Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • Profile picture of রাহেনা বেগম

    রাহেনা বেগম

    1 year, 1 month ago

    অপলার মামার বই, মনে হয় নামটা “মন্দ্রসপ্তক” পড়ে আমি গভীর রাতে (লেখাপড়া শেষ করে) হিঃ হিঃ করে হাসছিলাম। পাশের রুম থেকে আম্মা উঠে এসে জানতে চাইলেন আমি এত রাতে কেন হাসছি? আম্মাকে উত্তর পর্যন্ত দিতে পারছিলাম না। হিঃ হিঃ, হিঃ হিঃ করে হেসেই যাচ্ছি। আম্মা রাগ করে চলে যেতে যেতে বলেছিলেন – “কি লিখে লোকটা? যেটা পড়ে তুই রাত দুপুরে হিঃ হিঃ করে হাসিস?”

    বই-এ লিখা ছিলো – ভাই তার বোনের ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করেছে। ভাই প্রায়ই এই কাজ করে। কারণ ভাই মনে রাখতে পারে না কোনটা তার ব্রাশ, আর কোনটা তার বোনের ব্রাশ। একদিন বোন এটা বুঝে ভাইয়ের সাথে গন্ডগোল শুরু করে। আর তার সাথে কান্নাকাটি করে শেষ। এ রকম ঘটনা মাঝে মাঝে আমারও ঘটে।

    যাই হোক, গল্পটা আমি ঠিক মত গুছিয়ে লিখতে পারলামনা। তাই হয়তো কারো হাসি আসছেনা। না আসুক আমিতো কাউকে হাসানোর জন্য লিখছিনা। আমি অন্য কারণে লিখছি। কারণটা হলো আমিও গত রাতে ঠিক এই কাজ করেছি। এ রকম ঘটনা মাঝে মাঝে আমারও ঘটে। আগে এরকম ঘটনা ঘটলে আমি সারারাত ধরে বমি করতাম। পারলে মুখের মধ্যে লবণ- গরম পানি দিয়ে, পারলে……… দিয়ে পরিষ্কার করতাম। কিন্তু আমি আসলেই এখন “Senior Citizen” এর দলে চলে গেছি। তাই চুপচাপ হজম করে থেকে গেলাম। (আমার ভাই ও বোনের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেরা প্রায় বলে তারা নাকি Senior Citizen-দের জন্য Facebook-এ শান্তি মত ঢুকতে পারে না)।

    আমি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠি। উঠেই দুই চুলার ১টাতে চা-এর পানি অন্যটাতে রুটি সিদ্ধ করার পানি তুলে দেই। পরবর্তীতে দেখা যায়, রুটির পানিতে চা- পাতা, আর চা-এর পানির মধ্যে আটা দিয়ে দিয়েছি।
    এছাড়াও আমার দুই পুত্র – রেহান, রোহান দু’জন ঝগড়া করে নালিশ নিয়ে এলো আমার কাছে। দেখা গেল আমি যে দোষ করেছে তাকে না বকে অন্য জনকে বকা দিচ্ছি। তখন সে বলে- আম্মু আমি রোহান, তুমিতো রেহানকে বকা দিবে। এই হলো আমার ইদানিং কালের অবস্থা। কিন্তু আমি যখন ক্লায়েন্ট-এর সাথে সেশনে বসি, তখন তার সবকিছুই আমার মনে থাকে। ৬ মাস পরে ক্লায়েন্ট আসলেও আমি তার History না দেখেই সব বলতে পারি।

    ক্লায়েন্ট যখন সেশন শেষে বলে – ম্যাডাম, আমি যে হাসতে পারি এটাই ভুলে গিয়েছিলাম, আপনি আবার আমাকে হাসতে শেখালেন। এই প্রাপ্তির কাছে বাঁকি সব মিথ্যা মনে হয়।

    ধন্য আমার জীবন, আমি পরিপূর্ণ প্রাপ্তিতে।
    ২৯/০৪/২০১৯

    6
    5 Comments
    • আমিও প্রায় সিনিয়র সিটিজেনের তালিকায় চলে আসছি। আপনার সাথে তাই রিলেট করতে পারছি। ভালো লাগলো, আমার মতও আরও অনেকে এধরনের কাজ কারবার করে।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 01 May 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Skip to toolbar