Profile Photo

Kanej-RoksanaOffline

  • Kanej-Roksana
  • Profile picture of Kanej-Roksana

    Kanej-Roksana

    1 year, 3 months ago

    শান্তা

    ছেলেকে চুমু খেয়ে স্কুলে ঢুকিয়ে দিয়ে রিক্সা নিয়ে ইকবাল রোডের দিকে যাই। ইকবাল রোড এখন আর আগের মতো নেই। চারদিকে বিশাল সব বহুতল ভবন। শুধু শান্তাদের বাড়িটা আছে আগের মতো।
    একতলা বাড়িটার সামনে একটা আম গাছ শান দিয়ে বাধানো। এই গ্রীষ্মে সেই গাছে অনেক আম এসেছে। শান্তা বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। বিয়ের পরেও বাবার পুরানো বাড়িতে থাকে।

    শান্তার কথা খুব মনে পড়ছে গত কিছুদিন ধরে। শান্তা আর আমি চারুকলায় একসঙ্গে পড়তাম আবার ইকবাল রোডে পাশাপাশি থাকতাম। শান্তা সহজ সরল মেয়ে। আমাকে অনেক ভালোবাসতো আমিও তাকে ভালোবাসতাম। শান্তা আমাদের বাসায় আসতো। আমি ওকে কাপড় খুলে দেখতাম কিন্তু কখনো কিছু করতাম না। বিয়ের আগে কিছু করা যাবে না শান্তার নিষেধ ছিল। ওর কথা শুনতাম। অনেক ভালো যাচ্ছিল দিনগুলো।

    শান্তার বাবার কাছে আমার বন্ধু রিহান প্রস্তাব তুলেছিল। শান্তার বাবা আমাদের নিয়ে বসলেন। বুঝিয়ে বললেন যে তার মেয়ে অনেক সহজ সরল, সেজন্য সমবয়সী ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেবেন না। এর কিছুদিন বাদে রঞ্জনা আমাকে বোঝালো যে ও বাড়িতে নারকীয় পরিবেশে আছে। আমি ওকে বিয়ে করলে ও এই পরিবেশ থেকে বের হয়ে আসতে পারে। রঞ্জনার বাবা মা খুব ঝগড়া করতো। রঞ্জনার মা কাজ করতে চাইতো না একদম। রঞ্জনার বাবা সকালে বাজার করে রান্না করে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে অফিসে যেতো।
    অফিস থেকে ফিরলে পরে রঞ্জনাদের বাসায় তুমুল ঝগড়া শুরু হয়ে যেত। পাড়ার সবাই জানতো রঞ্জনাদের বাসায় আবার শুরু হয়ে গেছে। আমি রঞ্জনাকে উদ্ধার করতে চাইলাম। রঞ্জনার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়ে গেল।

    আমার সঙ্গে রঞ্জনার বিয়ের কথা শুনে শান্তা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে অনেক দিন হসপিটালে ছিল। ধীরে ধীরে আমার সংসারে সেই নারকীয় পরিবেশ শুরু হয়ে গেল।

    হঠাৎ হঠাৎ অনেক দিন পরে শান্তার কথা মনে পড়ে। ওকে দেখার জন্য উতলা হয়ে উঠি । তখন শান্তাকে দেখার জন্য ঘন্টার পরে ঘন্টা ইকবাল রোডে দাঁড়িয়ে থাকি। চায়ের দোকানে চা খাই। রাস্তায় হাটতে থাকি। চাইলে ওদের বাসায় যাওয়া যায়। কিন্তু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগে। শান্তা মাঝে মাঝে বাইরে যাওয়ার জন্য বাইরে বেড়িয়ে আসে। এগিয়ে এসে দুই একটা কথা বলি। পরম মমতায় শান্তার দিকে চোখ তুলে তাকাই। তারপর বাসায় ফিরে আসি।

    4
    1 Comment
    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 27 February 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Friends

Profile Photo
Rokter Sagor
@roktersagor
Profile Photo
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Profile Photo
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Profile Photo
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Profile Photo
Arif
@arif1
Profile Photo
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Profile Photo
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Profile Photo
Sharmin
@sharmin1
Skip to toolbar