-
গল্প: “শেষ ক্লাসের ঘণ্টা”
_ জে,এফ,
[সব কিছুই গল্প হয়ে যায়]উত্তরার আকাশটা আজ যেন কেঁদে ফেলেছে। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে সকালটা শুরু হয়েছিলো প্রতিদিনের মতোই—শিক্ষার্থীরা বই হাতে ক্লাসে ঢুকছে, কেউ কেউ বারান্দায় দাঁড়িয়ে গল্প করছে, আর কিছু শিক্ষক স্টাফরুমে চা খেতে খেতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রথম পিরিয়ডের।
কিন্তু হঠাৎই…
এক বিকট শব্দ।
পুরো আকাশটা কেঁপে উঠল।চারদিক থেকে মানুষ দৌঁড়ে এল। মুহূর্তের মধ্যেই স্কুলের ভেতর দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠল। একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে—স্কুল ভবনের পাশেই! আগুন, ধোঁয়া, চিৎকার আর কান্নার এক বিভীষিকাময় দৃশ্য।
মনে হলো যেন সময় থেমে গেছে।
সবার মাঝে দাঁড়িয়ে ছিল এক মা—আফরোজা বেগম। তাঁর ছেলে ইয়াসিন আজ সকালে বলেছিল, “মা, আজ আমাদের গ্রুপ প্রেজেন্টেশন আছে, দোয়া কইরো।” সেই ছেলেই এখন—তার চেনা স্কুল ইউনিফর্মে—জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে বের করা হচ্ছে নিথর দেহে।
আফরোজা বেগম চিৎকার করলেন না।
শুধু পাথরের মতো চেয়ে থাকলেন ছেলের নিঃশেষ মুখের দিকে।
এক ফোঁটা কান্নাও এল না তাঁর চোখে।
তিনি শুধু বললেন,
“ওর খাতা-কলমও পুড়ে গেছে বুঝি…?”
এই একটা প্রশ্নে ভেঙে পড়লো চারপাশের মানুষ। কান্না ছড়িয়ে পড়লো বাতাসে।স্কুলের করিডোরে, যে দেয়ালে ইয়াসিন ও তার বন্ধুরা “স্বপ্ন দেখি, গড়ি দেশ” স্লোগান লিখেছিল, আজ সেখানে রক্ত আর ছাইয়ের দাগ।
এক শিক্ষক, সিরাজুল হক, বারান্দায় পড়ে ছিলেন ধ্বংসস্তূপের নিচে। উদ্ধারকারীরা যখন তাঁকে বের করছিল, তাঁর হাতটা শক্ত করে ধরা ছিল একটা খাতা। সেই খাতার প্রথম পাতায় লেখা—
“আমার ছাত্ররাই আমার শক্তি। ওদের নিয়েই আমার স্বপ্ন।”এভাবে একেকটা শরীর, একেকটা গল্প, একেকটা স্বপ্ন—এক এক করে বেরিয়ে এলো ধ্বংসের বুক থেকে। মা হারাল সন্তানকে, ভাই হারাল বোনকে, শিক্ষক হারাল তাঁর শ্রেণীকক্ষ।
দুর্ঘটনার দিন দুপুরে স্কুল প্রাঙ্গণে একটি ছোট্ট ছেলে দাঁড়িয়ে বলছিল,
“আম্মু বলেছিল বিকেলে আইসক্রিম খাওয়াবে… এখন কে খাওয়াবে?”প্রশ্নের কোনো জবাব নেই।
(বার্তা):
শোকের এই দিনে শুধু চোখের পানি নয়, প্রয়োজন নিরাপত্তার প্রশ্নে জবাবদিহিতা, যেন আর কোনো মা-র বুক খালি না হয়, আর কোনো স্বপ্ন এভাবে ছাই না হয়ে যায়।2 Comments
শিষ্টাচার:
সদাচার-সাধুবাদ যাবে সব ধুয়ে, রবে শুধু শিষ্টাচার, দিয়েছি যাদের মাঝে !
সদাচার-সাধুবাদ যাবে সব ধুয়ে, রবে শুধু শিষ্টাচার, দিয়েছি যাদের মাঝে !

Jannatul ferdausi
Daulatpur,Khulna
♠♣♥♦♣♠জান্নাতুল ফেরদৌসী ১৯৮২ সালের ১৯ জানুয়ারি, যশোর জেলার ছাতিয়ান তলায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহন।
শিক্ষাগতযোগ্যতাঃ এম,এ.(বাংলা) এম,এড ।
২০০০ সালে সাঁকো প্রকাশনি থেকে “কবি”হিসেবে স্বীকৃতি লাভ । ২০২২ সালে নবসাহিত্য প্রকাশনী থেকে ‘কবি সম্মাননা’-স্বরূপ সনদ এবং ক্রেস্ট গ্রহন । পেশায় একজন শিক্ষক (GPS)। যৌথভাবে প্রকাশিত বইয়ের নাম“বনফুলের সন্ধানে,,নতুন তার মিছিলে,,উদীয়মান কবি,দহনের কাব্য, কবিতায় সাতকাহ,কাব্য ফেরি,ধান শালিকের কাব্য,শব্দ শ্রমিকের কাব্য,চায়ের ধোঁয়ায় তোমাকে খুঁজি,কেউ ভালোবাসেনি,কবি কন্ঠ, রাত_তখন_বারোটা দুই (ভৌতিক)"। একক বই-"আমিত্ব","বুনট","ছায়ামানব", ''উপদেশে উপলব্ধি'', ''ধোঁয়াশা'', ''আড়াল'',সময়ের মুখোশ।
ই-মেইলঃ [email protected]
Friends
Nahar moyna
@moyna
ABDUL KADIM SHAHED
@abdulkadimshahed
জে এস এম অনিক
@00anik
মাজেদুল হক
@birohikobi
এফ. আর. মাহদী
@frmahedi
স্নিগ্ধ ধূম্রাক্ষর---
@subaiya-aymaan
হেমায়েত হোসেন হিমু
@himu68hgmail-com
মামুনুর রশিদ
@mamun01722525933gmail-com
তাহমিনা মোরশেদ
@rbtm796923t

হে পরম করুনাময়, বাচ্চাগুলোকে রহম কর। পরিবারগুলোকে এই শোক সইবার শক্তি দাও।