Profile Photo

অয়ন আবদুল্লাহOffline

  • ayoNabdullah140
  • Profile picture of অয়ন আবদুল্লাহ

    অয়ন আবদুল্লাহ

    • 6 months, 2 weeks ago

    নেতাদের থেকে ভারতকে বাঁচাও
    মূল প্রবন্ধ- সাদাত হাসান মান্টো
    অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ

    অনেক দিন ধরেই একই ধরনের ক্যাওয়াজ শুনে আসছি- “ভারতকে এটা থেকে বাঁচাও, ওটা থেকে বাঁচাও। কিন্তু আসল কথা হলো, ভারতকে ঐসব লোকদের হাত থেকেই বাঁচাতে হবে যারা এই ধরনের ক্যাওয়াজ তৈরি করছে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই যে, ক্যাওয়াজ করার ব্যাপারে এই লোকগুলো বেশ ওস্তাদ। কিন্তু আসলে তাদের মনে এই সব বিষয়ে ভাবনার লেশমাত্র নাই। কোনো সমাবেশে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে রাতে যখন এরা নিজেদের নরম, আরামদায়ক বিছানায় ঘুমাতে যায়, তখন তাদের মনটা একেবারে ফাঁকা থাকে। এমনকি রাতের গভীরতম সময়টাও এদের কাটে ভারতের দুর্দশার কথা না ভেবে। বস্তুত, এরা নিজেদের ভাবনায় এতোটাই বুঁদ হয়ে থাকে যে, স্বদেশের দুর্দশার কথা চিন্তা করার সময়টা পায় না।

    এইসব লোকেরা নিজেদের ঘরই সামলাতে পারে না। এদের চরিত্র খুবই খারাপ, কিন্তু এরাই দেশের অবস্থার উন্নতি করতে আর মানুষকে নৈতিকতা শেখাতে রাজনীতির ময়দানে নেমে এসেছে! খুবই হাস্যকর বিষয়, তাই না!

    এরা সাধারণত নেতা হিসেবে পরিচিত; এরা রাজনীতি ও ধর্মকে পঙ্গু, বিকলাঙ্গ ও আহত বলে মনে করে। তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রায়শই আমাদের ব্যাবসায়ীদের ভিক্ষাবৃত্তিতে প্ররোচিত করে। এই প্রখ্যাত নেতারা রাজনীতি ও ধর্মের মৃতদেহ নিজেদের কাঁধে বয়ে বেড়ায়। অন্যদিকে উচ্চ কণ্ঠের আদেশ মেনে নিতে অভ্যস্ত সরলমনা লোকেরা বলতে থাকে যে এই নেতারাই সেই মৃতদেহকে নতুন জীবন দিচ্ছে।

    ধর্ম যেমন ছিল, তেমনই থাকবে। ধর্ম এক অটল বাস্তবতা যা কখনো বদলাতে পারে না। এটা এমন শিলা যাকে সাগরের ভয়ংকর ঢেউও নাড়াতে পারে না। যখন এইসব নেতারা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলে যে ধর্ম বিপদে পড়েছে, তখন তাতে কোনো সত্য থাকে না। ধর্ম তেমন কিছু নয় যা বিপন্ন হতে পারে; যদি কিছু বিপদে পড়ে, তবে সেটি হলো তাদের স্বার্থ যা ঠিক রাখতে এরা ধর্মকে ব্যবহার করে।

    ভারতকে সেইসব নেতাদের হাত থেকে বাঁচান যারা দেশের পরিবেশ নষ্ট করছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আপনি হয়তো জানেন না, তবে এটা সত্যি যে ভারতের এই তথাকথিত নেতারা বগলের নিচে একটি বাক্স নিয়ে ঘোরে এবং সবার পকেট থেকে টাকা সংগ্রহ করে। পুঁজির পেছনে ছোটাছুটি করাই তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে ভণ্ডামি আর বিশ্বাসঘাতকতার দুর্গন্ধ অনুভব করা যায়।

    এরা ফুলের ভারী মালায় ভারাক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ মিছিলের নেতৃত্ব দেয় আর পথের মোড়ে দীর্ঘ বক্তৃতার নামে গলাবাজি করে। অন্তঃসারশূন্য কথা বলে আমাদের এই তথাকথিত নেতারা কেবল নিজেদের জন্যই বিলাসিতা ও ভোগবিলাসের পথ প্রশস্ত করে।

    এই নেতারা দান সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা কি কখনো বেকারত্বের কোনো সমাধান দিয়েছে? এই লোকেরা ধর্ম নিয়ে গলা ফাটায়, কিন্তু তারা কি কখনো নিজেরা ধর্মের নিয়মকানুন মেনে চলেছে? এই লোকেরা দানের ঘরে বাস করে, দানের টাকায় খায়, সস্তা জিনিস খেয়ে জীবন কাটায়। এদের আত্মা পঙ্গু, মস্তিষ্ক বিকল, জিহ্বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং হাত-পা আহত। এরা কীভাবে দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেবে?

