-
অপলার মামার কোন বইয়ে যেন পড়েছিলাম – হিমুর একজন বন্ধু ছিলো ,( বন্ধুর নাম মনে নেই) যাকে প্রশ্ন করলে সে উত্তর দিতো না।
গতকাল থেকে ছোট পুত্র, পালক পুত্র, সবাইকে জিজ্ঞেস করলাম , কেউ গল্পের বইটার নাম বলতে পারলো না। পালক পুত্র বললো- আমাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ পাঠক হলো রোহান, কাজে কাজেই ওরই নামটা মনে রাখা উচিৎ ছিলো।
ছোট পুত্র কিঞ্চিত লজ্জিত হলো( কারণ সে আমার গল্পের বইগুলো একবার না, বহুবার পড়ছে। আমার ধারণা তার যখন বান্ধবী হবে তাকে সে অপলার নামার বইগুলো মুখস্ত করে শোনাবে😜)
বড়পুত্র গল্পের বইয়ের নাম মনে করার চেষ্টাই করলো না( সে এখন প্রতিটি মুহূর্ত নিজের ইচ্ছে মত খরচ করছে)😇।
তবে রোহান আমাকে ক্লু দিলো যে- সে উত্তর দিতো না এই কারণে যে- ছোট বেলায় স্কুলে যতবার উত্তর দিতো ,সেটা ভুল হতো এবং এর জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হতো।
যাক, আর বইয়ের নাম খোঁজা, খুঁজি করে সময় নষ্ট না করি।
দায়িত্বটা বান্ধবী মুক্তির উপর ছেড়ে দিলাম, সে বলে দিতে পারবে আশা করি।এবার আসি যে কারণে এত হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দিলাম, সেটায়।
তো আমারও হিমুর বন্ধুর মত সমস্যা আছে। বুঝিয়ে বলি- আমাকে যদি কেউ আদেশ করে তবে আমি সেটা করি না। কিছুতেই করি না , যদিও বা করি তবে সেটা নেহাৎ বাধ্য হয়ে। যে কেউ দেখলেই বুঝতে পারে, আমি এটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে করেছি।
আদেশ ভঙ্গিতে না বলে অন্যভাবে বললে আমি সেটা একদম পার্ফেক্টভাবে করি।আমার বর্তমানটা সম্পূর্ণভাবে অতীত নির্ভর হয়ে গেছে। আমার ভালো থাকা , মন্দ থাকা সবটাই চলছে অতীত হাতড়ে।
অতীত এর প্রতিদিনের সবকিছুই স্মৃতি হিসেবে ফেসবুকে আসে, আমি সেইদিনটার সাথে আজকের দিনটাকে মিলিয়ে দিন শুরু করি। আমাদের প্রত্যেকটি ছবি আমাকে সুখস্মৃতি দেয়, ভুলিয়ে দেয় কষ্ট।তুহিন চলে যাওয়ার পরেও আমার মনে হয় না, তুহিন নেই আমাদের সাথে। যেহেতু আমরা দুজনেই অফিসের কাজে ঢাকার বাহিরে যেতাম, তাই এখনো মনে হয় তুহিন ট্যুরে গেছে। ( নিজেকে ভুলিয়ে রাখার কৌশল। )
হোকনা কৌশল ,তবুও তো ভালো থাকা যায়, এটাই বা কম কিসে?!তুহিন চলে যাওয়ার পরে অনেকে বাসায় এসে বলেছিলেন – তুহিনের ছবিগুলো সরিয়ে ফেলতে। কিন্তু আমি তা করতে পারিনি।
ধর্ম বিষয় এ আমার জ্ঞান একদম ই নেই। তবে আমি এটা বিশ্বাস করি যে- আমি স্বজ্ঞানে বা অবচেতন ভাবেও কোন অন্যায় কখনো করি নাই এবং ইন শা আল্লাহ করবোও না।
আমাদের সৃষ্টিকর্তা সকলকিছুই অবগত ( গোপন এবং প্রকাশ্য) , তিনি ই ভালো জানেন আমাদের প্রত্যেকের সম্পর্কে।
আমি সত্যিই খুব ভাগ্যবান যে আমার জীবন এ অনেক ভালো বন্ধু পেয়েছি।
তারা আমাকে খুব ভালোভাবে বুঝে এবং বোঝাতেও পারে।
আমার বান্ধবীরা আমাকে অনেক সুন্দর ভাবে ( আদেশ করে না। ) বুঝিয়ে বলেছে যে আমার প্রিয় জন যারা আমার সঙ্গে নেই তাদের ছবি যেন আমি না দেই। তারা জানে তাদের কথা আমি রাখবো, এবং তারা এও জানে যে – স্মৃতিগুলো ই আমার চালিকা শক্তি।
তারা বলেছে- তুই তোর প্রিয়জনদেরকে নিয়ে লেখবি, কিন্তু ছবি দিবি না।
তাই আজকের এই লেখা।২০১৯ সালের আজকের এইদিনে আমরা রাজশাহীতে ছিলাম, ঘুরে বেড়িয়েছিলাম রাজশাহী ইউনিভার্সিটির প্যারিস রোডে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর এর আনাচে-কানাচেতে।3 Comments
Friends
নাঈম অরণ্য
@aronnonaim
Hafizur Rahman shakil
@shakilahamed72gmail-com
naznin shamim
@nazninshamim
Md Mofiz
@mdmofiz
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
wajibad
@wajibad
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
সুবহা জাহান
@subhajahan
Intisar Jabed
@intisarjabed


হৃদয়স্পর্শী