Profile Photo

তাহমিনা মোরশেদOffline

  • RBTM796923t
  • শহর যখন এক জীবন্ত ক্ষত
    শহর মানে কেবল কিছু দালানকোঠা আর রাস্তার মানচিত্র নয়; শহর মানে এক অনিয়মিত হৃদস্পন্দন। ব্ল্যাকরিজের মতো শহরে বসবাস করা মানে একটি বিশাল অন্ধকার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, যেখানে নিজের প্রতিবিম্বের চেয়ে পেছনের ছায়াগুলো বেশি স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়। এখানে প্রতিটি ইটের স্তরে লুকিয়ে আছে কোনো না কোনো দীর্ঘশ্বাস, আর প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টের নিচে জমে আছে একরাশ অব্যক্ত স্বীকারোক্তি।
    এই শহরে বাস করতে হলে শব্দহীনতার ভাষা বুঝতে হয়। এখানকার বাতাস ভারি হয়ে থাকে সাইরেনের শব্দ আর বৃষ্টির গন্ধে। দিনের বেলা যে শহর নিজেকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল বলে দাবি করে, সূর্যাস্তের পর সেই শহরই তার ছদ্মবেশ খুলে ফেলে। তখন গলিগুলো হয়ে ওঠে বিচারালয়, আর ছায়াগুলো হয়ে ওঠে বিচারক। এখানে ন্যায় আর অন্যায়ের সংজ্ঞার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায় ‘টিকে থাকা’।

    শহরের এই যান্ত্রিকতায় মানুষ যখন অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন তার কাছে আবেগ নয় বরং ‘নির্ভুলতা’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিটি মোড়ে হাজারো মানুষের পদচারণা থাকলেও এখানে নিঃসঙ্গতা সবচেয়ে বড় ধ্রুবক। এখানে কেউ কাউকে চেনে না, কিন্তু প্রত্যেকে প্রত্যেকের গোপনীয়তার অংশীদার। রাস্তার পাশের দেয়াল লিখন বা ট্রাফিক সিগন্যালের লাল আলো—সবই যেন এখানে কোনো এক বড় সংকেতের ইঙ্গিত দেয়, যা পড়তে হলে সাধারণ চোখের চেয়ে ব্যবচ্ছেদকারী ছুরির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টির প্রয়োজন হয়।

    পরিশেষে, এই শহরে বসবাস মানে এক অন্তহীন অপেক্ষার নাম। কেউ অপেক্ষা করে ভোরের আলোর জন্য, কেউ অপেক্ষা করে অন্ধকারের চূড়ান্ত পরিণতির জন্য। শহরটি কাউকে ক্ষমা করে না, বরং সবাইকে তার নিজের রঙে রাঙিয়ে নেয়। এক সময় মনে হয়, আমরা এই শহরে বাস করছি না, বরং এই শহরটিই আমাদের ভেতরে তার শিকড় গেড়ে বসেছে। এখানে মানুষ কেবল মৃতদেহের ব্যবচ্ছেদ করে না, বরং শহরটি প্রতিদিন প্রতিটি মানুষের সত্তার ব্যবচ্ছেদ করে চলে।

    1
    2 Comments
হ্যাঁ বা না শব্দ দুটি সবচেয়ে পুরনো এবং ছোট। কিন্তু এ কথা দুটো বলতেই সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয়।

পীথাগোরাস

Skip to toolbar