Profile Photo

Kanej-RoksanaOffline

  • Kanej-Roksana
  • Profile picture of Kanej-Roksana

    Kanej-Roksana

    8 months, 2 weeks ago

    বাচ্চাদের নিয়ে প্রথম লেখা। হারিয়ে গিয়েছিল। এগারো বছর পরে ফিরিয়ে দিল ফেইসবুক। লেখাটা কেমন ছিল জানাবেন।

    প্রজাপতি ও টুকটুকি
    সকাল থেকেই বাবা, মা ঝগড়া করছে। টুকটুকি একটা বই খুলে পড়ার ভান করছে। কিন্তু কিছুই পড়তে পারছে না। তার কানে ঝগড়ার কথাগুলো ছুটে ছুটে আসছে। বাবা মা’য়ের অনেক কিছুই তার ভালো লাগে না যেমন: এই ঝগড়াঝাটি। একটু পরে বাবা মা অফিসে চলে যায়। টুকটুকি ছবি আঁকতে বসে। বুয়া খাবার নিয়ে আসে।
    টুকটুকি বুয়াকে জিজ্ঞেস করে, ‘রহিমা কখন আসবে?’
    বুয়া জবাব দেয়, “দুপুরে”।
    রহিমা বুয়া’র মেয়ে। সরকারি প্রাইমারি স্কুলে পড়ে। দুপুর বেলা তার স্কুল ছুটি হয়। টুকটুকি দুপুর পর্যন্ত বসে থাকে। মাঝে মাঝে টিভি দেখে। একটানা টিভি দেখতে তার ভালো লাগে না। উহ! রহিমা যদি আসতো! দু’জনে মিলে কার্টুন নেটওয়ার্ক দেখা যেত! টুকটুকি ঝিমুতে থাকে। হঠাত দরজায় কলিং বেলের শব্দে ঝিমুনি ছুটে যায় টুকটুকি’র। দৌঁড়ে গিয়ে দেখে দুধওয়ালা এসেছে। টুকটুকি মন খারাপ করে। এর একটু পরেই রহিমা চলে আসে। টুকটুকি বুয়াকে বলে দু’জন কে ভাত বেড়ে দিতে।
    বুয়া বলে, “দরকার নাই আপা আপনে খাইয়া লন”।
    টুকটুকি’র রাগ হয়। “আমি রহিমা’কে ছাড়া ভাত খাব না”।
    বুয়া বাধ্য হয়ে দু’জনের জন্য ভাত বাড়ে। টুকটুকি রহিমাকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু বাবা, মা রহিমাকে পছন্দ করে না। বাবা, মা চায় টুকটুকি ডাক্তার আঙ্কেলের মেয়ের সংগে মিশুক। কিন্তু ডাক্তার আঙ্কেলের মেয়ে সায়রা সারাক্ষণ পড়ালেখা করে, কখনো খেলে না। টুকটুকি ওর সংগে মিশতে পছন্দ করে না। সায়রা যে নিজেকে অনেক বড় ভাবে তা টুকটুকি বাচ্চা হলেও বুঝতে পারে। আর টুকটুকি তো এখন বড় হয়েই গেছে, এখন যে তার বয়স পাঁচ। অনেক কিছুই সে বুঝতে পারে যদিও বাবা, মা ভাবে সে একটা ছোট বাবু। আসলে সে অনেক অনেক কিছু বোঝে যেমন; রহিমাকে বাবা-মা পছন্দ করে না। রহিমা ক্লাসে ফার্স্ট হয়। রহিমা কখনো তার খেলনাগুলো ধরে না, চুপচাপ শান্ত হয়ে বসে থাকে। তবুও বাবা-মা তাকে পছন্দ করে না। মুখে কিছু বলে না কিন্তু রাগ রাগ চোখে রহিমা’র দিকে তাকিয়ে থাকে। তাই বাবা, মা বাসায় ফিরলেই রহিমা তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যায়। টুকটুকি এখন আর কিছু ভাবে না। রহিমার সাথে খেলতে খেলতে সময় ফুরিয়ে যায়। কিছুতেই তাকে কাছ ছাড়া করতে চায় না। কিন্তু বাবা-মা এসে গিয়েছে। রহিমা তাই রন্নাঘরে বুয়ার কাছে চলে যায়। একটু পরে বুয়া আর রহিমা চলে যায়। টুকটুকি ঘরের বাইরে বাগানে গিয়ে দাঁড়ায়। বাগানের বেড়ায় একটি প্রজাপতি আঁটকে আছে। টুকটুকি প্রজাপতিটা ছাড়িয়ে দেয়। উড়ে যেতে উড়ে যেতে প্রজাপতিটা ফিসফিস করে বলে, “ধন্যবাদ।’’
    টুকটুকি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, “তুমি কথা বলতে পার?’’
    প্রজাপতি উড়তে উড়তে বলে, “হ্যা পারি, এখন বাসায় যেতে হবে, তাড়া আছে পরে তোমার সঙ্গে কথা বলব।’’
    টুকটুকি প্রজাপতির সঙ্গে যে কথা বলেছে সে কথা বাবা, মা কে বলে না। সে তো জানেই বাবা মা তার কথা বিশ্বাস করবে না। সে ঘরে গিয়ে পড়তে বসে। আজ টিচার আসবে না। টুকটুকির ভীষণ ভালো লাগে। একা একা সে লিখতে থাকে, আঁকতে থাকে।
    পরের দিন টুকটুকির গায়ে জ্বর ওঠে। মা তাকে স্কুলে যেতে বারণ করে। টুকটুকি একা একা বিছানায় শুয়ে থাকে। হঠাত বিছানা’র পাশে কয়েকটি প্রজাপতি উড়তে থাকে।
    সবাই একসঙ্গে বলে ওঠে, “মন খারাপ কেন টুকটুকি”?
    শব্দগুলো বাতাসে ভাসতে থাকে। ম-ন খা-রা-প কে-ন টু-ক- টু-কি।
    টুকটুকি বলে, “তোমরা শুনে কি করবে?”
    প্রজাপতিরা বলে, “আমরা নেচে গেয়ে তোমার মন ভালো করে দেব।”
    “না, না, নাচ-গান দেখতে চাই না।”
    “কি চাও টুকটুকি?” কালকের প্রজাপতিটা বলে ওঠে।
    “পারবে না, তোমরা আমার মন ভালো করতে।”
    “আহা, বলেই দেখ না”, ছোট প্রজাপতিটা বলে উঠলো।
    “দেখ না রহিমা আমার কাছে আসতেই চায় না, বাবা, মা যে ওকে পছন্দ করে না, তা ও বুঝতে পারে।”
    “তুমি কি চাও।” মেঝ প্রজাপতি বলে উঠলো।
    “আমি চাই বাবা, মা ওকে ভালোবাসুক।”
    “ঠিক আছে সোনা মেয়ে, আমরা তোমার বাবা, মা’য়ের মনে রহিমা’র জন্য ভালোবাসা বাড়িয়ে দেব অনেক অনেক গুন।” বড় প্রজাপতিটি বলে উঠলো।
    তারপরে প্রজাপতি’রা উড়ে গেল।
    এরপর থেকে রহিমা, টুকটুকিদের বাড়িতে অনেক রাত অবধি থাকতো, টুকটুকি আর রহিমা একসঙ্গে পড়ালেখা করতো। বাবা, মা রহিমা আর টুকটুকি’র জন্য একই রকমের কাপড় কিনতো, একই প্লেটে খেতে দিতো। শুধু প্রজাপতিরা আর কখনো কথা বলে নি টুকটুকি’র সংগে। কিন্তু টুকটুকি যখনই একটা প্রজাপতি দেখতো তখনই কথা বলার চেষ্টা করতো…

