Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • Profile picture of রাহেনা বেগম

    রাহেনা বেগম

    5 months, 1 week ago

    অনেক অনেক বছর পরেও আমরা কোন উদাহরণ দেওয়ার সুযোগ পেলাম না।কোন অপরাধী ই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেলো না।

    “হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,
    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!
    মানুষের অধিকারে
    বঞ্চিত করেছ যারে,
    সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান,
    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।”
    ——-
    রোহান আমার ছোট ছেলে সে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। তাকে আমি নাগরিক অধিকার পড়াছিলাম। সামাজিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার,এই গুলো পড়াচ্ছিলাম। প্রত্যেক অধিকার বুঝাতে তাকে বাস্তব উদাহরণ দিয়ে আমি বুঝিয়ে থাকি। যেমন- “বেঁচে থাকার অধিকার সকল অধিকারের মধ্যে অন্যতম।”
    তুমি যেখানে যে পেশায়, যে অবস্থায় থাকো না কেন তোমার বেঁচে থাকার অধিকার আছে।
    তবুও আমরা মানুষ, তাই অনেক সময় আমরা আমাদের নিজেদের জীবনকে না বাঁচিয়ে অন্যকে বাঁচিয়ে রাখি।
    যেমন ফায়ার ফাইটার সোহেল। তিনি কিন্তু নিজের জীবন এর কথা চিন্তা না করে অন্যদেরকে বাঁচিয়েছেন।

    আমি রোহানকে আইনের অধিকার বোঝাতে গিয়ে দ্বিধা দ্বন্দে পড়েছি। বই এ লিখা আছে- আইনের চোখে সবাই সমান।
    আমি ওকে বলেছি- সে যেই হোক, অপরাধ করলে সে শাস্তি পাবেই। গরীব, বড়লোক, সবারই সমান বিচার।
    “ধরো তুমি যদি শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ করো আইনে তার জন্য যে শাস্তি আছে তাই তুমি পাবে, আমি তোমাকে অপরাধী হিসেবে আইনের হাতে তুলে দিবো। কারণ আমি এদেশের নাগরিক, এ দেশের জন্য আমার দ্বায়িত্ব আছে। আমার দ্বায়িত্ব আমি সঠিক ভাবে পালন করবো।”

    একথা শুনে রোহানের চোখের কোনে দেখি পানি টলমল করছে, সে আমার কাছে জানতে চাইলো “সত্যিই কি আমি ওকে আইনের হাতে তুলে দিবো কি না?”

    আমি উত্তর দিলাম – অবশ্যই দিবো।
    কারণ আমি কোন অপরাধীকে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দিতে পারিনা।

    তখন সে বললো” সবার আম্মুরাইকি তাই করে?” এবার আমার গলার আওয়াজ নেমে গেলো, তবে থেমে গেলাম না। আমি ওকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম- তোমার মতে সবার আম্মুর কি করা উচিৎ?
    ও আস্তে আস্তে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বললো- “তোমার মতই করা উচিৎ।”

    না আমি রোহানের কাছে জিতে যাইনি, আমি জিতে যেতাম যদি ওকে একটিও সঠিক উদাহরণ দিতে পারতাম।
    আজকাল পত্র- পত্রিকা, টেলিভিশন, মোবাইল এর সুযোগে দেশের কোথায় কি ঘটছে তা সবাই ইচ্ছা না থাকলেও জেনে যায়। প্রতিটি হত্যা,দূর্ঘটনা খুন সবকিছুই এই শিশুরা জানতে পারে, কিন্তু তারা জানতে পারেনা এই অপরাধ গুলো যারা ঘটাচ্ছে তাদের কেউই কি শাস্তি পাচ্ছে?
    যদি তারা এদের ভয়ংকর শাস্তির কথা জানতে এবং দেখতে পেত তবে কখনোই অপরাধ করার কথা চিন্তা করতে পারতো না।
    আমি চাই এই শিশুদের বই এ নাগরিক অধিকার নিয়ে যখন তারা পড়ছে, তখন সাম্প্রতিক কোন অপরাধের শাস্তির কোথাও উল্লেখ থাকুক তাতে। যাতে ওদের ছোট বেলা থেকেই আইনের উপর শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং সন্মান গড়ে উঠে।

    আমি খুব আশাবাদী একজন, তাই আশা করে থাকলাম নূসরাত এর বিচার দিয়েই শুরু হোক।
    দ্রুত ট্রাইবুনালের মাধ্যমে নুসরাতের হত্যাকারীর বিচার কায্যকর করে তার শাস্তি হোক, আমি রোহানকে একটা সুন্দর, সত্যি বাস্তব উদাহরণ দেই।
    আগামী বছর যারা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়বে তারা তাদের বইয়ে এই উদাহরণ দেখবে।

    #রি -পোস্ট
    ১২/০৪/২০১৯

    6
    2 Comments
    • এর পরেও ভাংগা টেপ রেকোর্ডারের মতো বেজেই চলে ……………”আইনের চোখে সবাই সমান”…………হায়রে দেশ! হায়রে আইন!!

    • বইয়ে অধিকারের কথা লেখা আছে, কিন্তু বাস্তবে সেই অধিকারের প্রমাণ দেওয়ার মতো উদাহরণ নেই। এই শূন্যতাটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক!

Friends

Profile Photo
naznin shamim
@nazninshamim
Profile Photo
Md Mofiz
@mdmofiz
Profile Photo
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
Profile Photo
wajibad
@wajibad
Profile Photo
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
Profile Photo
Intisar Jabed
@intisarjabed
Profile Photo
মেঘ
@megh
Skip to toolbar