Profile Photo

Kanej-RoksanaOffline

  • Kanej-Roksana
  • Profile picture of Kanej-Roksana

    Kanej-Roksana

    • 1 year, 4 months ago

    প্যাপিরাসের কালো মূর্তি

    শাহবাগে যে আজিজ মার্কেট আছে তার কোনার ছোট গেট দিয়ে ঢুকে পাঠক সমাবেশের পরেই প্যাপিরাস। প্যাপিরাসের তখন মুখোমুখি দুটো দোকান ছিল। একটি দোকানে একজন ছেলে আরেকটি দোকানে এক মেয়ে বসতো। প্যাপিরাসের মালিক সজ্জন ব্যক্তি। প্রথমে মালিক ও ছেলে মেয়ে দুটি এক দোকানে ছিল। ছোট দোকানটিতে এতো মানুষ ছিল যে তখন প্যাপিরাসে যেতাম না। আমাদের কাজ ছিল আজিজ মার্কেটের এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে বেড়ানো। বই পত্তর পড়া। যেখানেই থাকি না কেন দিনের একটা সময় আজিজে কাটাতাম। দোতলার কোনায় চায়ের দোকান ছিল। সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতাম।

    একদিন সেই প্যাপিরাসে তখন নতুন এলইডি মনিটর এসেছে। বই দেখতে গিয়ে সেই মনিটরে হাতের ছোয়া লেগেছে। আর প্যাপিরাসের সেই কালো মেয়ে খেই খেই করে উঠেছে। মেয়েটা কালো না হয়ে ফর্সা হলে তাকে বেশ ভালো সুন্দরীই মনে হতো। কালো হয়ে বাজার দর কমে গেছে। আর সে খটখটে নীতিবাগীশ। হয়তো ছেলেরা তাকে এড়িয়ে চলে। সারাদিন তাকে বসে থাকতে হয়। হয়তো সেটাই তার জন্য সংগ্রাম। হয়তো না। হয়তো তাকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে পরিবারের জন্য। হয়তো এসব কিছুই না। তার স্বভাবটাই এমন। আর আমার স্বভাবে হয়তো তাকে আকৃষ্ট করার কিছু নাই।

    মুহূর্তেই আমি তার প্রতি ঘৃণা অনুভব করলাম। আমার কেন যেন ধারণা হয়ে আছে লোকজন আমাকে পছন্দ করে না। বিশেষ করে মেয়েরা আমাকে একেবারে দেখতে পারে না। তার উপরে আমি কবি। কবি টবিদের সমাজে কেউ পছন্দ করে না তার উপরে মেয়ে কবি! একেবারেই ফালতু একটা ব্যাপার। সুন্দর কাপড় চোপড় পড়ে না। সাজে না, দেখতে আতেল আতেল। আমিও তাদের উপর বেশ খ্যাপ্পা। সামান্য মনিটরে ছোয়া লাগলে যে মেয়ে খ্যাক খ্যাক করে ওঠে তার নিচুতায় আমি তাকে ছুড়ে ফেলে দিলাম। প্রচন্ড ঘৃণায় আমি প্যাপিরাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম। এস্টাব্লিশমেন্টের এই ছোট কর্মীর চেয়ে দুটো ভালো কথা বলা যৌন কর্মীও ভালো।

    ঘৃণা অনুভব না করলে বলা যেত ছোট ছোট কথা। কথারা উড়ে যেত তার দিকে। যেমন ধরোঃ এতো এতো দামি বইয়ের মাঝে আপনাকে বেশ মানিয়েছে। আজ তোমাকে বেশ সুন্দর লাগছে। আচ্ছা, তোমার কানের দুলটার রং খুব সুন্দর তো। তার তুচ্ছ তাচ্ছিল্যে ভরা দৃষ্টিকে ভালোবাসায় ফিরিয়ে দেওয়া যেত। অনেক কিছুই তাকে বলা যেত। কিন্তু আমাদের মাথা ফ্রয়েডের তত্ত্বে ভরা। মানুষের ব্যক্তিত্ব না কি দুই তিন বছর বয়সেই ঠিক হয়ে যায়। ও তাচ্ছিল্য ভরে চেয়েছে। ও নিশ্চিত নরকের কীট। এতো ছোট লোক মনিটরে হাত লেগেছে তাই খিট খিট করছে। ও খুব ছোট লোক।

    এই প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেই এসেছি চিরকাল। আজ আর ফিরে গিয়ে তাকে দুটো ভালোবাসার কথা বলা যাবে না। কেমন আছে সে, কি করে কাটছে তার জীবন। তার ছেলে মেয়েরা বই পড়ে কি না! কি হলো আজ তার কিছুই যাবে না জানা! আহ! সময় নিশ্চয়ই খারাপ একটা ব্যাপার। কিছুতেই তাকে ফিরিয়ে আনা যায় না।

    4
    3 Comments
    • কখনো কখনো নিজেকে ক্ষমা করতে শিখতে হয়। To err is human

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 23 June 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Skip to toolbar