Profile Photo

ফারহান রুবায়েদOffline

  • farhanrubayed
  • নদীর পাড়ের এই জায়গাটাতে আগে কখনও আসা হয়নি! এবারই প্রথম। কেনো জানি মনে হলো আজ ঘুরে আসি।
    চারদিকে চিরচেনা কোলাহল মাঝে সঙ্গীহীন আমি। রাতের স্নিগ্ধ আকাশের নিচে বুক পেতে দেয়া রূপসা নদীর নীরব কান্না যেনো মহনীয় সুরে গেয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির বিষাদময় গান।
    উপর্যুপুরি দখিনা প্রান্তরের দমকা হাওয়া যেনো হৃদমাঝাতে গিয়ে আঘাত হানছে। নীরবে স্মৃতির ক্যানভাস মেলে ধরছে মনের আঙিনায়। মনে করিয়ে দিচ্ছে বহুকাল আগে থাকা আমার নিজস্ব নদীটার কথা।যে নদীর কোল ঘেঁষে ছিল এক ছোট্ট কুড়ে ঘর। ক্ষানিকটা মনুষ্যহৃদয়ের মতো। আর পাঁচটা নদীর পানি স্বচ্ছ হলেও আমার ছিল কৃষ্ণ কালো। মাঝে মাঝে রক্তিম ও হতো।
    রক্তিম হওয়ার কারণটা জানা ছিল। কখনও হৃদক্ষরণ হলে তখন রক্তিম হতো। তবে কৃষ্ণ হওয়ার কারণ জানা ছিল না। ধারণা করতাম না বলা কথা শুনে তার এই দশা। তবুও আমি উপভোগ করতাম। হঠাৎ এক ঝড়ো হাওয়া আমার কুড়ে ঘরটা ভেঙে দিল। সেবার ভাঙার পর ফিরে এসেছিলাম। নতুন করে গড়ে তোলার সপ্নটুকুও ফিরে দেখিনি।
    বহুকাল হলো সে নদীর কোনো খবর জানি না। জানি না তা আজ কৃষ্ণ নাকি রক্তিম! হয়তো তা আজ স্বচ্ছ প্রায়। আমার জমা রাখা কথার রেশ হয়তো এতদিনে বিলীন হয়েছে।
    সেই জীর্ণ কুটিরটার কথাও জানি না।
    কালের বিবর্তনে হয়তো সেখানে ইমারত গড়ে উঠেছে। নদীর থেকে দূরে থাকলেও তার প্রতি তীব্র টান ছোটবেলা থেকেই।
    কারও থেকে দূরে সরে না গেলে তার প্রতি থাকা অনুভূতি কখনও জেগে ওঠে না।
    এজন্যই হয়তো আকাশের প্রতি তীব্র টান এখনও অনুভূত হয়নি।
    কারণ চাইলেও তার থেকে কখনও দূরে থাকা যায় না।

    ফারহান রুবায়েদ
    রূপসা নদীর তীর
    ১৭.৩.২০২৬
    মঙ্গলবার
    রাত ৯টা ৩০ মিনিট.

    7
    1 Comment
    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 21 March 2026 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Skip to toolbar