-
আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)
“আট”
তদন্তকারী অফিসার ভবন মালিকের ড্রাইভারের সাথে কথা বলেন। তার নাম সেলিম। সে জানায়, “সেদিন খুনের আগের সপ্তাহে এক সন্ধ্যায় ছাদে গিয়েছিলাম, সিগারেট খেতে। অন্ধকারে একজন মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। আর তার সঙ্গে একটা লোক ছিল।”“লোকটা কে, চিনতে পেরেছো কি?”
“দেখতে পাইনি স্যার। ছায়া ছায়া। কিন্তু শরীরের কাঠামো দেখে মনে হয়েছিল, উনি এখানেই থাকেন।”
“তুমি মুখ দেখোনি?”
“না স্যার। শুধু একটা কথা শুনছিলাম, মেয়েটা কাঁদছিল আর বলছিল, ‘ও তো দেখে ফেলছে, এখন কী হবে?’”
পুলিশ চমকে গেল। “মেয়েটি কে হতে পারে?”
সেলিম বলল, “আমার মনে হয় মেয়েটা শিরিন ছিল।”
থানায় ফিরে এলো তদন্ত টিম। ইন্সপেক্টর এবার শিরিনকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি কারো সাথে সম্পর্কে ছিলে?”
শিরিন চুপ।
“এই বিল্ডিংয়ের কারো সঙ্গে?”
তবুও চুপ।
শেষমেশ মাথা নিচু করে বলল, “আমি কাউরে ঝামেলায় ফেলতে চাইছিলাম না। আমি ভালো থাকতে চাইছিলাম। কিন্তুক, লিনা মাইয়াটা আমারে ঝামেলায় ফালাইয়া দিল।”
“তার মানে, লিনা কি তোমাদের দেখে ফেলেছিল?”
শিরিন এবার চোখ তুলে তাকাল। তার চোখে পানি এসে গেছে। তখনই সে ফিসফিস করে বলল, “সে জানত সবকিছু। একদিন আমারে ওর বাসা থাইকা বের হইতে দেইখা ফালাইছিল। আমি বলছিলাম, ‘তুমি কাউরে বলো না।’
সে বলল, ‘আমি চুপ থাকব না।’
আমি তখন ভয় পাইছি। তাই ওরে ভয় দেখাইয়া থামাতে চাইলাম। কিন্তু, খুন আমি করি নাই।”
“তুমি একা ছিলে?”
শিরিন এবার মাথা নাড়ল না, শুধু বলে উঠল, “আমি একা না। ও ছিল আমার সাথে।”
“কে ছিল?”
“সে… আমার ওই লোকটা।”
“সে কে?”
শিরিন শুধু বলে, “সে এখানেই থাকে। কিন্তু আমি তার নাম বললে সে শেষ হয়ে যাবে। ” বলেই সে কেঁদে ফেলে।
পুলিশ তখনই আরও গভীরে অনুসন্ধান শুরু করল। তার কথাতেই বুঝা গেল সে মাঝে মাঝেই ওই বিল্ডিংয়ের এক নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটে রাত কাটিয়েছে।
ফ্ল্যাটটি এমন এক পুরুষের, যাকে সবাই একজন পরিচ্ছন্ন, ভালো মানুষ বলে জানে।কিন্তু সে কি বিবাহিত?
নাকি একজন একা যুবক?
নাকি বাড়ির মালিক নিজেই?সব নাম সামনে আসতে শুরু করে, রাশেদ সাহেব (বাড়িওয়ালা), দু’তলার ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া রাফি (যুবক), অথবা উল্টোদিকের বিবাহিত ভাড়াটিয়া সোহেল ভাই, যিনি সন্ধ্যায় ছাদে সিগারেট খেতেন।
কিন্তু কে আসল লোকটি? শিরিন এখনো মুখ খোলেনি ।
বাড়ির গেটের সামনে এক ছোট মুদির দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। পুলিশ এতদিন সেটা পায়নি, কারণ দোকানদার গ্রামে ছিল।
ফুটেজ খুলে দেখা গেল, লিনার খুনের আগের দিন সন্ধ্যায়, শিরিনকে দেখা যাচ্ছে এক পুরুষের সঙ্গে দোকানের পাশ দিয়ে হেঁটে গেটের দিকে যেতে।ছবিতে মুখ স্পষ্ট না, কিন্তু শরীরের গঠন, চলার ভঙ্গি এগুলো দেখে অফিসাররা সন্দেহের চোখে তাকায়। তবে তারা নিশ্চিত হতে পারে না।
দোকানদারকে জিজ্ঞেস করতেই বলে, “চিনি তো। আমার দোকান থেকে প্রায়ই সিগারেট কিনে। এই বিল্ডিংয়েরই দু’তলায় থাকে।”
“মেয়েটারে চেনেন?”
