-
নাটিকা: মিতুর স্পেশাল গেস্ট
রচনা : আবুল হাসান তুহিনচরিত্র বিন্যাস
১।ইন্তাজ- চেয়ারম্যান প্রার্থী – ৫০ বছর
২। মিতু – ইন্তাজের মেয়ে – ১৪ বছর
৩। ফুলি – প্রতিবেশী -১৪ বছর
৪। কালু – ইন্তাজের লোক – ৩৫ বছর
৫ । হাবু – ইন্তাজের লোক - ৩০ বছর
৬। সকেট- ধান্দাবাজ – ৩০ বছর
৭। মদন – সকেটের সহযোগী – ৩০ বছর
৮। লিটন – গ্রাম্য ছেলে – ১৪ বছরদৃশ্য।। ০১।। রুম দিন।।ইনডোর।।
চরিত্র: ইন্তাজ, কালু, হাবু
[ফ্রেমে দেখা যায় ইন্তাজ বসে আছে হাবু ইন্তাজের মাথা টিপছে।]
ইন্তাজ : হাবু মাথাটা একটু ভালো করে মেসেজ কর।
মাথাটা কেমন জানি জাম হয়ে গেছে একটু বুদ্ধি খুলে যাক।
কালূ : ভাই আপনার তো ইলেকশন করার খুব ইচ্ছা।
ইন্তাজ : এইটার ভাবনা তো সবসময় আমার মাথার মধ্যে থাকে। কিন্তু কি করবো।
কালু : যদি কিছু মনে না করেন, ভাই আমি আপনারে একটা পরামর্শ দেব।
ইন্তাজ : কি পরামর্শ বলে ফেল।কালু : এবারের ঈদে আপনি বড় বড় দুটি ষাঁড় কোরবানি দেবেন। চেয়ারম্যানী ইলেকশন বলে কথা, দশ গ্রামের সবার চেয়ে বড় গরু কোরবানি না দিলে মান সম্মান থাকবে? কোরবানির ষাঁড় হতে পারে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ।
ইন্তাজ : মাথায় বুদ্ধি থাকলে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো কোনো ব্যাপারই না।
কালু : হাট থেকে ফেরার পথে লোকজন যতবার ষাঁড়ের দাম জিজ্ঞাসা করবে ততবার আগামীর চেয়ারম্যান আপনার নাম উল্লেখ করে দাম বললেই দারুণ একটা পাবলিসিটি হয়ে যাবে। তার পর বাজারে আপনার আড়োতের সামনে। আপনার ছবিটাকে বড় করে নিচে ষাঁড়ের ছবি দিয়ে দাম লিখে দুটি প্যানাসাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিতে হবে।
ইন্তাজ : বুদ্ধিটা ভালই। তাহলে দুই একদিনের মধ্যে দুটো ষাঁড় আমাকে কিনতেই হবে।
কালু : ষাঁড় দুটো কোরবানি দিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে মাংস আপনি বিলিয়ে দেবেন।
ইন্তাজ : ইলেকশনের পাশ করার জন্য জনগণের ইমোশন কে কাজে লাগিয়ে যত ফর্মুলা আছে প্রয়োগ করতে হবে। সাব্বাস কালু।
দৃশ্য।। ০২ ।। নির্জোন স্থান।। দিন।। আউটডোর।।
চরিত্র: পকেট, লিটন
[ফ্রেমে দেখা যায় ওরা বসে বসে মোবাইল ঘাটছে আর পরামর্শ করছে]সকেট : মদন মোবাইল ফোনটা রাখবি যার জন্য এখানে বসেছি সেটা না শুনে তুই মোবাইলে গেম খেলেই যাচ্ছিস।
মদন : বল শুনছি।
সকেট : এই পথ দিয়ে কেউ গরু কিনতে যাবে আবার কেউ গরু বিক্রি করে বাড়ি ফিরবে এটাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।
মদন : সেটা তো বুঝলাম। কি করতে হবে তাই বল।
সকেট : যারা কিনবে তাদের কাছেও থাকবে অনেক অনেক টাকা আর যারা গরু বিক্রি করবে তাদেরও কাছে থাকবে অনেক অনেক টাকা এই টাকা আমাদের হাতাতে হবে।
মদন : তাহলে কি কিভাবে টাকা গুলো হাতাবি?
