Profile Photo

Kanej-RoksanaOffline

  • Kanej-Roksana
  • Profile picture of Kanej-Roksana

    Kanej-Roksana

    • 1 year, 3 months ago

    শ্রোতা

    রিমি যাস্ট “কিউরিওসিটি” শব্দটা বলেছে।
    “নাওয়ালের কিউরিওসিটি কম।”
    তখনই ঠিক তখনই শাহেদ শব্দটা পিক করে নিয়ে কথার তুবড়ি ছোটাতে লাগলো।
    “ইন্টারনেটের কারণেই লোকের এখন কিউরিওসিটি নাই। ইন্টারনেটে তারা যা দেখে তাই সত্যিই বলে মনে করে। আসলে কিন্তু সেটা সত্যি না। আসলে লোকে যা দেখাতে চায় তাই আমরা দেখি। লোকে ভাবে আরে সুইজারল্যান্ড! ইন্টারনেটে আমিতো সুইজারল্যান্ড দেখেছি। এসব ভেবে সে নিজেকে খুব চালাক মনে করে।”

    কিছুক্ষণ এইভাবে বলার পরে শাহেদ আরও বলতে থাকে, “যে ইন্টারনেটে ৫ লাখ টাকা আয় করে সে ওইগুলা শিখানোর নামে ইন্টারনেটে আরও সময় খরচ করে। এই ভাবে চলতে থাকে। তার জীবনের অনেক সময় ইন্টারনেটের পিছনে চলে যায়।”

    রিমি আর মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু অলিখিত ও লিখিত নিয়ম হচ্ছে শাহেদ যখন কথা বলবে রিমিকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে তা সে যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন। রিমি হয়তো ঘর মুছতে মুছতে অর্ধেক ভিজে গেছে। তখন হয়তো শাহেদের রাজনৈতিক কোন কথা মনে পড়েছে যে বিষয়ে রিমির কোন আগ্রহ নেই। তখনও প্রয়োজনে তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা পূর্ণ মনোযোগে শাহেদের বক্তব্য শুনতে হবে।
    না, শুনলে ভয়াবহ কিছু হবে। মারামারি -খুনোখুনি হয়ে যেতে পারে। শাহেদের কথা না শুনলে শাহেদ প্রচন্ড অফেন্ডেড হয়। রিমি বেচারা এতো মনোযোগ ধরে রাখা বা তেমন ভান করতে পারেনা। আর সেসব নিয়ে চরম অশান্তি শুরু হয়ে যায়।

    অনেক দিন আগে শাহেদের কোন এক বক্তব্যের মাঝে রিমির হাত ধুতে যাওয়ার খুব প্রয়োজন ছিল।
    শাহেদই বললো, “যাও!”
    রিমি: না, তাহলে তুমি মারবে।
    শাহেদ: বুঝতে পেরেছ, তাহলে আর মারব না। যাও।

    শাহেদ যে কখন কোন বিষয়ে তার দীর্ঘ এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরবে রিমি বেচারা তা আগে থেকে বুঝতে পারেনা। এক সময় শাহেদের ইন্টারনেট বিষয়ক বক্তব্য বন্ধ হলো।
    কম্পিউটারের সামনে বসে শাহেদ রিমিকে তাড়া দিলো। “যাও, যাও ভাত বাড়োতো, অনেক খিদা লাগছে।”

    রিমি ভাত বাড়ে, ভাত খায়। ট্যাবে “পিতা ও পুত্র” ডাউনলোড করে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পরে। ঘুম থেকে উঠে ছাদে যায়। ফেরার সময় দেখে শাহেদ মনের আনন্দে ফেইসবুক চালাচ্ছে। রিমি কিছু বলেনা। ডাইনিং টেবিলে ভাত তরকারি ঢাকা পরে আছে। শাহেদ খায়নি। শাহেদকে ডাকলে বিরক্ত হবে ভেবে রাতেও রিমি একা একা খেয়ে নিয়ে “পিতা ও পুত্র” পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পরে।

    খুব ভোরে ঘুম ভাংগে রিমির। ডাইনিং এ ভাত তরকারি ঢাকা পরে আছে। কম্পিউটারের পিছনে চেয়ারে ঘুমিয়ে আছে শাহেদ। ডাকলে বিরক্ত হতে পারে ভেবে রিমি ওজু করতে বাথরুমে ঢুকে যায়।

    3
    1 Comment
Skip to toolbar