Profile Photo

Kanej-RoksanaOffline

  • Kanej-Roksana
  • Profile picture of Kanej-Roksana

    Kanej-Roksana

    • 1 year, 5 months ago

    গল্প
    অভিরুচি সিনেমা হল থেকে বের হয়ে অনেক্ক্ষণ হাটলাম। সবুজ সিগারেটের জন্য উশখুশ করছিল। আমার অতো নেশা চড়েনি। আমার ভালো লাগছিল বরিশালের পুরানো বাড়িগুলো দেখতে। একেকটা বাড়ি সুচিত্রা সেনের মতো অভিজাত কিন্তু অনেক পুরানো যাকে বলে জীর্ণ। তাও তাদের এককালীন আভিজাত্য দেখার মতো। এসব বাড়ির সামনে আমার একটু দাঁড়াতে ইচ্ছে করে। রাতের বরিশাল হেটে হেটে দেখতে ইচ্ছে করে। যেমন আমি বাংলা সিনেমা আগ্রহ নিয়ে দেখি। বাংলা সিনেমা বরাবরই আমি আগ্রহ নিয়ে দেখি। এবার বরিশাল এসেও তাই হলে গেলাম। সবুজ অবশ্য যেতে চাচ্ছিল না। আমিই ওকে টেনে নিয়ে গেছিলাম। সবুজ একটা দোকানও খোলা পেল না। মুন্সির গ্যারেজের পরেই ওদের বাসা। আমি একা একা আস্তে ধীরে যাচ্ছি। পুরানো প্রাইমারি স্কুলটার সামনে দেখলাম একটা কুকুর কু কু করছে। কুকুরটার দিকে এগিয়ে গেলাম। কুকুরটাকে মনে হয় কেউ মেরেছে। ব্যাথায় কু কু করে অভিযোগ জানাচ্ছে। আমি কাছে গিয়ে একটু হাত বুলালাম। কুকুরটা আমার হাতের ছোয়ায় একটু আশ্বস্ত হলো। ছেড়ে চলে আসব তখন এমনভাবে তাকালো যে আমার অনেক মায়া লাগলো। একটা রিকশা ডেকে কুকুরটাকে রিকশায় তুললাম। রিকশায় উঠে কুকুরটাকে জড়িয়ে ধরে বসতেই মনে পড়লো আব্বা আমাকে পান নিয়ে যেতে বলেছিল। আব্বা মাঝে মঝে পান খায় তার দাত ও জিহ্বা টুকটুকে লাল হয়ে যায় দেখতে আমার ভালো লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রিকশা এসে বাসার সামনে দাঁড়ালো। আমি কুকুরটাকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে ভাড়া দিলাম। কুকুর কোলে বাসার সামনে গিয়ে বসলাম। দরজার কড়া নাড়তেই আব্বা দরজা খুলে দিলেন। আব্বা বেশ হাসি হাসি মুখ নিয়ে কুকুরটাকে দেখলেন। আমার স্বভাব অনেকটাই আব্বার মতোন। তাই অবাক হলেন না। আস্তে আস্তে আমার তিন বোন এসে দাড়ালো। সবার ছোট সুমন কুকুরটার কী হয়েছে জিজ্ঞেস করলো।

    আমি জানি না। এতো রাতে পশু হাসপাতাল খোলা নাই মনে হয়। এখন গরম কিছু খাওয়ায়ে ঘুমের ঔষধ দেব।
    কুকুরের ঘুমের ঔষধ কী তুমি কী তা জানো?
    আমি না সূচক মাথা নাড়ালাম।
    বাড়িওয়ালার বড় মেয়ে ডলি দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে আমাদের। বাড়িওয়ালারা আমাদের পাশের বাসায় থাকেন। তার বড় মেয়েটি প্রায়ই আমার দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

    আমার বড় বোন রুনু এক বাটি ভাত আর মাংসের ঝোল নিয়ে আসলো। বাটির এক কোনায় এক টুকরো মাংসও দেওয়া আছে। কুকুরটা আগ্রহ নিয়ে ভাত খেল। কু কু বন্ধ করে নিজেই চোখ বন্ধ করলো। আমি ওর জন্য আরেক বাটিতে পানি নিয়ে আসলাম। কুকুরটা পানিতে জিব ডুবিয়ে রাখলো কিছুক্ষণ আর তারপর চোখ বন্ধ করলো।

    আমরা দরজা বন্ধ করে ভিতরে গেলাম। টিভি চালু ছিল। আব্বা নিশ্চিত টিভি দেখতে ছিল। খবর না দেখলে আব্বার পেটের ভাত হজম হয় না। আমি সাংবাদিকতায় পড়লেও কখনো টিভিতে খবর দেখি না। এমনকি সংবাদপত্রের সংবাদও আমারে টানে না। চ্যানেল ঘুরিয়ে আমি খেলা দেখতে শুরু করলাম।
    আব্বা মাই ডিয়ার টাইপের মানুষ। আমার সঙ্গে অতি উতসাহে ক্রিকেট নিয়ে আলাপ চালাতে লাগলো।

    রুনু আমার জন্য এক কাপ চা নিয়ে আসলো। আমি ঢাকা থেকে এবার এসে বেশ আদর আপ্যায়ন পাচ্ছি। সাধারণত আমিই বাসায় সবাইকে চা করে খাওয়াই। আম্মাকে প্রায়ই রান্নায় সাহায্য করি। সবার প্লেট ধুই। মাঝে মাঝে এটা ওটা রান্না করে খাওয়াই। আমার নারীবাদী বোনেদের রান্না বান্নায় আগ্রহ নেই। এবার তারা দেখি আমাকে চা করে খাওয়াচ্ছে। কিছুক্ষণ খেলা দেখার পরে আমি টমেটো আর শশা কেটে সালাদ বানিয়ে ফেললাম। দ্রুত একটা বেগুন পুড়িয়ে ভর্তা করে সবাইকে খেতে ডাকলাম।

    খাওয়া দাওয়ার পরে আব্বার সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট নিয়ে সামনের রুমে চলে গেলাম। কুকুরটার ঘুম ভাংগবে বলে দরজা খুললাম না। আমাদের সামনের ঘরে একটা বড় সোফা আর দুটো ছোট সোফা। একপাশে একটা বিছানা পাতা। সবকিছু নিট এন্ড ক্লিন। রুচিশীল মধ্যবিত্তের বাড়ি। এরা কখনো অশালীন ভাষায় কথা বলে না। তিন বোন পা মেপে পথ চলে, কথা বলে। সবকিছুতে আভিজাত্য ধরে রাখার চেষ্টা করে। আব্বা আম্মারও প্রেম ভালোবাসা ভালোই আছে। বাড়িওয়ালার মেয়ের অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে আমি নজর দেই না। আমিও মনে মনে অভিজাত মেয়েদেরই ভালোবাসি।
    (চলবে)

    5
    3 Comments
    • বাহ! গল্পের শুরুটা দারুন। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকবো।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 19 May 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Skip to toolbar