-
🖤মাতৃভাষার কাঠগড়া🖤
( জান্নাতুল ফেরদৌসী )
~~~~~~~~~~~~~~~০~~~~~~~~~~~~~~*বিচারের দিন:
আজ শহীদ মিনারের সামনে এক অদ্ভুত বিচার বসেছে,
একজন যুবক দাঁড়িয়ে আছে কাঠগড়ায়—
তার অপরাধ?
সে বাংলা ভুল বলে,
বাংলা ভুল লিখে,
আর কখনো কখনো ইংরেজিতে পোস্ট দেয়!
তার চোখেমুখে বিস্ময়,
কেন সে আজ দোষী?নির্বিকার বিচারক বলেন,
“তোমার মাতৃভাষা যেখানে রক্ত দিয়ে কেনা,
সেখানে তুমি অন্য ভাষার গর্ব করো!
বাংলায় ভুল করো!
তোমার শাস্তি হবে!”*অভিযুক্তের জবানবন্দি:
যুবক বিস্ময়ে কাঁপে,
তার ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে বলে,
“আমি তো চেষ্টা করি, বিচারক মহোদয়,
আমার বাবা-দাদারা গ্রামে কথা বলত শুদ্ধ বাংলায়,
আমি বড় হয়েছি শহরে,
আমার চারপাশে ছিল বিদেশি ভাষার দেয়াল।
আমার বইয়ের মলাটে বাংলা ছিল,
কিন্তু আমার স্বপ্নগুলো লেখা ছিল ইংরেজিতে।
আমাকে স্কুলে শিখিয়েছে,
বাংলা ভালোবাসো, কিন্তু ইংরেজি জানলেই তুমি বড় হবে!
শিক্ষকরা বলেছেন,
‘বাংলায় ভাবো, কিন্তু লিখো ইংরেজিতে,
নাহলে এগোতে পারবে না!'”*বিচারকের প্রশ্ন:
বিচারক কটমট করে তাকিয়ে বলেন,
“তুমি তাহলে দোষ স্বীকার করছ?
তুমি কি মানো না, মাতৃভাষা হলো আত্মার ভাষা?
তুমি কি ভুলে গেছ,
রক্তে কেনা ভাষার মর্যাদা রাখতে হবে?”*আত্মপক্ষ সমর্থন:
যুবকের চোখ ছলছল করে ওঠে,
সে বলে,
“আমি কী করব, বিচারক?
আমার অফিসে বাংলায় ই-মেইল লেখা মানা,
আমার চাকরির বিজ্ঞাপনে বলা হয়—
‘ফ্লুয়েন্ট ইংলিশ স্পিকার ও রাইটার প্রয়োজন!’
আমার মা-বাবা আমাকে শিখিয়েছেন,
জীবনে বড় হতে চাইলে বিদেশি ভাষা জানতেই হবে!
আমার সন্তানকে আমি বাংলা শেখাতে চাই,
কিন্তু তার স্কুল বলে,
বাংলায় বেশি কথা বললে সে পিছিয়ে পড়বে!
বলুন, বিচারক,
আমি দোষী নাকি আমার সমাজ?”*নিরব আদালত:
কাঠগড়ার সামনে ভিড় করা মানুষ স্তব্ধ।
তারা চোখ নামিয়ে ফেলে।
তাদের সন্তানও তো ইংরেজিতে স্বপ্ন দেখে,
তাদের অফিসেও বাংলার জায়গা নেই।
তারা কি মুখ তুলে বিচারকের চোখে চোখ রাখতে পারবে?বিচারক দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।
তারও মেয়ে বিদেশে পড়তে গিয়ে বাংলায় কথা বলা ভুলে গেছে,
তার নাতি বাংলায় কথা বলতে চায় না!
