Profile Photo

Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]Offline

  • Md-Zaker-Hayat-Khan
  • আমার লেখা বই ‘খেরোখাতা’ এর অংশ বিশেষ। পাওয়া যাবে রকমারিতে।
    বই এর সাথে হোক নিত্য বসবাস।

    ছাদে একজন
    রাত সাড়ে আটটা। গালিব ছাদের রেলিঙে বিপদজনক ভঙ্গিতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই পাঁচ তলার উচ্চতা থেকে নিচের গাড়িগুলোকে খেলনা লাগে। ফ্যালনা মনে হয় সব কিছু। গালিবের ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট। ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সে নিচের ফুটপাতে চোখ রাখে। এক তরুণ দম্পতিকে দ্যাখা যাচ্ছে। এরা কি বিবাহিত? নিশ্চয়ই না। বিবাহিত দম্পতি ফুটপাতে বসে থাকবে না। গালিব আরেকটু ঝুঁকে দ্যাখে। ওরা কি বুঝতে পারে যে গালিব এক অন্য উচ্চতা থেকে ওদের দেখছে। এতো কি কথা বলে ওরা? তরুণ কি ভারী গলায় আবৃত্তি করে জনপ্রিয় কবিতা? তরুণী কি মৃদু সুরে গান গায়? নাকি ওরা কোন গোপন সাংকেতিক ভাষায় কথা বলে। যে ভাষা আর কেউ বোঝে না। রাস্তার দ্রুতগামী মানুষেরা মাঝে মাঝে শোনে ওদের ভ্রমরের মতো গুঞ্জন। চকিত চোখে ওদের দ্যাখে, ব্যবচ্ছেদ করে ভেসে আসা ধ্বনি সব, তারপর সতর্ক গুপ্তচরের মতো চলে যায়। ওরা বলে নগরে লুপ্ত ভাষার ঢল নেমেছে। কালকের পত্রিকার গরম গরম শিরোনাম। কি কথা বলে ওরা? এতো শব্দ ওদের ভাণ্ডারে? গালিব তো কোন কথা খুঁজে পায় না। তার শব্দ ভাণ্ডার তো শুন্য।
    গালিব ঘুরে দাঁড়ায়। তার চোখে আক্রোশ আর ক্ষোভ। গত দুই দিন সে মাথা কুটে মরেছে লেখার জন্য। কিন্তু একটি লাইন ও আসে নি। নেই, নেই, শব্দ নেই, ছন্দ নেই, নেই কোন অন্তমিল। গালিব কি সব ত্যাগ করে নি শুধু কবিতার জন্য? সে কি শব্দকে ভালোবেসে বিসর্জন দ্যায় নি তার সমস্ত জীবন, কতো সুখ আর কতো আশা। কৈশোরে কবিতার সাথে তার সখ্য। সে দেখেছে কিভাবে সহস্র শব্দের ঢেউ হৃদয়ের বদ্ধ দরোজায় কড়া নাড়ে। সে নিজেকে নিবিড় করে গড়ে তুলেছে একটি কবিতা লেখার জন্য। অথচ আজ নেই কোন কবিতা, নেই কোন শব্দের সৃষ্টিশীলতা। আজ সে শুন্য।
    গালিব আবার নিচে তাকায়। এখনো তরুণ তরুণী কথা বলে। গালিবের মনে হয় এই দুজন মানুষকে ঘিরে থাকা ফুটপাত থেকে অজস্র শব্দ বুদবুদ হয়ে গুনগুন করে বাতাসে মিশে যাচ্ছে। রাস্তার সবগুলো স্ট্রিট লাইটের সহস্র আলো সরল পথে ছুটে যায় তরুণ তরুণীর দিকে। গালিবের মনে হয় জীবন মঞ্চের সমস্ত স্পট লাইট এই দুজনের দিকে। আর তাদের অনেক ওপরে একাকী উচ্চতায় স্থবির গালিব আরো বেশি আঁধারে, হতাশায়।

    3
    2 Comments
Skip to toolbar