Profile Photo

Kanej-RoksanaOffline

  • Kanej-Roksana
  • Profile picture of Kanej-Roksana

    Kanej-Roksana

    1 year, 5 months ago

    চারুকলা

    মা ছবি আকতো, আমিও ছবি আকি ছোটবেলা থেকে। বিশেষ করে মা মরে যাওয়ার পরে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যেত ছবি আকতে। আর এখানে এই আইবিএ’তে ভর্তি হওয়ার পরে আমি পিছনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রায়ই তাকিয়ে থাকতাম চারুকলার দিকে। আমার ভীষণ ভালো লাগে ওদের গল্প করা, হাটাহাটি ও ছবি আকা দেখতে।

    বাবা প্রায়ই বিদেশে যায়। তখন আমি একা একা থাকি। একা একা থাকলে আমার বেশি বেশি ছবি আকা হয়। চাচার মেয়ে ঝুম্পা আমার ছবি খুব পছন্দ করে। আমি ঝুম্পাকে পছন্দ করি। দেখি ঝুম্পা সেটা টের পায় কি না। অনেকগুলো ছবি একে আমি ঝুম্পার জন্য রেখেছি। কখনো দেয়া হয় নি। ঝুম্পা যদি আগে আমাকে ভালোবাসার কথা বলে তবে আমি ওকে এগুলো দিব। ঝুম্পা না বললে আমি হয়তো বলতে পারব না।

    আইবিএ’তে আমার ডেস্কে কাগজ, পেন্সিল, আক্রিলিক, জল রংয়ের টিউব আছে। বাবা বিদেশে গেলে আমার জন্য রং নিয়ে আসে। বাবা বরাবরই আমাকে ছবি আকতে উৎসাহ দেয়। মায়ের মৃত্যু’র পরে বাবা আর বিয়ে করেনি। ঘরে প্রায় দিন রান্না করে বাবা। আমি ভেবে রেখেছি এখন থেকে বাবার থেকে দু’একটা পদ রান্না করা শিখব। বাবা এমনভাবে মশল্লাপাতি নিয়ে রান্না করে মনে হয় যেন রং দিয়ে ছবি আকছে।

    সকালে বাবা আমাকে এক কাপ কফি বানিয়ে দিল। কফি খেতে খেতে আমি পুকুরে বৃষ্টি পড়ার একটা ছবি আকছিলাম। বৃষ্টির পানি পুকুরের পানিতে টুপ করে পরে মিলিয়ে যাচ্ছিল। বাতাসে ছোট ছোট বৃত্ত তোইরি হচ্ছে-এসব আঁকছিলাম। একটু পরে বাবার সঙ্গে সকালের খাবার খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলাম।

    ক্লাস হচ্ছিল টানা, দুপুরে ক্যানটিনে খেয়ে আকতে বসলাম। ছবি আকতে আকতে ঘোর লেগে যায়। ভীষণ ভালো লাগছে পুকুরটাকে। এমন একটা শান্ত শ্যাওলা ভরা পুকুর নানী বাড়িতে আছে। নানি আমাকে অনেক ভালোবাসে। প্রায় প্রতিদিন ফোন করে আমার খোঁজ নেয়। নানিকে অনেক মিস করি। এবার ছুটিতে যাব নানির বাড়ি। নানি এখনো আমাকে মুখে তুলে খাওয়ায়। আমি না, না করি। নানি অবশ্য আমার কথা শোনে না। নানি বাড়িতে গেলে আমি একটা কাজ করি। ছিপ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পুকুর ঘাটে বসে থাকি। আমার অবশ্য মাছ ধরার ব্যাপারে উৎসাহ নাই, আমি পুকুরটাকে দেখি। মাঝে মাঝে একা একা বনে বনে ঘুরে বেড়াই। বাচ্চাদের ছবি একে দেই। বাচ্চারা মহা আনন্দে আমার সাথে কিচির মিচির করে।

    পুকুরটার চারপাশে বড় বড় গাছ আঁকছিলাম। নিজে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে আছি নিজের ছবির দিকে। একটু দূরে অভি’রা বল খেলছিল। বলে কে যেন জোরে লাথি মারলো। বলটা গিয়ে পড়লো চারুকলার দেয়ালের ওপাশে। অভি বললো, “এই শাওন বলটা একটু চা তো।” আমি দেয়ালের ওপাশে উঁকি দিলাম। বলটা চারুকলার ক্যান্টিনের পাশ ঘেঁষে পরে আছে। দুইটা ভাইয়া সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ওনাদের কাছে বলটা চাইতেই একজন গজগজ করে উঠলো। খারাপ কিছু বললো। অভি তাড়া লাগালো আমি কিছু না বলে ছবি আকার কাগজটা নিয়ে চলে আসলাম।

    এরপরেও মন খারাপ হলে পিছনের বারান্দা দিয়ে আমি চেয়ে থাকি চারুকলার দিকে। কেমন নির্জন একটা জায়গা। ওখানে নিশ্চয়ই অন্য ভুবনের মানুষেরা থাকে।

    3
    1 Comment
    • হঠাৎ করেই যেন শেষ হয়ে গেলো………পরের অংশের অপেক্ষায় থাকলাম

Friends

Profile Photo
Rokter Sagor
@roktersagor
Profile Photo
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Profile Photo
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Profile Photo
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Profile Photo
Arif
@arif1
Profile Photo
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Profile Photo
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Profile Photo
Sharmin
@sharmin1
Skip to toolbar