সকেট : আমাদের কাজ হচ্ছে এই ছলে বলে ওদেরকে অজ্ঞান করে টাকা নিয়ে কেটে পড়া। মনে কর কেউ পান খায় তাকে পানের ভিতরে অজ্ঞান করার ওষুধ দিতে হবে । কেউ সিগারেট খাই। সিগারেট ধরিয়ে দেয়ার নাম করে নাকে রুমাল চেপে ধরবি। আর কিছু যদি না পাস তাহলে চোখে মলম লাগিয়ে দিয়ে টাকা নিয়ে কেটে পড়তে হবে।
মদন : এটা কি এত সহজেই সম্ভব!
সকেট : আমরা এই রাস্তায় বাইক চালাবো। আমি ড্রাইভার তুই প্যাসেঞ্জার। কি এবার বুঝলি তো। (দুজনে হেসে উঠবে)
দৃশ্য।। ০ ৩।। বাগান ।। দিন।। আউটডোর।।
চরিত্র: মিতু, ফুলি
[ফ্রেমে দেখা যায় ফুলি বসে আছে মিতু এগিয়ে আসে ]মিতু : কি ব্যাপার ফুলি এখানে বসে আছো ?
ফুলি : তোমাদের বাগানে অনেক শুকনো পাতা পড়ে আছে , তুমি বললে আমি পাতাগুলো কুড়িয়ে নেবো। বাড়িতে রান্না করার কোন কাঠ নেই।
মিতু : সমস্যা নেই। তুমি সমস্ত পাতা কুড়িয়ে বাগানটাকে ঝকঝকে করে দেবে। সামনে তো ঈদ। এতে বাগানটা পরিষ্কার হবে তোমারও রান্নার কষ্ট দূর হবে। সেইসাথে বাগানে সাপ পোকামাকড় থাকবে না।ফুলি : তুমি কত ভালো। আমি এক্ষুনি সব কুড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
মিতু : ধন্যবাদ , আর শোন, এই পাতা কুড়িয়ে বাগান পরিষ্কার করার জন্য, তোমাকে ঈদের দিন আমাদের বাড়িতে আসতে হবে, তুমি হবে আমার স্পেশাল গেস্ট।
ফুলি : ঈদের দিন অবশ্যই আসব।( মিতু চলে যাবে ফুলি পাতা কুড়াতে থাকবে।)দৃশ্য।। ০ ৪।। রাস্তায় ঝোপ ।। দিন।। আউটডোর।।
চরিত্র: কালু , হাবু
[ফ্রেমে দেখা যায় কালু হেঁটে আসবে ঝোপের মধ্যে বসে আছে হাবু , কালু এগিয়ে আসে ]কালু : কি ব্যাপার ঝেপটা নড়ছে কেন? দেখি কি আছে ! মানুষের মত মনে হচ্ছে। এই কিড়া ঝোপের মদ্দি ক্রিড়া?
হাবু : আমি হাবু ।
কালু : তুই ঝোপের মদ্দি লুকিয়ে কি করতেছিস?
হাবু : বের হোতি পারব না। ইজ্জতের পরে হামলা হয়েছে।
কালু : মানে তুই বিটি মানুষ নাকি? যে ইজ্জত লুণ্ঠন হয়েছে?
