Profile Photo

AlockOffline

  • alock
  • Profile picture of Alock

    Alock

    1 month ago

    “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”
    ✍️এক
    বরাবরের মতো রবিন ও তার এক বন্ধুর সাথে স্কুলের বারান্দা ধরে তার ক্লাসরুম একেবারে স্কুলের শেষের কক্ষের দিকে যাচ্ছিল। এদিকে স্কুল মাঠে তখন স্কুলের আন্তঃজেলা ফুটবল প্রতিযোগিতার প্রাতঃকালীন প্র্যাকটিস চলছিল। হঠাৎ তার এক বন্ধু জোরে লাথি মেরে কাদামাখা ফুটবলটি ছুড়ে দেয়, আর বলটি সোজা রবিনের দিকে এসে পড়ে।
    নিজেকে সেইফ করতে রবিন সামনে থাকা বন্ধুটির সাথে দৌড়াতে চেষ্টা করে, কিন্তু সে আগেই সরে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে অষ্টম শ্রেণির ক্লাসরুম থেকে হঠাৎ একটি মেয়ে দৌড়ে বের হয়ে এসে রবিনের বুকের বাম পাশে সজোরে ধাক্কা লাগে এবং রবিনের বাহুবন্দি হয়ে পড়ে।
    রবিন চোখ খুলে কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। মুহূর্তটা যেন থেমে গিয়েছিল। মেয়েটি তার পরিচিত কেউ নয়—হাফপ্যান্ট আর ফ্রক পরা, একেবারে সরল-সাধারণ কিন্তু খুবই চঞ্চল একটি মেয়ে। সম্ভবত ক্লাসের ভেতরে ক্লাস শুরুর আগে বান্ধবীদের সঙ্গে খেলতে খেলতেই হঠাৎ বাইরে বেরিয়ে এসেছিল।
    মেয়েটি দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে লজ্জায় মুখ নিচু করে আবার ক্লাসরুমে ঢুকে যায়। বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন ছেলে-মেয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হালকা হাসাহাসি করে। কেউ কেউ জিজ্ঞেস করে—“তোরা কেউ আঘাত পেয়েছিস?”
    বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও, রবিন ভেতরে ভেতরে এক অদ্ভুদ আঘাত পেয়েছিল—শরীরে নয়, অন্য কোথাও। হঠাৎ ঘটে যাওয়া সেই মুহূর্তটা তার মনে এক অচেনা অনুভূতির ঢেউ তুলে দেয়, যার মানে সে নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। আর অল্প দূর থেকে দাঁড়িয়ে থাকা শৈলী, নীরবে সবটা দেখছিল—রবিনের সেই অস্বস্তি, সেই থেমে যাওয়া দৃষ্টি—সবকিছুই।
    সেই আঘাতের গভীরতা বোঝার জন্য, সেদিন বিকেলেই শৈলী তার ক্লাসের এক বান্ধবী ফিয়ানাকে নিয়ে রবিনের বাড়ির সামনে থাকা তাদের আরেক বান্ধবী নীরার বাড়িতে আসে।
    প্রতিদিনের মতো সেদিনও বিকেলে রবিন ঘুমাচ্ছিল। নীরা এসে ডাক দিয়ে তাকে ওঠায় এবং বলে, “তোমাকে আমার ভাইয়া জরুরি কাজে ডাকছে।”
    রবিন নীরাদের বাড়িতে গিয়ে দেখে, তার ভাইয়া নেই। সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, “কিরে নীরা, তোর ভাইয়া কোথায়?”
    নীরা একটু মুচকি হেসে বলে, “তোমাকে অন্য একটা কাজে ডেকেছি।”
    কিছুক্ষণ পর পাশের রুম থেকে একটি মেয়ে লাজুকভাবে সামনে আসে এবং বলে, “আমাকে চিনেন?”
    রবিন একটু থেমে, তাকিয়ে বলে, “চিনি বলতে… আমাদের স্কুলের সবচেয়ে ছোটদের মধ্যে একজন ‘ফিয়ানা—এই পর্যন্তই।”
    ঠিক তখনই শৈলীও পাশের ওই রুম থেকে বেরিয়ে আসে। তাকে দেখে রবিন কিছুটা অবাক ও অপ্রস্তুত হয়ে যায়। “কী রে নীরা, এসব কী?”
    নীরা হালকা হাসি দিয়ে বলে, “আসলে কি জানিস, আজকে সকালে স্কুলে যে ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য সরি বলতে এসেছে।” বলে সে বাইরে চলে যায়।
    রবিন শান্তভাবে বলে, “ওটা তো হঠাৎই হয়ে গেছে, কারো কোনো দোষ ছিল না। ঠিক আছে, এখন তোমরা বাড়ি চলে যাও।”
    এই বলে রবিন বাইরে বেরিয়ে যায়।
    দিনটি ছিল ৩১শে মার্চ, রবিবার।
    সেদিন বিকেলেই শৈলীর নীরব চাহনিতে রবিন যেন একটি অজানা অনুভূতির ইঙ্গিত পায়—শব্দহীনভাবে বলা একটি কথা:
    “আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি।”
    লেখক-রনতান ত্রুত্তি
    ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬
    গল্প চলমান থাকবে……

    6
    4 Comments
Skip to toolbar