Profile Photo

মারুফ সরকার মুন্নাOffline

  • maruf-sharker-munna
  • মোমবাতির আলোর সংকেতবাহী অন্ধবিশ্বাস
    ফিজিক্সের ম্যাথের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে
    দৌড়াচ্ছিল প্রেমময় ঈশ্বর—
    নশ্বর ম্যাথম্যাটিক্যাল টার্মে নিভে গেলো আলোর ধ্রুবদ্রুতি।
    প্রবলবেগে ঝড়ের গতি আমাকে উপহার দিলো
    নিথর, শীতল দেহ;
    মৃত্যের দেবতা আমাকে দেখছে
    কামুকতার অর্ধনগ্ন শরীরে।
    অর্ধনগ্নতাকে ছুঁড়ে ফেলে
    সেচ্ছায় সংবেদনশীল, নগ্ন দেহে দাঁড়িয়ে পড়লাম মৃত্যুর দেবতার কাছে;
    আমার নগ্ন শরীর দেখে মৃত্যুর দেবতাও লজ্জা পাচ্ছে,
    সেচ্ছায় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আমি, অবিনশ্বর—ঈশ্বর।
    গভীর রাতে জেগে উঠেছিল আমার সম্ভোগ, উত্তেজনা, বিশ্বাস, প্রেম, ভালোবাসা।
    যে ভালোবাসা আমার হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে রেখেছে,
    হাজারো নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে,
    পুরানো ওয়াইনের গ্লাসের পবিত্র মদ
    আমার আত্মাকে স্বর্গীয় তৃপ্তি দিচ্ছে;
    মদের নেশার থেকেও হাজারগুণ শক্তিশালী ঈশ্বরীয় নাশকতায়
    জড়িয়ে পড়ে আমার মধ্যরাতের ভাবনা।
    ধর্মের শিকল ভেঙে,
    আমি লিন্ডার প্রেমে সফল হয়েছি।
    আমি সেই আফ্রোদিতির ধর্মযাজিকা হেরো,
    কিন্তু চিরন্তন জয়ী হওয়ার পরও
    ঈশ্বরের অভিশাপের মাহাত্ম্যে ডুবে মরেছি
    জলের হলাহল কোলাহলে।
    শীতল দেহে উত্তাপ ছড়ানোর জন্য
    শক্ত করে ঝাপটিয়ে ধরেছিলাম আমার বস্ত্রহীন উষ্ণদেহ;
    উষ্ণতার প্রভাব ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়ে,
    ক্রমশ আমার শরীরও শীতল হয়ে গেলো।
    এই হিমজলের তলে ডুবে রইল
    চুম্বনরত, দুই উদ্বেগহীন, উত্তেজনাহীন, নিথর, নিষ্পেষিত দেহ।
    আমি আমার প্রেমিকের চোখের দিকে শেষবারের মতো তাকিয়ে
    অশ্রু দেখেছিলাম।
    এই অশ্রুর মর্মার্থ শুধু ঈশ্বরই জানেন।

    কবিতাঃ হেরো
    কবিঃ মারুফ সরকার মুন্না

    7
    3 Comments
    • পুরাণের হেরো আর লিয়েন্ডারের গল্পকে এত আধুনিক ভাষায় এঁকেছেন যে পড়তে পড়তে মনে হলো এটা আজকের কথা! অনবদ্য!

    • পুরাণের সেই হেরো এবং লিন্ডারের ট্র্যাজিক প্রেমকে আপনি যেভাবে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান আর আধ্যাত্মিক নেশার সাথে মিলিয়েছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য!

    • এক কথায় অসাধারণ।

Skip to toolbar