হাবু : উপায় নেই। লজ্জা শরম বলে কথা। তোর জামাটা খুলে আমারে দে। না হলি বেরোতি পারব না।
কালু : এই নে জামা।( কালু জামা খুলে দেয়) এবার বেরিয়ে এসে বল কি হয়েছে।
হাবু : ষাঁড়ের দাম মিটাই দিয়ে তুমি আর ইন্তাজ ভাই চলে আসলে । ভিড় ঠেলে ষাঁড় দুটো হাট থেকে বের করতে গিয়ে রাস্তার কাদায় আর ঘামে ভিজে একেবারে নাস্তানাবুদ অবস্থা হলো।কিছুদূর যাওয়ার পরে রাস্তার পাশে বেঁধে রাখা একটা গাভি দেখে ষাঁড় দুটো হঠাৎ করেই সেদিকে দৌড় দিল। হাটের লোক দড়ি টেনে ধরেও ষাঁড় দুটোকে থামাতে পারল না।
কালু : গুরু তাহলে বেশ তাগড়া।হাবু : তাগরা মানে হাতির মতো শক্তি। আমিও দড়ি ধরেই ষাঁড়ের পিছে দৌড়াতে লাগলাম ষাঁড় আসছে দেখে ওই গাভিটাও ভয়ে দৌড়াতে লাগল। ষাঁড়ের পেছনে পেছনে দড়ি ধরে দৌড়াতে দৌড়াতে আমার কোমর থেকে লুঙ্গি খুলে যাওয়ার উপক্রম। লুঙ্গি ধরবো না দড়ি ধরবে? দড়ি ধরবে, না লুঙ্গি ধরবো এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ গাছের একটা মরা ডালের সঙ্গে লেগে লুঙ্গিটা খুলে গেল।
কালু : ঝাঁ। ব্যাপারটা তো বড্ডই——।
হাবু : আমি একেবারে জন্মদিনের পোশাকে বিষম লজ্জায় ষাঁড়ের দড়ি ছেড়ে দাঁড়ায় থাকলাম।
কালু : সেকি ! তারপর কী হলো?
হাবু : ভটভুটি ওয়ালার গামছা পড়ে বাড়ি পর্যন্ত আসলাম। ষাঁড় নামিয়ে দেয়ার পর আচমকা আমার কোন কথা না শুনে গামছা খুলে নিলো,
কালু : বড়ই অন্যায় । তার পর?
হাবু : সেই থেকে ঝোপের মদ্দি আছি, কাউকে পেলে কিছুটা পড়ে বের হব, এই আশায়।কালু : যাক বাবা শুধু তো তোর লুঙ্গির মধ্যেই ঝড়টা গেছে ভাগ্যিস।( হোক হো করে হেসে উঠলো)
দৃশ্য।। ০৪ ।। রাত।। বাড়ির সামনে।। আউডোরে
চরিত্র: ইন্তাজ, কালু, , হাবু, সকেট, মদন, লিটন
[ফ্রেমে দেখা যায় হাবু গেটের সামনে বসে পাহারা দিচ্ছে সকেট এবং মদন প্রবেশের চেষ্টা করবে। হাবুকে অজ্ঞান করে ফেলবে। লিটন গেট ফাঁকা দেখে ভিতরে প্রবেশ করবে , কালো এগিয়ে আসবে লিটনকে থেকে চোর চোর বলে চিৎকার করবে, লিটনকে ধরে পিটমুড়াতে বেঁধে রাখবে]কালু : শোন হাবলু ঠিকমতো পাহারা দিবি দুই দিন পর ঈদ।
হাবু : কোন চিন্তা করতি হবেনা আমি একাই একশো।
কালু : অত ভাব না দেখায় ঠিক মতো পাহারাদে।
এলাকার মদ্দি সবচেয়ে দামী গরু কিনিছে ইন্তাজ ভাই। দেখতেও যেমন, ওজনও তেমন।হাবু : দামের কথা নামের কথা বলবি না, একটাতো তোর নামের কালু–লু -লু ।
কালু : চুপ থাক । চোখ কান খোলা রেখে পাহারা দে, আমি বাড়ির ভেতর থেকে আসছি।
হাবু : আচ্ছা। (কালুর প্রস্থান সকেট এবং মদন এগিয়ে আসবে)
সকেট : ইন্তাজ ভাই নাকি সবচেয়ে দামি দুটো গরু কিনেছে ? গরু দুটো বাগাতে পারলে একবছর কিছুই করা লাগবে না। শোন আমি ওর সামনে কথা বলবো তুই নাকে রুমালটা টুক করে চেপে ধরবি আর অজ্ঞান করবি। কেল্লাফতে ।
