Profile Photo

rahat shamsOffline

  • rahatshams
  • Profile picture of rahat shams

    rahat shams

    1 month ago

    || ভাবনাকথন ||

    ~ আচ্ছা, তোমার মন থেকে ভালো লাগে কোন ভাষা?
    নিশ্চয় বাংলা ভাষা। এটা আমার মা, যাঁকে তাঁর মৃত্যুর আগে আমি ভালবাসতাম এবং মৃত্যুর পর তার আরাধনা করি, উনি যে ভাষা আমাকে দিয়ে গেছেন তা প্রাণের মধ্যে গেঁথে গ্যাছে। তবে ইংরেজি বড় ভাল্লাগে এর কারণ এটা খুব স্ট্রেইট কাট। ইনিয়ে বিনিয়ে না বলে যেটা বলার সেটা খুব সরাসরি বলে ফ্যালে। তবে কিছু কথা আছে যেগুলো একটু ইনিয়ে বিনিয়ে শুনতেই ভালো লাগে। সরাসরি শুনলে বা বললে সেটার মূল আবেদনটা কমে যায়। তারপর উর্দু এবং হিন্দি ভালো লাগে কারণ এ ভাষাগুলো যেনো সুর, লয়, তাল এবং বিনয়ের জন্যই বিশেষভাবে নির্মিত মনে হয়। তারপর যদি নাম আসে তাহলে ফার্সি ও স্প্যানিশ ভাষা আসবে তাদের আধ্যাত্মিক মাধুর্যের কারণে, তাদের প্রেমের আবেগকে তারা তাদের ভাষায় যেভাবে বাঙময় করে তোলে, সে বিশেষ দিকটির কারণে। আর কিছু ভাষা আমার কানে কেনো যেনো ভালো ঠ্যাকে না। যেমন জার্মান ভাষা আছে খানিকটা ঠিকঠাক, তবে রুশ ভাষা খুব বর্বর শোনায় আর আরবি ভাষাটা আমার কাছে শ্রেফ ন্যাকামি আর ভণ্ডামি মনে হয়। কেউ কিছু মনে নেবেন না কারণ জন্মগতভাবে আমিও ইসলাম ধর্মাবলম্বী, যদিও মুসলিম হতে না পারাটা আমার অযোগ্যতা হিসেবেই নেবেন।
    ~ কোন দেশ ভালো লাগে তোমার?
    এ প্রশ্নটা আমার কাছে বোকা বোকা রাজনৈতিক বলে মনে হয়। আসলে এই পৃথিবীতে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধ ব্যতীত কিংবা বিশেষ কোনো প্রয়োজন বা শক্তিশালী শাসকশ্রেণীর কাছ থেকে পরিত্রান পাবার হেতু ব্যতীত কোনো দেশ সৃষ্টি হয়েছে? হয়নি। হবেও না। আসলে দেশ ব্যাপারটাকে দেশাত্মবোধক করার পেছনে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক কারসাজিই বেশি আছে বলে আমার মনে হয়। আমার কাছে পুরো পৃথিবীটাই একটা দেশ। পৃথিবীর সকল মানুষ একসাথে থাকবে, একসাথে ভালবাসবে একে অপরকে, একসাথে বন্ধুত্ব করবে। শত্রুতা হলে ওকসাথে মিটিয়ে নেবে। যারা মেধাবী, ত্যাগী আত্মিকভাবে ভালবাসতে জানেন এবং জন্মগতভাবে নেতৃত্ব দেবার অধিকারী- তারা নেতা হবেন। কারণ নেতা তৈরি হয় জন্মগতভাবে, নেতা তৈরি করা যায়না। যারা জন্মগতভাবে বুদ্ধিমান এবং খুব ভালোমতো সব কিছু সততার সাথে পূঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব করে সব কিছু সামলায়ে উঠতে পারেন – তারা হবেন ব্যবস্থাপক। আমি এরকমই একটা দেশহীন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি। কিন্তু