে পেল। মাটির নিচ থেকে বিশাল এক মাকড়সা বেরিয়ে এল। তার লাল-চোখ জ্বলজ্বল করছে, আর মুখ থেকে বেরোচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া।

    প্রীতম:
    “সবাই সাবধান! আলো জ্বালিয়ে ওটাকে বিভ্রান্ত করো!”

    তবে জন্তুটি সহজে দমানো যায় না। দলের একজন সদস্য ভয় পেয়ে দৌড় দেয়, আর মুহূর্তের মধ্যে জন্তুটি তাকে টেনে মাটির নিচে নিয়ে যায়।

    জেরিন: (চিৎকার করে)
    “না! আমরা এভাবে বাঁচতে পারব না। আমাদের কিছু করতে হবে!”

    জীবনের জন্য লড়াই

    জেরিন গবেষণা করে বুঝতে পারেন যে জন্তুগুলোর মস্তিষ্ক তেজস্ক্রিয় তরঙ্গ দিয়ে পরিচালিত হয়। যদি সেই তরঙ্গকে নষ্ট করা যায়, তবে হয়তো এই জন্তুগুলোর কার্যকারিতা বন্ধ করা যাবে।

    জেরিন:
    “প্রীতম, আমরা যদি এই তরঙ্গের উত্সটাকে ব্লক করতে পারি, তাহলে ওরা হয়তো আর আমাদের আক্রমণ করতে পারবে না। কিন্তু এই কাজ করার জন্য আমাদের সরাসরি ওদের গুহায় ঢুকতে হবে।”

    প্রীতম জানেন যে এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ। কিন্তু অন্য কোনো উপায় নেই।

    শেষ অভিযান

    প্রীতম, জেরিন এবং তাদের ছোট দলটি মাটির নিচে একটি বিশাল গুহার দিকে এগিয়ে যায়। গুহার ভেতরে অন্ধকার, বিষাক্ত ধোঁয়া আর অজানা শত্রুর ভয় তাদের প্রতি পদে তাড়া করে।

    আবিদ:
    “তোমরা কি শব্দ শুনছ? মনে হচ্ছে ওরা আমাদের ঘিরে ফেলেছে।”

    এক বিশাল জন্তু তাদের পথ আটকে দেয়। জন্তুটি দেখতে সাপের মতো, তবে তার চোখগুলো একদম মানুষের মতো—শিকার খোঁজার জন্য প্রস্তুত।

    প্রীতম:
    “যদি আমরা এখানেই থেমে যাই, তবে মঙ্গলে যাওয়ার স্বপ্নটা শেষ হয়ে যাবে। সবাই মিলে এগিয়ে যাও!”

    জেরিন ডিভাইসটি সক্রিয় করেন। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ কেঁপে ওঠে। জন্তুগুলো কাতরাতে শুরু করে এবং একে অপরকে আক্রমণ করে।

    জেরিন:
    “ডিভাইস কাজ করছে! আমরা সফল!”

    মঙ্গলের দিকে যাত্রা

    অবশেষে দলটি মহাকাশযানে উঠে পড়ে। আকাশে রকেটের আগুন ছড়িয়ে যায়, আর পৃথিবী ধীরে ধীরে তাদের দৃষ্টির বাইরে চলে যায়।

    প্রীতম: (চোখ বন্ধ করে)
    “পৃথিবী আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমরা প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম। এবার আমরা তাকে সাথে নিয়ে নতুন জীবন গড়ব।”

    জেরিন প্রীতমের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।
    জেরিন:
    “তোমার এই আশা থেকেই হয়তো আমরা টিকে আছি। মঙ্গলে জীবন শুরু করা কঠিন হবে, কিন্তু আমরা পারব।”

    রকেট এগিয়ে চলল। মানুষ আর প্রকৃতির নতুন যুগ শুরু হতে চলেছে—একটি নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন নিয়ে।

    1
    1 Comment
Skip to toolbar