“হ্যা চিনি স্যার। এই বাসার বাড়িওয়ালার বাসার কাজের মাইয়া। আমার দোকানের মোবাইল থাইক্যা প্রায়ই ফোন করে।”
“তাই নাকি। তা কোথা বা কোন নাম্বারটায় ফোন করে বলতে পারবেন?”
“কই করে তা জানিনা, তয় নাম্বারটা দিতে পারবো স্যার। সবসময় একটা নাম্বারেই কল করে দেইখা নাম্বারটা আমার চেনা হয়ে গেছে। মোবাইল ঘাটলেই পায়া যামু। তবে স্যার কথা বেশী কয়না। খুব আস্তে করে কথা কয়। বেশীক্ষণ না। এই ধরেন আট দশ সেকেন্ড। খালি জিগায়, আইজ আমু?” তারপর হু হ্যা করেই কল কেটে দেয়।
নাম্বারটি পাবার পর চেক করে দেখা যায় ওটা একটা গ্রামীন নাম্বার যা এই মুহুর্তে বন্ধ আছে। ইন্সপেক্টর সিমটি কার নামে নিবন্ধিত খোঁজে দেখার নির্দেশ দেন।
এমন সময় রাস্তার ওপাশে গেটের দিকে চোখ যায় তার। দাঁড়োয়ান ইউনুসের সাথে একটা ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। সে এ পাশে তাদের দিকে আংগুল দেখিয়ে কি যেন বলছে।
ছেলেটাকে চিনতে পেরে ইন্সপেক্টর নিজেই এগিয়ে গেলেন।
“আপনি রাফি?”
“জ্বী। আমি আপনাদের কাছেই যেতে চাচ্ছিলাম।“
“তাই নাকি?” শামিম সাহেব কিছুটা অবাক। রাফিকে সন্দেহভাজনদের তালিকা থেকে অনেক আগেই বাদ দিয়েছেন তিন। “তা কি ব্যপার?”
“বিবেকের দংশনে প্রতি মুহুর্তে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছি আমি। তাই নিজেকে আর চেপে রাখতে পারছিনা। সত্যি বলতে কি, লিনাকে আমিই খুন করেছি।” রাফির গলাটা কেঁপে উঠলেও বেশ সংযত কণ্ঠেই কথাগুলো বললো সে।
মনে হলো প্রচন্ড একটা ধাক্কা খেলেন তিনি। এটা তিনি কিছুতেই আশা করেন নাই। তার মানে রাফিই শিরিনের গোপন প্রেমিক। হ্যা সব মিলে যাচ্ছে। রাফির ফ্লাটে একা থাকা। মাঝে মাঝে ছাদে যাওয়া। মনে হয় লিনা ব্যপারটা দেখে ফেলেছিল। তাই পথের কাঁটা সরাতেই ……! মুহুর্তেই রেগে গেলেন তিনি। সাথের কনস্টেবলদের নির্দেশ দিলেন, “টেক হীম কাষ্টোডি। রাইট নাও।”
নিমেষেই তার হাত চলে গেল মাথায়। এবার তিনি টেনে নিজের এক গোছা চুল ঠিকই তুলে ফেললেন।
(চলবে)6 Comments
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন
ডিজাইনার
স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
Friends
জুলহাজ আলী জীবন
@julhaj
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com
পিপীলিকা
@abujubair
কাশফিয়া নাহিয়ান
@kashfianahian
জিসান মাহমুদুল হাসান
@mxesun
Md fujal Hossen
@mdfujalhossen
shewly khatun
@shewlykhatun
আরাফাত আল মেহেদী
@arafat76
Hossain Muhammad Anwar
@hossainmuhammadanwar



বিবেকের দংশনে খুনের দায়….🤍