মানুষ এতো বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে যে আমাদের অতীতের দিকে তাকালে যতগুলো দেশ খুঁজে পাওয়া যেতো ভবিষ্যতে তার সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বাড়বে বৈকি কমবে না বলেই বোধ হয় বৈকি! প্রাণীজগতে অতিরিক্ত বুদ্ধিমান হবার কিছু নেতিবাচক প্রভাব তো থাকবেই যে তারা অতিরঞ্জিত কিছু করবে নিজেদেরকে অমর করার লোভে। তবে প্রকৃতি আর সময় তো রৈখিকতা মেনে চলেনা, বরং চলে চক্রাকারে। প্রকৃতিই আবার সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে দেবে- সেটা ধ্বংসের মাধ্যমে হোক কিংবা নতুন কিছু সৃষ্টির মাধ্যমে। প্রকৃতি কিংবা আরেক অর্থে এই প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা ভালো এবং মন্দ কোনো কিছুতেই বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না। সে চায় ভালো এবং মন্দ একসাথেই থাকুক, তারা আরও উন্নত হোক এবং সৃষ্টির উৎসমুখী হয়ে উঠুক।
    ~ তাহলে কি ভালো কিংবা মন্দ একই বৃত্তের অংশ? পৃথকতা নেই?
    ব্যাপারটা সেরকম না। হ্যাঁ জন্মগতভাবে তারা একই বৃত্তের অংশ। এবং তারা দিন-রাত্রি বা আলো- অন্ধকারের মতো পাশাপাশি চলে। তাই তো তারা সম্পূর্ণভাবে পৃথকভাবে থেকেও একই সাথে সৃষ্টি যাপন করতে পারে। তারা যেনো পয়সার দুটো আলাদা দিক। একই পয়সার অংশ তবে কেউ কারো সাথে মিলবেনা। এই মিলিয়ে ফ্যালার কাজটাই তো অসততা, ন্যাকামি, ভণ্ডামি, চাতুরী। এটা প্রকৃতি হতে দেবে না। হয় তুমি পয়সার এপিঠে থাকো নয়তো অন্য পিঠে। আসলে ভালো কি? সহজ ভাবে ভালোত্ব বলতে আমি সেটাই বুঝি যা ব্যক্তি মানুষের নিজের এবং তৎসংশ্লিষ্ট কোনো কিছুর কোনো ক্ষতি করবে না। আর মন্দত্ব ঠিক এর উল্টোটা। কিন্তু এখন ভালোত্ব এবং মন্দত্ব এমন ভাবে মিশে যাচ্ছে যে তাকে সহজে আর আলাদা করা যাচ্ছে না। বা প্রাথমিকভাবে যে প্রাচীন মানদন্ড ঠিক করা হয়েছিল এই দুটোকে নিয়ে সেটা আর আমাদের স্বার্থের কারণে ঠিক থাকছে না। কাজেই নতুনভাবে মানদন্ড ঠিক করা উচিত। তা না হলে এক সময় যে মানুষটিকে আমি পরম শ্রদ্ধা করবো, সেই একই মানুষকে পরবর্তীতে চরম ঘৃণ্য বলে মনে করবো। নৈতিকভাবেও মানুষদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে একটা বাই পোলার পার্সোনালিটি বা অরিজিনালিটি থাকবে কিন্তু তা যখন সামগ্রিকভাবে বর্ডারলাইন হয়ে ওঠে তখন তা সামগ্রিক ভাবে সমস্যা সৃষ্টি করে। হয়তো প্রকৃতিই এমন চায়। সে চায় অমৃত আর গরল একসাথে মিশে নতুন ধরনের কোনো অমৃত কিংবা গরল সৃষ্টি হোক। তবুও প্রকৃতি চাইবে না তারা অমর হোক। ভালোত্ব যতই ভালো হোক