মদন : চিন্তার কোন কারণ নেই তুই ,সামনে গিয়ে দাঁড়া আমি পিছন দিক থেকে রুমালটনাকে চেপে ধরছি।
সকেট : আরে হাবলু ভাই যে, শুনলাম ইন্তাজ ভাই সবচেয়ে দামি দুটো ষাঁড় কিনেছে।
হাবু : হ্যাঁ তুমি ঠিকই শুনেছ। কিন্তু তোমারে তো চিনতি পারলাম না তুমি কিডা।
সকেট : আমারে তুমি চিনবা না। চামড়ার ব্যবসা করিতো। শুনলাম এই বাড়ির লোক, বড় দুটো গরু কিনেছে, চামড়া দুটো কিনা যায় কিনা তাই আসলাম। (মদন কি সারাদিন চেপে ধরে ওরাঁকে)
হাবু : সমস্যা নেই তুমি ঠিকই শুনেছো , আমরাই ব্যবস্থা করে দিবানে। চলে এসেনে কুরবানীর দিন সকাল সকাল।
মদন : ( রুমাল চেপে ধরে হাবু অজ্ঞান হয়ে যায়) ব্যাটা ধপাস। ধর সাইটে শোয়ায় রাখি। (এর মধ্যে লিটন এসে হাজির)
লিটন : ঠিকানা অনুযায়ী এই বাড়িটাই তো। আমার লালুরে এরা কিনে এনেছে । লালুরে ছাড়া থাকতেই পারি না , বাড়ির ভিতরে গিয়ে একবার দেখে আসি। গেট ফাঁকা পেয়ে লিটন প্রবেশ করবে। সাপের মতন দূরে পানি থাকবে)
সকেট : এইটা আবার কিডা পুরনো পাগলে ভাত পায় না নতুন পাগলের আমদানি। মদন সটকে পড়।
মদন : কাজের মদ্দি বাঁহাত।এইটাও কি ধপাস করে দেবো? ( কালুর প্রবেশ)
কালু : হাবলু। হাবলু, এই ব্যাটা তুই কে ,চোর নাকি ? হাবলু চোর চোর চোর চোর।
লিটন : আমি চোর না আমি লিটন লিটন।
কালু : চিৎকারে হাবুর জ্ঞান ফিরে যাবে।
হাবু : চোর চোর। হ্যাঁ চোর ।( হাবু কষ্ট করে উঠে দাঁড়াবে, সকেট এবং মদনও এসে যোগ দেবে)
সকেট : মদন এই সুযোগে বেরিয়ে যেতে হবে চল আমরা ওই চোরের টাকে ধরি।
মদন : হ্যাঁ সত্যি তো চোর । দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলো ও চোর চড় থাপড় মারলেই বোঝা যাবে। চোর। (লিটনকে পিঠমোড়া দিয়ে বেঁধে রাখবে মদন ও সকেট পালিয়ে যাবে।)
লিটন : আমি চোর না , তোমরা বিশ্বাস করো ,আমি চোর না।( ইন্তাজের প্রবেশ)
ইন্তাজ : কি: ব্যাপারে একে এই ভাবে বেঁধে রেখেছো কেন?
কালু : ভাই চোর । গরু চুরি করতে আইছে। হাতেনাতে ধরিছি।
হাবু : ভাই ও একা না ,সাথে আরো লোক আছে আমার নাকের মদ্দি কি যেন দিয়েছে। আমি অজ্ঞান হয়ে গিছিলাম। আমার বড্ড ঘুম পাচ্ছে।ইন্তাজ : সত্যি করে বল তুই গরু চোর তোর সাথে আর কে কে আছে।
লিটন : না ভাই আমি চোর না আমি লিটন আপনারা যখন হাটের থেকে লালু কালু নামের গরুটা কিনলেন , তখন আপনাদের ঠিকানাটা আমি লিখে নিয়েছিলাম , সেই ঠিকান অনুযায়ী আমি চলে এসেছি ওই গরু দুটো আমি ছোটবেলা থেকে মানুষ করেছি। লালু নামের গরুটা আমার খুব প্রিয় ওকে আমি খুব ভালোবাসি ওকে ছাড়া আমি একদম থাকতে পারি না। গরু দুটো বিক্রির খুব কেঁদেছি। আজকে মনটা খুব খারাপ ওকে দেখতে এসেছি । আমাকে চোর বলে মারবেন না। আমি শুধু লালুকে একবার দেখে চলে যাব।