    4
    5 Comments
    • আপনার গল্পটি খুবই সুন্দর ও আবেগঘন হয়েছে —একদিকে ছোট্ট টুকটুকির নির্জনতা আর বন্ধুহীনতা, অন্যদিকে তার কল্পনার জগৎ যেখানে প্রজাপতিরা কথা বলে। এতে শিশুর অন্তর্জগত, নিঃসঙ্গতা, বন্ধুত্বের আকাঙ্ক্ষা অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে।

      • আপনি একটু বাড়িয়ে বলে ছেন। গল্পটা একটু কাচা। যাহোক, আমিও গুরুত্ব দিয়ে লেখি নাই।

      • @kanej-roksana মোটেও বাড়িয়ে বলি নাই। শুধু শুরুর অংশে বাবা–মায়ের ঝগড়ার বর্ণনা আরেকটু ছোট হলে মূল গল্প আরো গতি পেতো।

    • খুব সুন্দর

    • কল্পনাশক্তির চমৎকার বহিঃপ্রকাশ। অভিনন্দন!

Friends

Profile Photo
Rokter Sagor
@roktersagor
Profile Photo
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Profile Photo
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Profile Photo
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Profile Photo
Arif
@arif1
Profile Photo
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Profile Photo
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Profile Photo
Sharmin
@sharmin1
Skip to toolbar