    ভারতের নতুন সুরে গান গাওয়া অগণিত নেতার প্রয়োজন নেই। এই দেশে প্রয়োজন কেবল এমন একজন নেতার, যাঁর মধ্যে থাকবে হযরত উমরের মতো সততা, আতাতুর্কের মতো সৈনিকসুলভ চেতনা। যিনি দৃঢ় পায়ে গর্বের সাথে এগিয়ে আসবেন এবং জাতির লাগামহীন ঘোড়ার লাগাম তুলে দিয়ে, বীরত্বের সাথে তাকে স্বাধীনতার রণক্ষেত্রের দিকে নিয়ে যাবেন।

    মনে রাখবেন, যাদের মুখমণ্ডল (অসন্তুষ্টিতে) কুঁচকানো, তারা কখনোই জাতির সেবা করতে পারবে না। এরা কেও গুরুভার নিয়ে জাতির সেবা করতে এগিয়ে আসলে তাকে বিতাড়িত করুন। শক্ত মাটিতে ঘুমাতে অভ্যস্ত এবং নরম ও কোমল পোশাকে অনভ্যস্ত জনগণকে সবুজ কম্বলে আবৃত এইসব নেতারা নেতৃত্ব দিতে অক্ষম। যদি রেশমি পোশাক পরা কোনো ব্যক্তি আপনাকে নিজের দুর্দশার কথা বলতে সাহস করে, তবে তাকে তুলে নিয়ে যেখান থেকে এসেছে সেখানেই ছুঁড়ে ফেলে দিন।

    এই নেতারা জাতির দেহে বাসা বাঁধা ছারপোকার মতো। ঘৃণার জ্বলন্ত অঙ্গার দিয়ে তাদের বিতাড়িত করতে হবে। এই নেতারা পুঁজি ও পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে শুধুমাত্র নিজেদের সম্পদ আহরণ করতে। তারা তো পুঁজিপতিদের চেয়েও জঘন্য! তারাই সব’চে বড় চোর, সব’চে বড় দুষ্কৃতিকারী। তাদের প্রতি জনগণের অনাস্থা প্রকাশ করার সময় এসে গেছে।

    হতাশাগ্রস্ত যুবকদের জেগে উঠতেই হবে।এইসব তথাকথিত নেতাদের তাদের উচ্চাসন থেকে নামিয়ে আনার দৃঢ় সংকল্প তাদের প্রশস্ত বক্ষে ধারণ করতে হবে এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের অনুমতির তোকাক্কা না করে তারা সেই আসনে অধিষ্টিত হয়ে আছে। আমাদের প্রতি, আমাদেরই মতো দরিদ্র ভাইদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর কোনো অধিকার তাদের নেই। মনে রাখবেন, দারিদ্রতা কোনো অভিশাপ নয়। যারা একে অভিশাপ দেয়, তারা নিজেরাই অভিশপ্ত। একজন গরীব লোক একজন ধনী লোকের চেয়ে লক্ষ গুণ উত্তম, যে নিজের কাজ নিজেই করে। আপন নৌকার মাঝি হও, নিজের লাভ-ক্ষতির কথা ভাবো। তারপর এইসব নেতাদের, এই তথাকথিত পথপ্রদর্শকদের কাণ্ড দেখো- জীবনের বিশাল সমুদ্রে তারা কীভাবে নিজেদের সম্পদপূর্ণ ভারী জাহাজটি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে!

    3
    3 Comments
    • মান্টো-র ভাষার ধার আর তিক্ত সত্যকে আপনি যেভাবে বাংলায় রূপান্তরিত করেছেন, তা এক কথায় অনবদ্য।

    • একজন নেতার সততা এবং সেবাই তার প্রকৃত সম্পদ, আমাদের এমন নেতা দরকার যিনি সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ!

      হ্যাঁ, আমরা নিজেরাই আমাদের লিডার হতে পারি, এই রকম সাহসী এবং সত্যবাদী লেখা আমাদের আশা দেয় যে পরিবর্তন সম্ভব, যদি আমরা পরিবর্তন হই !

Skip to toolbar