ইন্তাজ : হ্যাঁ , আমি চিনতে পেরেছি তুমি আমার কাছ থেকে ঠিকানাটা লিখে নিয়েছিলে। কালু ওর বাঁধন টা খুলে দে। ওকে তোরা মেরেছিস।
কালু : না ভাই আমরা মারিনি বাইরে থেকে দুটো লোক এসে ওকে মেরেছে । এই ওর বাঁধন খুলে দিলাম।
ইন্তাজ : আচ্ছা ঠিক আছে। কিছু মনে করো না লিটন। ওরা বুঝতে পারেনি। কালু ওকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে গরুটা দেখিয়ে আন।
কালু : আচ্ছা যাচ্ছি। (কালু লিটনকে নিয়ে বাড়িতে চলে যাবে।)দৃশ্য।। ০০০।। দিন।। রুম ।। ইনডোরে
চরিত্র: ইন্তাজ ,মিতু, জরিনা , ফুলি
[মিতু পিতার সাথে বসে আছে, গেষ্টের জন্য অপেক্ষা করছে।]ইন্তাজ : কিরে মা তুই বলেছিলি তোর একজন স্পেশাল গেস্ট আসবে। কই এখনও তো এলো না ।
মিতু : আসবে আব্বা আসবে। তোমার কোন চিন্তা করতে হবে না, আমি একাই সামলে নেবো।
ইন্তাজ : সামনের নির্বাচনে আমি কনফার্ম চেয়ারম্যান। এখন থেকে হিসাব করে পা ফেলতে হচ্ছে। এই ঈদকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। তাই তোর গেস্টের সাথে একটু আলাপ আলোচনা করতাম । এক কাজে দুই কাজ।
মিতু : ও এই কথা।( জরিনার প্রবেশ)
জরিনা : কি ব্যাপার মিতু তোর গেস্টের কোন খবরই নেই। খাবার দাবার কখন রেডি করে রেখেছি।
মিতু : মা চিন্তা করোনা স্পেশাল গেস্ট বলে কথা। সময় মত চলে আসবে। ( দরজয় কড়া নাড়ার শব্দ অথবা কলিং বেল বাজবে) ওই তো মনে হয় চলে এসেছে। আমি দেখছি দরজা খুলে দিচ্ছি। (দরজা খুলে দেবে ফুলি ঘরের ভেতর প্রবেশ করবে ) আব্বা, মা এ হচ্ছে ফুলি , আমার স্পেশাল গেস্ট।
ইন্তাজ : এই তোর স্পেশাল গেস্ট!
জরিনা : মিতু মশকরা করার একটা মাত্রা থাকে। তোর স্পেশাল গেস্টের জন্য আমি কত কিছু রান্নাবান্না করে রেখেছি আর এই হচ্ছে তোর স্পেশাল গেস্ট। যতসব।
মিতু : তোমরা রাগ করো না। একটা মানুষের বাড়িতে যে কেউ অতিথি হতে পারে এতে সমস্যার কি? চলো ফুলি আজকে আমি তোমাকে নিজ হাতে খাওয়াবো।
জরিনা : এর আদিখ্যেতা কত? ও রাস্তা থেকে লোক ধরে এনে স্পেশাল গেস্ট করেছে।ইন্তাজ : আহা ক্ষান্ত হও ।এসব কথা বলোনা এখন আমার নির্বাচনী প্রচারণা চলছে । কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। এতে আমার নির্বাচনে সমস্যা হবে।( মিতু ফুলীকে নিয়ে খাবার টেবিলে অথবা খাবারের খাওয়ার জায়গায় বসাবে নিজ হাতে খাবার বেড়ে দেবে)
মিতু : ফুলি কোন লজ্জা করবি না, তোর যা মনে চায় তুই তাই খাবি। দেখ কত খাবার সাজানো আছে এগুলো সব তোর জন্য।
ফুলি : এতো খাবার আমি খেতে পারবোনা।
মিতু : না বলা যাবেনা। আমি উঠিয়ে দিচ্ছি।
ফুলি : আর দিওনা, এত খাবার খাওয়ার অভ্যাস নেই।দৃশ্য ।। ০৫।। দিন।।বাড়ির সামনে ।।আউটডোর