তিনি কি সত্যিই শাস্তি দেবেন?*ফয়সালা:
বিচারক বললেন,
“আমরা সবাই দোষী,
আমাদের ভাষা রক্তে কেনা,
কিন্তু আমরা তাকে ভালোবাসতে শিখিনি।
আমরা ভাষাকে শুদ্ধ করতে চাই,
কিন্তু ভাষার প্রতি ভালোবাসা শেখাইনি।
আমাদের সন্তানদের বলেছি,
বাংলা হৃদয়ে রেখো,
কিন্তু পেটে চাল আনতে ইংরেজি শিখো!
এই বিচারের কাঠগড়ায় শুধু এক যুবক নয়,
আমরা সবাই দাঁড়িয়ে আছি।
আমরা সবাই দোষী!”**মৃত্যু না পুনর্জন্ম?:
আজ শহীদ মিনারের সামনে এক অদ্ভুত বিচার বসেছিল।
কিন্তু শাস্তি হয়নি,
শুধু এক নতুন শপথ নেওয়া হলো—
বাংলাকে ভালোবাসব, শুদ্ধভাবে বলব, শুদ্ধভাবে লিখব,
অন্য ভাষা শিখব, কিন্তু বাংলাকে ছোট করব না!তবে কি মাতৃভাষার নতুন জন্ম হলো?
নাকি এটাও শুধু একটা প্রতিশ্রুতির ফানুস?…✍️2 Comments-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 01 March 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
শিষ্টাচার:
সদাচার-সাধুবাদ যাবে সব ধুয়ে, রবে শুধু শিষ্টাচার, দিয়েছি যাদের মাঝে !
সদাচার-সাধুবাদ যাবে সব ধুয়ে, রবে শুধু শিষ্টাচার, দিয়েছি যাদের মাঝে !

Jannatul ferdausi
Daulatpur,Khulna
♠♣♥♦♣♠জান্নাতুল ফেরদৌসী ১৯৮২ সালের ১৯ জানুয়ারি, যশোর জেলার ছাতিয়ান তলায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহন।
শিক্ষাগতযোগ্যতাঃ এম,এ.(বাংলা) এম,এড ।
২০০০ সালে সাঁকো প্রকাশনি থেকে “কবি”হিসেবে স্বীকৃতি লাভ । ২০২২ সালে নবসাহিত্য প্রকাশনী থেকে ‘কবি সম্মাননা’-স্বরূপ সনদ এবং ক্রেস্ট গ্রহন । পেশায় একজন শিক্ষক (GPS)। যৌথভাবে প্রকাশিত বইয়ের নাম“বনফুলের সন্ধানে,,নতুন তার মিছিলে,,উদীয়মান কবি,দহনের কাব্য, কবিতায় সাতকাহ,কাব্য ফেরি,ধান শালিকের কাব্য,শব্দ শ্রমিকের কাব্য,চায়ের ধোঁয়ায় তোমাকে খুঁজি,কেউ ভালোবাসেনি,কবি কন্ঠ, রাত_তখন_বারোটা দুই (ভৌতিক)"। একক বই-"আমিত্ব","বুনট","ছায়ামানব", ''উপদেশে উপলব্ধি'', ''ধোঁয়াশা'', ''আড়াল'',সময়ের মুখোশ।
ই-মেইলঃ [email protected]
Friends
Nahar moyna
@moyna
ABDUL KADIM SHAHED
@abdulkadimshahed
জে এস এম অনিক
@00anik
মাজেদুল হক
@birohikobi
এফ. আর. মাহদী
@frmahedi
স্নিগ্ধ ধূম্রাক্ষর---
@subaiya-aymaan
হেমায়েত হোসেন হিমু
@himu68hgmail-com
মামুনুর রশিদ
@mamun01722525933gmail-com
তাহমিনা মোরশেদ
@rbtm796923t


বাংলাকে ভালোবাসব, শুদ্ধভাবে বলব, শুদ্ধভাবে লিখব,
অন্য ভাষা শিখব, কিন্তু বাংলাকে ছোট করব না!………………………এই শপথ বাস্তবায়িত হোক।