Profile Photo

ফেরদৌস আহমেদ আকবরOffline

  • Akbarhossen1
  • “জাদুর বাক্স”
    -ফেরদৌস আহমেদ আকবর
    নদীর পাড়ে দাড়িয়ে আরাফাত চিৎকার করে উঠল—
    “ওই দেখ! একটা বাক্স ভেসে যাচ্ছে!”
    সবাই দৌড়ে এলো নদীর পাড়ে। সত্যিই, মাঝ নদীতে একটা কাঠের বাক্স ভেসে চলেছে। বাক্সটার গায়ে সোনালী রঙে লেখা—
    “খুললে হাসি, না খুললে আফসোস!”
    গ্রামের সবাই হতবাক। কেউ বলল, “এটা নিশ্চয়ই ভূতের জিনিস!”
    আরেকজন বলল, “না না, এটা তো গুপ্তধন!”
    শেষমেশ সাহস করে আরাফাত আর তার বন্ধু মনি একটা ছোট নৌকা নিয়ে বাক্সটার কাছে গেল। অনেক কষ্টে তারা বাক্সটা টেনে পাড়ে নিয়ে এলো।
    সবাই নিশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে।
    আরাফাত বলল, “খুলবো?”
    মনি বলল, “খুল! যা হওয়ার হবে!”
    বাক্সটা খুলতেই—
    ঢুসসসস!
    হঠাৎ করে ভেতর থেকে রঙিন বেলুন, কাগজের পাখি আর একখানা ছোট্ট টেপ রেকর্ডার বের হলো। টেপটা নিজে থেকেই বাজতে শুরু করল—
    “হা হা হা! যারা ভেবেছো এটা সোনা-দানা, তারা একটু হাসো! মন খারাপ করো না!”
    তারপর একের পর এক মজার কৌতুক বাজতে লাগল।
    গ্রামের মানুষ হাসতে হাসতে লুটোপুটি খেতে লাগল। এমনকি সেই গম্ভীর মুরুব্বি কলিম চাচাও হেসে বললেন—
    “এই বাক্সটা তো গ্রামের জন্য আশীর্বাদ!”
    কিন্তু আসল মজাটা তখনো বাকি।
    হঠাৎ বাক্সের ভেতর থেকে একটা কাগজ বের হলো। তাতে লেখা—
    “যে এই বাক্স পাবে, সে অন্যদের হাসাবে—এটাই আসল জাদু!”
    তারপর থেকে গ্রামের নিয়ম হয়ে গেল—
    প্রতিদিন সন্ধ্যায় সবাই নদীর পাড়ে বসে, সেই জাদুর বাক্স খুলে হাসির গল্প বলে।
    আর বাক্সটা?
    কখনো নিজে নিজেই নদীতে ভেসে আবার হারিয়ে যায়…
    আবার কোনো একদিন, নতুন কারো কাছে গিয়ে হাজির হয়—
    শুধু হাসি ছড়াতে

    5
    2 Comments
    • গল্প অল্প হলেও নির্মল আনন্দে মনটা আদ্র হয়ে উঠল! এমন আরো ক্ষুদেসাহিত্য পড়ার অপেক্ষায় রইলাম!

    • আমরা সবাই যখন সোনায় মোড়ানো গুপ্তধন খুঁজি, তখন আপনি মনে করিয়ে দিলেন এক চিলতে হাসির মূল্য কত বেশি। জাদুর বাক্সের ধারণাটি চমৎকার!

Friends

Skip to toolbar