চরিত্র : কালু, হাবু
[ফ্রেমে দেখা যায়, লাইন করে লোক দাঁড়িয়ে আছে। কালু হাবু মাংস বিতরণ করছে। মাংস প্যাকেট করা থাকবে। ]
কালু : শোন সগোলে গোস্ত নিয়ে যাচ্ছো ঠিকই । বেইমানি কিন্তু করবানা। অন্য বাড়ি থেকে দেচ্ছে হাড্ডিগুড্ডির পিস। আমাদের ইন্তাজ তাই দেচ্ছে প্যাকেট করে। তার সন্মান বলে কথা। সামনের নির্বাচনে সে চেয়ারম্যান প্রার্থী।লোক-১ : খুবতো কচ্ছো । ভোটের পরে ফচ করে না।
হাবু : শোন এহন থেকে এই বাড়িতে আসলি নাচানে চা ফ্রি।
লোক -২ : বুঝিচি , তার মানে ভোটের পরে আর নাচপে না।
কালু : সবকিছুই নয় ইন্তাজ ভাইয়ের মতো দয়ালু মানুষ এই তল্লাটে আর কেউ নেই । এই যে তোমাদের জন্নি, এলাকার সবচেয়ে সেরা দুটো ষাঁড় জবাই দিয়ে তোমাদের মদ্দি বিলাই দিলো। কই তার নিজের জন্নি তো কিছু রাখল না। এখন গরুর মাংসের যে দাম।
হাবু : তিনি নিজের জন্নি কিছুই রাখেননি কিন্তু আমরা দুজন কিছু সাইট করে রাখিছি যাতে করে আমাকে মাসখানেক মাংস খাওয়া যাবে।
কালু : চুপ , একদম চুপ, হাটে হাড়ি ভাঙবি না।দৃশ্য।। ০৬।। দিন।। রুম ।। ইনডোরে
চরিত্র: চেয়ারম্যান, মিতু, জরিনা , ফুলি
[মিতু ফুলিকে নিয়ে পিতার মাতার সামনে আসবে গায়ে নতুন সালোয়ার কামিজ]জরিনা : ব্যাপার কি মিতু , তোর সালোয়ার কামিজ ওর গায়ে কেন?
ইন্তাজ : কিরে মা তোরে তো ঐ সালোয়ার কামিজ সেদিন কিনে দিলাম। ওকে পরিয়েছিস কেন?
মিতু : শোন আব্বা, গত রোজার ঈদে যে সালোয়ার কামিজ আমাকে দিয়েছিলে তা এখনো নতুন আছে। এই দেখো পড়ে আছি। ওরা অনেক গরীব ওদের নতুন জামা কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই আর আমারা প্রয়োজন ছাড়া বেশি বেশি করে কাপড়চোপড় কিনি। তাই ভাবলাম ওকে নতুন স্যালোর কামিজটা উপহার দেই। মা দেখো কি কি সুন্দর মানিয়েছে কে বলবে ও গরিব আমরা বড়লোক। পোশাকের মাঝেই হারিয়ে গেছে গরিব বড়লোকের ব্যবধান। তাছাড়া আব্বা তুমি যে চেয়ারম্যানী ইলেকশন করবে, ভোটে পাস করবে । কাদের জন্য এসমস্ত মানুষের জন্য। এদের পাশে যদি থাকো , ওদের মুখে যদি হাসি ফোটাতে পারো। তবেই তো তোমার চেয়ারম্যান ইলেকশন করা সার্থক হবে।
ইন্তাজ : সত্যিতো মা, তুই সঠিক কথাই বলেছিস।।। সমাপ্ত।।
3 Comments-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 06 June 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Abul Hasan Tuhen
Friends
abrar
@abrar
জামান বারভী
@zamanbarovi
MUHAMMAD TAHSEEN
@muhammadtahseen
Kokeshas King
@kokeshasking
মোরশেদ সাকিব
@morshedsakib
Ekhtiar Uddin
@ekhtiar2003
ইভান
@ivan
মো: ফারহান হাবীব
@farhan-habib
Masfi K
@masfi-mohammad


congratulation