-
বিরিয়ানি
পান্তা ভাত আর রাতের বাসী তরকারি রেখে ক্ষেতে গেছে মা। সুমাইয়া পাতিলে রাখা এই খাবার দেখে কাদতে বসে গেছে। সে কিছুতেই এখন পান্তা খাবে না। পাশের বাড়ির মাঠে গত রাতে বিরিয়ানি রান্না হয়েছে। চাদের আলো আর কারেন্টের আলোতে থান ইট দিয়ে বিরিয়ানি রাধতে দেখেছে তারা কাল। বিরিয়ানির মাংস কষানো আর তাতে সিদ্ধ চাল দিতে দেখেছে। বিরিয়ানির মশলার গন্ধ তাদের অনেক ভালো লাগছিল। আশা করেছিল তাদেরও খেতে ডাকবে। বরাবর তারা তাদের খেতে ডাকে কিন্তু কাল যেন কি হয়েছে। অনেক লোকজন এসেছে তাদের কেউ ডাকেনি।সুমাইয়ার কান্না শুনে ভাই ইমরান তার খাতার পিছনে ছবি আকতে শুরু করে। দ্রুতই হাতের টানে একটা বক আর মাছের ছবি একে ফেলে। একের পর এক ছবি আকে সে। সুমাইয়া কান্না বন্ধ করে চোখ বড় বড় করে ভাইয়ের আকা ছবি দেখে। ভাই কিভাবে এক টানে বকের ছবি আকে আর কিভাবে ফুলের পাপড়ি আর পাতা আকে তা দেখলে এমনিতেই তার আর খিদে পায়না। মা লেবু বিক্রি করে ভাইকে খাতা কিনে দিয়েছে। ছবি আকতে দেখলে রাগ করবে। কিন্তু সুমাইয়ার কান্না বন্ধ করতে এটাই সবচেয়ে ভালো কাজ দেয়।
“চল, খালে মাছ ধরতে যাই।” ভাই তার অনেক কসরত করে এই খালে ঐ বিলে মাছ ধরে। সেও যায় সাথে। বর্ষাকালে যখন বিলে পানি থাকে তখন অনেক মাছ ধরে তারা। মাঝরাত পর্যন্ত ভাই আর চাচা মাছ মারে। সেই মাছে আলু দিয়ে রান্না করা হয় সালুন। অনেক সময় গভীর রাতে চুলা ধরানো হয়। চাচা খাজা বাবার গান ধরে। গরম ভাতের সঙ্গে মাছের সালুন চাঁদনি পসর রাইতে খাইতে বড় মজা লাগে।
ভাই-বোন অনেক চেষ্টা করেও তেমন কিছু ধরতে পারে না। দুপুর বেলা আবার কোন এক নিরামিষ সালুন খাওয়ার কথা ভেবে সুমাইয়ার মনে ব্যাপক দুঃখ হয়। মা কালকের মতোই লাউ পাতা রান্না করছে। অনেক কষ্টে নিরামিষ লাউ পাতা ভাজি দিয়ে ভাত খায় সে।
বিকেলে ইমরান মেলায় যায়। দোকান থেকে এ ফোর সাইজের অফসেট পেপার আগেই কিনে নিয়েছে সে। মেলার এক প্রান্তে উচু একটা জায়গায় বসে আশেপাশের লোকেদের ছবি আকে সে। প্রথমে ছোটরা পরে বড়রা ঘিরে ধরে তাকে। দ্রুত মানুষের মুখের স্কেচ করে দেয় সে। যে যা পারে তাই তাকে দেয়। শহর থেকে আসা এক মেয়ে তাকে পাচশ টাকার একটি নোট দেয়। গুনে দেখে এগারশ’র মতো টাকা হয়েছে। রানীপুরের বাজারে আজকে মাংস পাওয়া যাবেনা। তার আর তর সয়না। সুজনের মটর সাইকেলে বেতাগী চলে যায় সে। ছাগলের মাংস আর বিরিয়ানির মসলা কিনে রাজার মতো ফিরে আসে বাড়িতে।
রাত তখন আটটা। থান ইট দিয়ে পাতিলে বিরিয়ানি মাংস কষায় চাচা। একটু পরে চাঁদ ওঠে। চাদের এক টুকরো আলো কষানো মাংসের পাতিলে পরে। কলা পাতা কাটতে চায় ইমরান। মা বাধ সাধে। রাতের বেলা গাছের পাতা কাটতে নেই। আরো কিছুক্ষণের পরে বিরিয়ানির সেই সুবাশ সারা বাড়িতে ছড়িয়ে পরে। এই সুবাশই পাগল করে দিয়েছিল সুমাইয়াকে। আজ সে খুব ভালো করে বিরিয়ানির গন্ধ টেনে নেয় বুকে।
1 Comment
Friends
Rokter Sagor
@roktersagor
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Arif
@arif1
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Sharmin
@sharmin1
Zahidul Islam Roni
@roni03

তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 22 December 2024 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!