Profile Photo

Kanej-RoksanaOffline

  • Kanej-Roksana
  • Profile picture of Kanej-Roksana

    Kanej-Roksana

    1 year, 5 months ago

    মানি’র এডভেঞ্চার

    আজ তিন দিন মানি স্কুলে যায় না। তার গায়ে জ্বর এসেছে। দুই দিন তীব্র জ্বর ছিল। আজ একটু জ্বরটা কমেছে। কিছুই ভালো লাগছে না। মা অফিসে চলে গেছে। মানি কম্পিউটার অন করলো। না, তার ভালো লাগছে না। ব্যালকনিতে একটা চেয়ার নিয়ে গিয়ে বসলো মানি। ব্যালকনিটা অনেক বড়। মা কয়েকটা পাটের শিকের মধ্যে মাটির পটে গাছ লাগিয়েছে। মানি গাছগুলো দেখতে লাগলো। তার গায়ে একটু রোদ পড়েছে। রোদের উষ্ণতাটুকু ভালো লাগলো মানির। জ্বরের পর মাথাটা কেমন হালকা হালকা লাগছে। একটু পরে রিনা আপু মানি’র জন্য বড় এক বাটি নুডুলস নিয়ে আসলো। মানি’র একেবারেই নুডুলস খেতে ইচ্ছে করছে না। নুডুলসের বাটি হাতে নিয়ে বসে থাকলো সে।

    স্কুলে সোশ্যাল সায়েন্স মিস বলেছেন “কারো সঙ্গে কিছু শেয়ার করলে তোমাদের ভালো লাগবে। যেমনঃ ধরো যদি তোমরা একজন আরেকজনের টিফিন শেয়ার করো তোমাদের ভালো লাগবে।” মানি টিফিন পিরিয়ডে খাবার শেয়ার করতে চাইছিল কিন্তু কাউকেই তেমন একটা আগ্রহী দেখা গেল না। এরপর মানি কথাটা নিয়ে অনেক ভেবেছে। মানির কোন ভাই-বোন নেই। কার সঙ্গে কি শেয়ার করবে বুঝতে পারছে না। এখন এই শরীর খারাপের সময় মানি চাইছিল কারো সঙ্গে কিছু শেয়ার করতে। মানিদের ব্যালকনির সামনে অনেককানি জায়গা জুড়ে মাঠ। এই এলাকায় এখনো অনেক বড় বড় ফাঁকা মাঠ আছে। অনেক দূরে কয়েকটা কুকুর রোদে দাঁড়িয়ে খেলছে, কেউ আবার চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। যাবে নাকী মানি! মানি’কে তার মা একা একা ঘরের বাইরে যেতে দেয় না। স্কুলে ড্রাইভার দিয়ে আসে আর কোথাও গেলে মা তার হাত ধরে নিয়ে যায়। মা’কে ছাড়া মানি কখনো বাইরে যেতে পারে না। মানি’র খুব বাইরে যেতে ইচ্ছে করছিল। নিজেকে সে মোটিভেট করলো, “যাও মানি যাও।” রিনা আপু রান্নাঘরে আছে। দারোয়ান চাচা তাকে কিছু বলতে পারে । মানি’র মনে হলো চুপ করে বসে না থেকে এবার সে যেতে পারে। মানির ড্রয়ারে দুই প্যাকেট হরলিক্স বিস্কিট আছে। দুই দিন আগে মামা তার জন্য বিস্কিট এনেছিল। মানি সেগুলো খায়নি।

    মানি হরলিক্স বিস্কিটের প্যাকেট দুটি প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে ও নুডুলসের বাটি নিয়ে আস্তে দরজা খুলে লিফটের বোতামে চাপ দিল। লিফট চলে আসলে মানি হাফ ছেড়ে বাচলো। রিনা আপু দেখলে একশটা কথা বলতো। নিচে নামার পরে দারোয়ান চাচাও তেমন কিছু বললো না। মানি কিছুক্ষণ হেটে কুকুরগুলোর কাছে গিয়ে দাড়ালো। কুকুরগুলো তার হাতের খাবারের গন্ধ পেয়ে ছুটে আসলো তার দিকে। মানি নুডুলস মাঠে ঢেলে দেওয়ার পরে কুকুরদের মধ্যে হুড়োহুড়ি করে খাওয়া শুরু হয়ে গেল। ততোক্ষণে বিস্কিটের একটা প্যাকেট খুলে তাদের দিকে বিস্কিট ছুড়ে দিতে লাগলো। এক প্যাকেট বিস্কিট খেতে কুকুরদের দুই মিনিটও লাগলো না। মানি অন্য প্যাকেটটিও খুলে কুকুরদের বিস্কিট দিল। এখন কুকুরগুলো আস্তে আস্তে খাচ্ছে। দ্বিতীয় প্যাকেট শেষ হওয়ার পরেও মানির ইচ্ছে করছিল ওদের আরো কিছু খাবার দিতে। মানি’র খুব ভালো লাগছে।

    মানি’র ড্রয়ারে একশ টাকার একটি নোট আছে। নানু তাকে অনেক দিন আগে দিয়েছিল। মানি বাসার দিকে রওয়ানা হলে কুকুরগুলো তার পিছু নিল। মানি আস্তে করে দরজা খুলে ঘরে ঢুকলো। রিনা আপু কিছু টের পায়নি মনে হয়। মানি টাকাটা নিয়ে বেরিয়ে গেল। কুকুরগুলো তার সামনে সামনে দৌড়াচ্ছে। মানি মাঠের পাশের রাস্তার অপজিটে দোকানে গেল। দোকানদার মানি’কে দেখে হাসলো। অনেকক্ষণ থেকে তিনি মানি’র কাজকর্ম দেখছিলেন। আরো চার প্যাকেট বিস্কিট কিনে মানি কুকুরদের খাওয়ালো। মানি’র মন ভালো হয়ে গেল। দোকানের ককর্মচারী ছেলেটির গায়ে কোন শীতের পোশাক নেই। পায়ে একটা সাধারণ স্যান্ডেল। মানি’র খুব ইচ্ছে হলো ছেলেটিকে তার একটি পুরানো জ্যাকেট আর একজোড়া কেডস দিতে। কে কী ভাববে সেসব ভেবে মানি খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো। দোকানদার যদি কিছু বলে! মা যদি শুনে ফেলে এসব ভেবে মানি কোন ডিসিশান নিতে পারছিল না। তারপরেও সে ভাবলো এক ফাঁকে সে ছেলেটিকে জ্যাকেট আর কেডস দিয়ে যাবে। ওগুলোতো পরেই আছে।

    5
    2 Comments

Friends

Profile Photo
Rokter Sagor
@roktersagor
Profile Photo
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Profile Photo
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Profile Photo
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Profile Photo
Arif
@arif1
Profile Photo
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Profile Photo
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Profile Photo
Sharmin
@sharmin1
Skip to toolbar