-
মেঘকন্যা
– মারুফ সরকার মুন্নাঅনেকদিন আগের কথা—
গিয়েছিলাম রূপকথার অদ্ভুত দেশে।
হঠাৎ মেঘদলে মেঘকন্যা বসে,
শুধু কাঁদছে গোমরামুখের বেশে।
জিজ্ঞেস করলাম অবজ্ঞাচ্ছলে—কাঁদছ কেনো?
সে বলল, “সুখের মাঝে সুখ ঠাওরানো।”
অট্টহাসিতে বললাম—”আমাকে তুমি হাসালে,
আমাকে হাসির জোয়ারে ভাসালে!”
তাকে আবারও বললাম—”দেখবে আমার শব্দজাদু?”
সে কান্না থামিয়ে বলল, “নিশ্চয়ই, দেখবো কৌতূহলে।”
জাদুর থলি থেকে বের করলাম ঝর্ণাকলম,
আমি উচ্চস্বরে বলতে লাগলাম—
“শব্দজাদু দেখা এবার অষ্টরকম,
আমি শব্দজাদুকর অন্যরকম।”
মেঘকন্যার ভিতর থেকে বের করতে লাগলাম,
সুখের মাঝে সুখ ঠাওরানো অসুখ।
চারিদিকে কুয়াশার মতো ছড়িয়ে যাচ্ছিল
জাদুর ঝর্ণাকলমের ছন্দাসুখ।
মেঘকন্যার মধ্যে ঢুকিয়ে দিলাম
জাদুর উপন্যাসের বহু চরিত্রের রূপ।
থেমে গেল কান্না, পাল্টে গেল মেঘকন্যা,
জানতাম না সে যে মেঘদলের রাজকন্যা।
সে এসে বলল আমায় , “আমি ভাসছি অদ্ভুত অনুভূতির বন্যায়,
তোমার শব্দজাদুতে মুগ্ধ আমি , আজ বিয়ে করবো তোমায়।”
আমি রেগে আগুন বললাম, “আমি উদ্ভট শব্দজাদুকর,
তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না—আমি নিরুপায়! শব্দজাদুর নেশায়!”
সে বলল, “কেনো জাদুর প্রেম ছোঁয়ালে আমার মনে?
কেনো দিলে আমার মধ্যে এতো রূপ?”
আমি বললাম, “এসব বাজে কথা,
দিতে চেয়ে ছিলাম কিছুটা সুখের ঔষুধ,
দেখতে বলিনি প্রেমের সাত কুড়ি সপ্নে ডুব। ”
সে হুকুম দিলো—মেঘসৈন্যদের,
“কে কোথায় আছো? ধরে নাও এই কবিকে, বন্দী করো তাকে,
উড়িয়ে দাও সুখ পায়রা ঝাঁকে ঝাঁকে ,আমাদের বিয়ে হবে আজ।”
শব্দজাদুকরের মনের মধ্যে বাজ—
বলতে লাগলো — “আমি কবি নই, শব্দজাদুকরের তাজ।
সবার মুখে সুখানুভব দেওয়া আমার পুণ্যকাজ।
আমাকে ছেড়ে দাও, বন্দী করো না।”
আমার জন্য অপেক্ষায় আছে জীর্ণশীর্ণ চাষা ঋক্ষরাজ –
জোর করে প্রেম নেওয়া যে ঘৃণ্যকাজ,
তুমি রাজকন্যা আর আমি শব্দজাদুকর
কখনো মেনে নিবে না এই মনুষ্যসমাজ। ”
মেঘকন্যা নিষ্পাপ হরিণীর মতো তাকিয়ে
কান্নায় জর্জরিত কণ্ঠে বলল—
“তোমার অন্তরে আমার আবাস গৃহ,
তবুও তোমার পায়ের অধোদেশে আমার স্বর্গবাস।”
আমি বললাম, “আমি সর্বজনীন, সবার মাঝে থাকতে চাই,
মেঘদলে থাকলে বাকীদের হবে সর্বনাশ।”
মেঘসৈন্যরা আমাকে বেঁধেছে বজ্রশিকল দিয়ে,
শত চেষ্টাতেও খুলতে পারছি না ছট্ফটিয়ে।
জাদুর ঝর্ণাকলম ঘেঁষে বলতে লাগলাম বীজমন্ত্র—
“পোষা অদ্রিঙ্গ ভৃঙ্গরাজ, শশশৃঙ্গ দৈত্যরাজ, নিয়ে যাও প্যাঁচিয়ে।
শব্দজাদু দেখা এবার অষ্টরকম,
আমি শব্দজাদুকর অন্যরকম।”
হুরুস করে নুরুস নড়ে ছিনিয়ে,
এক নিমিষেই উধাও হলাম রূপকথার দেশে।
কিন্তু ঝর্ণাকলম মেঘকন্যার স্পর্শে ভেঙে গেল
দুই অংশে — এক অংশ আমার কাছে,
অপর অংশ মেঘকন্যার হৃদয়ের পাশে।
হারিয়ে গেল জাদুর ঝর্ণাকলম খন্ডাংশে,
মিশে গেল তার কিছু শব্দাংশে।
হাজারো স্মৃতির বিজোড়ে রূপকথার দেশে যাওয়া হয় না,
মেঘদলে কেমন আছে মেঘকন্যা?
মেঘের আড়াল থেকে মেঘকন্যা কান্নার অশ্রু গড়িয়ে,
বৃষ্টি হয়ে আমার শরীর ভিজে যাচ্ছে।
সে কাঁদছে কেনো? সে কি কষ্ট পাচ্ছে আমার জন্য?
সে আমাকে ডাকছে কেনো? আমি তো কবি নই!
আমি শব্দের জাদুকর, সবার প্রণয়ে থাকতে চাই,
শব্দ দিয়ে খেলা করি, খেলা দেখাই।
যদি কারো ভালো লাগে, আমাকে খুশি করে তিন আনা,
সুখ দেয় বেশী বা কম—আমি তাতেই খুশি দারুণরকম,
আমি শব্দজাদুকর বাকবাকম,
শব্দজাদু দেখা এবার অষ্টরকম,
আমি শব্দজাদুকর অন্যরকম।2 Comments
Friends
Rejwana Khan
@rejwana-khan
প্রলয় সাহা
@praloyshaha
MD. Zohurul Islam
@md-zohurulislam
হাসনাত সৌরভ
@hasnat21
ডাঃ এম হোসন
@mosarefhoseingmail-com
Awal
@awal
Syed Farah
@syedfarah
এস এম চন্দন
@chandankhulna26gmail-com
মোঃ মেহেদী হাসান মিয়া
@mehedihasan2

শব্দজাদুকর আর মেঘকন্যার এই রূপকথাটা পড়তে পড়তে হাসি আর বিষাদ একসাথে এলো। “ঝর্ণাকলম মেঘকন্যার স্পর্শে ভেঙে গেল দুই অংশে” — এই বিচ্ছেদের ছবিটা মনে গেঁথে গেল। দারুণ কল্পনাশক্তি!