সেও অমর নয় অপরপক্ষে মন্দত্ব নিয়েও একই কথা। সে যতো ক্ষুরাধার বুদ্ধিমান হোক মরতে তাকেও হবে। এই অমৃত আর গরলের যে মন্থন, সেটা না হলে পুরো প্রকৃতিই ভেঙ্গে পড়বে। প্রকৃতি আর দেবতুল্য বা ঈশ্বরের মতো কারো জন্ম দিতে পারবেনা কিংবা অসুর বা ইবলিশতুল্য কারো সৃষ্টি হবে না। তবে এ মন্থনে লাভ কি? মানুষকে সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে প্রকৃতি পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। এর কারণ হলো প্রকৃতি চায় তারা তাদের এই সীমাবদ্ধতা তাদের একাত্মতা দিয়ে অতিক্রম করুক, বিচ্ছিন্নতা দিয়ে নয়। সমস্ত মস্তিষ্ক, সমস্ত আত্মা এককে রূপান্তরিত হলে কি হতে পারে ভাবা যাই? তাই এর কারণও আমাদের এই সীমাবদ্ধ জ্ঞানের আলোকে পরিষ্কারভাবে চিন্তায় আনা সম্ভব নয়। তবে আমার বৃক্ষের দিকে তাকালে, অন্তরীক্ষ চোখে পড়লে একটা বোধ কাজ করে। জানিনা সে বোধ সঠিক কিনা। আমার মনে হয় প্রাকৃতিক এ মন্থন শুধু তার সৃষ্টিকে আরও উন্নত করার প্রয়াস কিংবা সেটা যদি তা না পারে তাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবার বাতিক।
    ~ তাহলে এদের মধ্যে ধর্মটাকে কিভাবে দেখবেন?
    এই যে এতোক্ষণ যে মন্থন নিয়ে কথা বললাম। সেটাই তো ধর্ম বা ধর্মাবতার সৃষ্টি করেছে এবং অপরপক্ষে অধর্ম বা অধর্মাবতার তৈরি করেছে। আমি সবসময়ই বলি ধর্ম হলো প্রাচীন রাজনীতি আর রাজনীতি হলো আধুনিক ধর্ম। এই যে এতো ভালোত্ব এবং মন্দত্বের মিশে যাবার মন্থন, সে মন্থনে ধর্ম যেমন শক্তিশালী হয়েছে, সমৃদ্ধ হয়েছে, ঠিক সেভাবেই অধর্মেরও চূড়ান্ত প্রসার হয়েছে। তবে প্রকৃতি বা ঈশ্বর আপনি যাই বলেন না ক্যানো লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সে ধর্ম এবং তার প্রেরিত ধর্মাবতার পাঠিয়েছে শুধু মানুষের মধ্যে একটা সফটওয়্যার ইন্সটল করার জন্য। আর সেটা হলো বিবেক। এখন নীতি-নৈতিকতা বা ভালো-মন্দ যাচাই করার জন্য আপনার আর অন্য কারো কাছে যাবার দরকার নেই। আপনার বিবেকই বলে দেবে আপনি কোন পথে আছেন। এই জন্যই যখন সর্বশেষ ধর্ম পৃথিবীতে আসে তখন বলা হয় এরপর আর কোনো ধর্ম আসবেনা। আসলে আসবেনা তা বলা হয়নি বলা হয়েছে এরপর আর কোনো ধর্মের প্রয়োজন নেই। কেননা প্রকৃতি বা সৃষ্টিকর্তা যেভাবেই আমরা তাকে মানি না ক্যানো, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের মধ্যে এই বিবেক নামক সফটওয়্যার ইন্সটল করে দেয়া। এবং সেটা একবার হয়ে গেলে মানুষের জন্য আলাদা কোনো পথপ্রদর্শকের দরকার নেই। তার বিবেকই হবে তার শ্রেষ্ঠ পথ নির্দেশক।

    5
    2 Comments
Skip to toolbar