-
“নাহ্!” নন্দিনীর একরকম কাঠখোট্টা জবাব শুনে আরিয়ান তাকিয়ে থাকে। নন্দিনী তার মুখ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়।
আরিয়ান হাত দুটো ছেড়ে দেয়। নন্দিনী হাত দুটো ঘষতে থাকে। চাইলে সে ওকে থাপ্পড় মারতে পারতো কিন্তু সে মনের ইচ্ছাকে সেখানেই দমিয়ে রাখলো।
আরিয়ান একটা সিগারেট ধরালো। সেটা মুখে করে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে।
নন্দিনী ওর দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে থাকে। আর নিজের ব্যাগ গুছিয়ে দরজার লক খুলার জন্য চাবি খুঁজতে থাকে। না পেয়ে আবার আরিয়ানের পিছনে যেয়ে দাঁড়ায়।
“চাবিটা? আমার মিটিং আছে। দেরি হয়ে যাচ্ছে।” আরিয়ান ঘুরে ওর দিকে তাকায়।
“কাজটা এতো ইম্পর্ট্যান্ট যে ভালো করে কথা বলতে পারছো না আমার সাথে? আগের মতই নিস্পৃহ ভাব।”“সেটা নিজেকে কেনো প্রশ্ন করছো না? আমিতো রক্ত মাংসের মানুষ। তোমার মতো পাথর না। অতীতের সব দোষ আমাকে না দিয়ে নিজেকে একবার প্রশ্ন কোরো, মি. আরিয়ান।” নন্দিনী এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে। তার চোখে পানি চিকচিক করছে। কিন্তু সে তা আরিয়ানের থেকে গোপন করার জন্য রুমের অন্যদিকে যেয়ে দাঁড়ায়।
আরিয়ান চাবিটা বের করে ছুঁড়ে দেয়। নন্দিনী সেটা নিয়ে দরজার লক খুলে বেরিয়ে যায় পিছনে না তাকিয়েই । তাকালে হয়তো আরিয়ানের চেহারা দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারতো না নির্ঘাত তাকে অভিশাপ দিতো। কারণ আরিয়ানের মুখে চওড়া হাসি ফুটে উঠেছে। সিরিয়াস মুহূর্তে সে এরকম ঠাট্টা তামাশা করতে পারে। এতোক্ষণ নাটক করছিলো! সিগারেট তো সেই কবেই ছেড়ে দিয়েছে। কাগজের টুকরো নিয়ে ভান করছিলো। আর ও খুব ভালো করে জানে নন্দিনী সেটা দেখে বেশি কষ্ট পাবে। কারণ, দুরত্ব শুধুমাত্র সময়ের মধ্যে বিন্যস্ত। ভালোবাসা তো সেই সময়ের বাহিরে। আর নন্দিনী যতোই মুখে বলুক না কেনো। সে জানে ওর নন্দিনী ওরই আছে।
আরিয়ান ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশ রুমে যাওয়ার পথে ফোনের সামনে দাঁড়িয়ে পরে। একটা জায়গায় যেতে হবে। সে রিসেপশনে তার গাড়ি রেডি রাখতে বলে ফ্রেশ হতে চলে যায়।
3 Comments
হ্যাঁ বা না শব্দ দুটি সবচেয়ে পুরনো এবং ছোট। কিন্তু এ কথা দুটো বলতেই সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয়।
পীথাগোরাস
Friends
Mitul hasan
@mitul
শরীফ খান
@sharifkhan
শাহ্ সাকিরুল ইসলাম
@shahsakirulislam
মো. আবু মোহাদ্দেস
@mohaddesh1967
Syed Farah
@syedfarah
Hridita Islam
@hriditaislam
খালেদা মিম
@haoyakhan
সজল
@sojol
Jannatul Ferdausi
@ferdausi


আপনি মানুষের সম্পর্কের জটিল এবং মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনকে খুব নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।