-
#রক্তের_কাঁটা
লেখিকা: #হৃদি_ইলা_
কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
পর্ব-১৭: পুরানো ফ্যাক্টরি, রাত ১২ টারাত ১:৫ – পুরানো ফ্যাক্টরি
বাইরে কুয়াশা। ভিতরে নিস্তব্ধ। শুধু পানির টপ টপ শব্দ।
মেহরিন দাঁড়ায় আছে। কালো শাড়ি, মুখে মাস্ক। হাতে আব্বার রক্তমাখা ডায়েরি। সামনে একটা চেয়ার।
মেহরিন মনে: *৬ বছর… ৬ বছর ধরে এই রাতের অপেক্ষা করছি। রায়হান শেষ। আলমগীর শেষ। এবার জায়ান। দেখবো তুই কী চাস।*
দরজা খুললো। জায়ান ঢুকলো। একা।
জায়ান: মেহরিন…
মেহরিন হাসলো না। মাস্কের নিচে শুধু চোখ জ্বলতেছে: *আমি এখন মেহরিন না জায়ান। আমি M. Rose।*
জায়ান এগিয়ে গেলো: *আমি জানি। ৫ বছর ধরে জানি। তুমি গায়েব হওয়ার পর থেকে খুঁজছি। শুনছিলাম তুমি মারা গেছো। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নাই।*
মেহরিন এক পা এগোলো: *তাহলে আজকে কেন আসলা? ৫০% এর জন্য? নাকি আমার জন্য?*
জায়ান থেমে গেলো: *দুটার জন্য। চৌধুরী বাড়ি আমার। কিন্তু তুমি তার চেয়ে বেশি। ৫ বছর আগে তুমি বলছিলা তালাক হয়ে গেছে, থাকতে পারবা না। আমি অপেক্ষা করছি। আজকে যদি বলো সাথে আসো, আমি সব ছেড়ে যাবো।*
মেহরিন থেমে গেলো। এক সেকেন্ড।
মেহরিন: *জায়ান, তুমি ভালো। রাহাতের চেয়ে হাজার গুন ভালো। কিন্তু আমি আর ফিরতে পারবো না।*
আমার রাহাতের সাথে সব সম্পর্ক শেষ। আর আমার মায়ের খুনিদের শাস্তি দিতে ফিরে আসছি আরএখন আমি মেহরিন না। আমি M. Rose। রায়হানের খুনি।*জায়ান: *তাহলে আমি কী করবো?*
মেহরিন ডায়েরি ছুঁড়ে দিলো জায়ানের দিকে: *পড়ো। ৬ বছর আগের সত্য। রায়হান কীভাবে আমার মা আর কায়সার চাচারে মারছে। রাহাত কীভাবে চুপ করে দেখছে।
*তুমি পড়ো। তারপর ঠিক করো তুমি চৌধুরীর ছেলে থাকবা, নাকি আমার সাথে থাকবা।*জায়ান ডায়েরি খুললো। হাত কাঁপতেছে।
রাত ১২:১০ – দাদির বাসা
রাহাতের ফোনে লাইভ ভিডিও। পুরানো ফ্যাক্টরি।
স্ক্রিনে জায়ান ডায়েরি পড়তেছে। চোখ বড় হয়ে গেছে।
মেহরিনের ভয়েস: *রাহাত, দেখো। তোমার সৎ ভাই জানতেছে তোমার বাপ কী করছে। রাহাত ১৫ বছর আগে যা দেখছে, ১৫ বছর পর তুমি এখন দেখতেছো
*এবার বলো, থাকবা নাকি লড়বারাহাত ফোনটা ছুঁড়ে ফেললো: না!
তানিশা: রাহাত, জায়ান যদি সত্য জানে… ও আমাদের ছেড়ে যাবে?
রাহাত: *জায়ান চলে গেলে চৌধুরী গ্রুপ আমার না। ওর না। কারোর না। সব শেষ।*
রাত ১২:২০ – পুরানো ফ্যাক্টরি
জায়ান ডায়েরি বন্ধ করলো। মুখ সাদা।
জায়ান: *মেহরিন… এগুলা সত্য? বাপ… রায়হান চৌধুরী
মেহরিন: *হ্যাঁ। আর তুমি ৫০% এর মালিক। খুনির ছেলে।*
জায়ান মাথা নিচু করলো। অনেকক্ষণ চুপ।
জায়ান: *আমি যদি তোমার সাথে যাই… তুমি আমাকে তোমার সাথে নিবা
মেহরিন একটু নড়লো: *মাফ? রায়হানের পাপের জন্য?*
*না জায়ান। মাফ নাই। কিন্তু তুমি চাইলে বাঁচতে পারো। চয়েস তোমার।*ঠিক তখনই বাইরে গাড়ির শব্দ। পুলিশ।
ইন্সপেক্টর ফারুকের গলা: *M. Rose! হাত উপরে তোলো!*
মেহরিন হাসলো: *দেরি হয়ে গেছে জায়ান।*
মেহরিন জুবায়ের দিকে তাকালো: *ভিডিও অন করো। পুরা দুনিয়া দেখুক।*
রাত ১২:২৫ – লাইভ স্ট্রিম চালু
মেহরিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালো। মাস্ক খুললো।
মেহরিন: *আমি মেহরিন। রায়হান চৌধুরীর মারা যাওয়া স্ত্রীর মেয়ে। ৬ বছর আগে রায়হান আমার মা আর কায়সার ভাইরে মারছে। এইখানে প্রমাণ।*
স্ক্রিনে ডায়েরি আর ভিডিও ক্লিপ ফ্ল্যাশ হইলো।
মেহরিন: *রায়হান মারা গেছে। আলমগীর মারা গেছে। এবার রাহাত চৌধুরীর পালা।*
*আর তুমি জায়ান… তুমি যদি সত্য মেনে নাও, তুমি বাঁচবা। না নিলে… তুমিও চৌধুরী।*লাইভ অফ।
জায়ান মেহরিনের দিকে তাকালো। চোখে পানি।
জায়ান: *মেহরিন… আমি…*
পুলিশ ঢুকে গেলো।
চলবে।
1 Comment
Friends
Kaoser Ahmed
@kaoserahmed
Nahida Khanam
@nahidakhanam
Puja Chakrabartty
@pujachakrabartty
Md Babul Hossain
@mdbabulhossain
Violet Rose
@afsanajannatultumpa
Sabbir Khan
@sabbirkhan
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
অভিমানী মন
@ovimanimon

পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। শুভকামনা আপনার জন্য!