Profile Photo

বিষণ্ন সুমনOffline

  • logolabbd
  • Profile picture of বিষণ্ন সুমন

    বিষণ্ন সুমন

    2 weeks, 5 days ago

    আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “ছয়”
    ইন্সপেক্টর শামিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটা চৌকষ দল গেল মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে, একটা পুরনো ভাঙাচোরা বাড়িতে। বাড়িটা তিনতলা, আধাপাকা। মানে কাঠামোটা সলিড হলেও, দেওয়ালগুলো টিনের বেড়া দেওয়া। পেছনের দিকটা গলির শেষ মাথায় আটকে আছে। এরপর আর কোন রাস্তা নেই। নিচতলায় এক কোণে ছোট্ট একটা রুম, ওখানেই রাজু ভাড়া থাকে।

    বাড়ির মালিক এক মাঝ বয়সী মহিলা দরজায় এসে বললেন, “রাজু? ও তো মাস খানেক হইল জেল থাইকা ছাড়া পাইছে। আরও তো ঘরেও বেশী থাকে না। মাঝে মাঝে আসে আবার চইলাও যায়। আইজ সকালেও আছিল। দুপুরের একটু আগেই বাইর হয়া গেছে। আর ফেরত আসে নাই।

    ইন্সপেক্টর শামীম জিজ্ঞেস করলেন, “কেন জেলে গেছিল? জানেন কিছু?”

    “ও তো ঝামেলাবাজ মানুষ। নেশাখোরদের সাথে থাকে। পুলিশের হাতে ধরাও খাইছে অনেকবার। ছিনতাইও করছে নাকি শুনছি।”

    “কাউরে ভয় দেখানো বা ব্ল্যাকমেইলের মতো কিছু করেছে কখনো?”

    “অরে! ও তো এ কাজেই নাম কামাইছে। এক মহিলার ছবি তুলে ভয় দেখাইছিল। আরেকটা মেয়েরে কয়েক মাস সাথে সাথে লইয়া ঘুইরা ঘুইরা… শেষমেশ তো মেয়েটা আত্মহত্যা করার চেষ্টা করছিল!”

    পুলিশ চুপ। এ লোকটা নিছক সাধারণ কেউ নয়।

    পুলিশ ঘরে ঢুকলো। রাজুর ঘর তল্লাশি শুরু করলো। ঘরে ধুলোর আস্তরণ, বাতাসে পোড়া গন্ধ। বিছানার নিচে কয়েকটা পুরনো পত্রিকা, একটা ফাঁকা সিগারেটের প্যাকেট, আর একটা একটা খাম পাওয়া গেল, পুরনো ভাঁজ করা, তার মধ্যে কয়েকটা ছবি।

    ছবি গুলো সবই মেয়েদের। তাদের মধ্যে একটাতে লিনাকে দেখা গেল, হয়তো বাসা থেকে বেরিয়ে সিএনজি ধরছে, পেছন থেকে তোলা ছবি।
    আরেকটায় দেখা যায়, লিনা কোনো কফি শপে বসে আছে, একা। দূর থেকে তোলা, ঝাপসা।

    ইন্সপেক্টর কপাল কুঁচকে বললেন, “রাজু তবে লিনার পেছনে লেগে ছিল? কিন্তু লিনা সেটা জানতো না।”

    লিনার একমাত্র কাছের বান্ধবী ছিল তৃষা। তাকে থানায় ডেকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।

    তৃষা বলল, “আমি কিছুদিন আগে লিনার ফোনে একটা ম্যাসেজ দেখেছিলাম। সাথে লিনার বিভিন্ন জায়গায় তোলা কিছু ছবি ছিল। আর লেখা ছিল, “তোর সব খবর আমার কাছে আছে। আমি সব সময় তোরে চোখে চোখে রাখছি। আমার কথা যদি শুনিস, তোর ভালো হবে। না হলে তোর কপালে খারাবি আছে।”

    “তুমি কিছু বলোনি?”

    “বলেছিলাম। কিন্তু ও বলেছিল, এটা নিশ্চয়ই কেউ মজা করে লিখেছে। তাই আমি আর চাপাচাপি করিনি। পরে ও নিজেও কখনো এ বিষয়ে কিছু বলেনি।”

    এবার পুলিশ নিশ্চিত, কেউ লিনাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। সম্ভবত রাজু।

    মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেল, রাজুর শেষ অবস্থান ছিল লিনাদের বাসার কাছেই, ঘটনার আগের রাত সাড়ে দশটায়। এরপর তার মোবাইল একেবারে অফ হয়ে যায়।

    ইন্সপেক্টর বললেন, “তার মানে, খুনের আগের রাতেই সে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। এখন দেখার বিষয়, সে পরদিন দুপুরে আবার এসেছিল কেন?”

    নিশ্চয়ই লিনার সাথেই দেখা করতে।

    পুরো ব্যপারটা এবার ছবির মত পরিস্কার। সে আসলে জানতো সকালে কোন এক সময় সায়মা রহমান বাসা থেকে বাজার করতে বেরিয়ে যাবেন। তার বোন শিরিন নিশ্চয়ই তাকে এই খবরটা জানায়। তারপরই সে বাসায় ঢুকে ছাদে যেয়ে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। সে সময়ই নিচতলার লিনাদের পাশের বাসার বুয়া রহিমা তাকে দেখে ফেলে।

    পরবর্তীতে শিরিন বাড়িওয়ালার বাসা থেকে বের হয়ে ছাদ থেকে তাকে ডেকে আনে। শিরিনের মাধ্যমেই সে লিনার বাসায় ঢুকে এবং খুন করে পালিয়ে যায়।

    তার মানে এই খুনের সাথে শিরিনও জড়িত। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, তার ভাই রাজু কেন লিনাকে ব্ল্যাকমেইল করতে যাবে? এতে তার কি লাভ? নাকি রাজুকে সেই এ কাজে নিযুক্ত করেছিল?

    এখন কথা হলো কেন তারা লিনাকে ব্ল্যাকমেইল করতে গেল? আবার খুনই বা করতে গেল কেন? নাকি খুনটা হঠাৎই হয়ে গেল?

    সকল প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে তাকে এখন রাজুকে পেতে হবে। আর রাজুকে পেতে হলে পেতে হবে শিরিনকেও।

    শামিম সাহেবের মাথাটা আবারো তালগোল পাকিয়ে গেল।
    (চলবে)

    5
    6 Comments
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন

ডিজাইনার

স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।

Skip to toolbar