-
“স্মার্টনেস মানেই সবসময় মুখ গম্ভীর রাখা নয়—আসল স্মার্ট তারাই, যারা রসবোধে ভরপুর!”
গত ১জুলাই এর ঘটনা। ছোট পুত্রের জন্মদিন উপলক্ষে বেশ কিছু কেনাকাটা করেছি।বিভিন্ন সাইজের ব্যাগ হাতে।সাথে আছে পুত্রের জন্য জন্মদিনের কেক।
দুই হাতে এত ব্যাগ নিয়ে হাঁটা অসম্ভব। তাই একটি রিক্সায় উঠে বসলাম, যদিও দূরত্ব খুব সামান্য।
কিন্তু কিছুদূর সামনে গিয়ে দেখি পীপিলিকার সারির মতো লাইন দিয়ে আছে শুধু রিক্সা আর রিক্সা।চুপ চাপ হাতে , পায়ের কাছে জিনিস নিয়ে বসে আছি।কোলের উপর কেকের প্যাকেট। এভাবে প্রায় ৩০ মিনিট বসেই আছি, অথচ বাসা প্রায় এসেই গেছি।একটা চিৎকার দিলেও শুনতে পারবে(কথার কথা বললাম)।
আমি একজন মুরব্বির রিক্সায় উঠেছি।
চাচা মিয়া পাশের রিক্সাওয়াকে বললেন- “রিক্সায় চড়িয়া ময়না হাঁটিয়া চলিলো।”
আমার এত মজা লাগলো চাচামিয়ার রসবোধ দেখে, যে কি বলবো!
আজকাল কাউকে মজা করে কিছু বললে সে এমন সরু চোখে তাকিয়ে থাকে যে, ভয়ে সংগে সঙ্গে বলে দিতে হয় মজা করছি অথবা ফেসবুকে কিছু লেখলে বলে দিতে হয় – ইহা একটি ফান পোস্ট।
চাচার রসবোধ দেখে আমার কিছু লেখতে ইচ্ছে করলো, তাই লেখে ফেললাম। আগে এমন কিছু লেখলে পত্রিকায় দিতাম, এখন পত্রিকায় দেওয়ার পদ্ধতি জানি না।(কেউ চাইলে , আমাকে সাহায্য করতে পারেন।অগ্রীম ধন্যবাদ দিয়ে রাখলাম।)সেন্স অফ হিউমার – হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে!
এক সময় মানুষ মজার কথা শুনে প্রাণ খুলে হাসতো। ঠাট্টা-মশকরা ছিল সম্পর্কের রঙ। কিন্তু এখন? এখন কেউ একটু রসিকতা করলেই সবাই সিরিয়াস! হালকা হাস্যরসেও খুঁজে পায় অপমান, বিদ্বেষ অথবা ব্যক্তিগত আক্রমণ।
আমরা কি ধীরে ধীরে সেন্স অফ হিউমার হারিয়ে ফেলছি?
সেন্স অফ হিউমার বা রসবোধ, মানুষের এক দারুণ গুণ। এটি শুধু হাস্যরস নয়, বরং জীবনকে হালকা করে দেখার, কঠিন সময়েও আশার আলো খোঁজার এক প্রজ্ঞা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সমাজে এই রসবোধের অভাব যেন দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।
বর্তমান সময়ে মানুষ হয়ে উঠছে আগ্রাসী, বিরক্তিকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল। ছোট্ট একটি রসিকতাকেও ভুল বোঝে, হাসির পেছনেও খোঁজে অপমান। ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা নিরীহ তামাসাও কখনো কখনো হয়ে ওঠে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এক সময় যে পাড়া /মহল্লা/ চায়ের দোকানে বা টং ঘরে গল্প-আড্ডায় মুখর থাকত বিভিন্ন হাসি-ঠাট্টায়, আজ সেখানে স্থান পেয়েছে রাগ, হতাশা আর তিক্ততা।
রসবোধ মানে কিন্তু কারও অনুভূতিতে আঘাত করা নয়। বরং রসবোধ মানে হলো জীবনকে একটু হালকা করে দেখা, সমস্যার মাঝেও একটু হাসতে শেখা, মানসিক চাপকে সামলানোর এক চমৎকার উপায়। যার মাঝে সেন্স অফ হিউমার আছে, সে সহজেই চারপাশকে আনন্দ দিতে পারে, সম্পর্কগুলো সহজ করে তুলতে পারে।
আমাদের ব্যস্ত জীবন, প্রযুক্তিনির্ভরতা এবং মানসিক চাপ হয়তো আমাদের হাসতে ভুলিয়ে দিচ্ছে। অথচ, সেন্স অফ হিউমার শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মননের একটি দিক—বুদ্ধিমত্তা ও সহনশীলতার প্রকাশ। যার মধ্যে রসবোধ আছে, সে সহজেই মানুষের মন জয় করতে পারে, সংঘাত এড়াতে পারে, সম্পর্ককে করে তুলতে পারে গভীরতর।
সুতরাং, রসবোধকে অবহেলা নয়, বরং এটি চর্চা করা দরকার। হাস্যরসকে শুধু হালকা বিনোদন না ভেবে, এটিকে মননশীল জীবনের অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
এই কঠিন সময়েও যে মানুষ রসিক, সে বড় সৌভাগ্যবান। কারণ সে জানে—হাসি একরকম আত্মরক্ষা, একরকম বেঁচে থাকার কৌশল।
আসুন, আমরা আবার শিখি—হাসতে, হাসাতে। কারণ এই কঠিন সময়েও একটু হাসি বাঁচিয়ে রাখতে পারে সম্পর্ক, মুছে দিতে পারে মন খারাপ।
হাসুন, অন্যকে হাসতে দিন। জীবনটা অনেক সুন্দর! 😊
5 Comments
Friends
naznin shamim
@nazninshamim
Md Mofiz
@mdmofiz
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
wajibad
@wajibad
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
সুবহা জাহান
@subhajahan
Intisar Jabed
@intisarjabed
মেঘ
@megh
রোদেলা শিশির
@rodelashishir


তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 15 July 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!