-
ব্যাক টু হেল (ওয়েস্টার্ণ)
অধ্যায়-এক
রকীং স্প্রীং ক্রীক। এটা এমন কোনো নদী নয়, যাকে মানচিত্রে বড় করে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা সরু জলধারা, বছরের বেশির ভাগ সময় শান্ত, প্রায় নিরীহ। কিন্তু, যারা এই এলাকার প্রকৃতিকে বোঝে, তারা জানে এই ক্রীকের স্বভাব মানুষের মতো। বাইরে শান্ত, ভেতরে গভীর। বর্ষার সময় পাহাড়ের তুষার গলে নামলে সে সহসাই ফুলে ওঠে, গর্জন করে, তীর ভেঙে নেয়, নিজের রাস্তা নিজেই বানিয়ে নেয়। ঠিক এই ক্রীকের তীর ঘেঁষেই, ডেডউড শহরের উত্তর-পশ্চিমে খানিকটা দূরে, জেসন স্কট তার জীবনের শেষ স্বপ্নটা গেঁথে ফেলতে চেয়েছিল।চারদিকে তখন গ্রীষ্মের শেষভাগ। পাহাড়ের গায়ে হলুদ আর বাদামি ঘাস শুকিয়ে খসখসে হয়ে আছে। বাতাস বইলে সেই ঘাসের ভেতর দিয়ে একটা শোঁ শোঁ শব্দ ওঠে, যেন কেউ ফিসফিস করে কথা বলছে। দূরে কালচে নীল পাহাড়ের রেখা, উপরে বিস্তীর্ণ আকাশ, দিনে তীব্র রোদ, রাতে অসংখ্য তারা।
এই নিঃসঙ্গতা, এই বিশাল খোলা জায়গাটাই জেসনের পছন্দ। মানুষের ভিড় তার সহ্য হয় না। সে বরাবরই এমন জায়গা খোঁজে, যেখানে মানুষের আওয়াজের চেয়ে প্রকৃতির শব্দ বেশি শোনা যায়।
জেসন স্কটের বয়স চল্লিশ ছুঁইছুঁই। কাউবয় হিসেবে এটা এমন বয়স, যখন শরীর এখনো শক্ত, কিন্তু চোখে জমে ওঠে অতীতের ক্লান্তি আর অপরিমেয় অভিজ্ঞতা। তার চুল কালচে, কপালের কাছে হালকা সাদা। মুখে দাড়ি আছে, নিয়মিত ছাঁটা নয়, কাজের ফাঁকে যতটুকু দীর্ঘ হয়। চোখ দুটো ধূসর, গভীর, শান্ত। এই চোখে খুব বেশি আবেগ প্রকাশ পায় না। যারা তাকে চেনে, তারা জানে, এই শান্ত ভাবটা জন্মগত নয়। বরং এটা বহু বছর ধরে নিজের ভেতরে গড়ে তোলা একটা আলাদা দেয়াল, যা অন্যের কাছে তাকে দুর্বোধ্য করে তোলে।
সে খুব অল্প কথা বলে। কথা বললেও গলা নিচু, স্থির। ডেডউডের সেলুনে বসে যারা মদ খেয়ে চেঁচায়, গুলি ছোড়ে, ঝগড়া বাধায়, জেসন তাদের দলের নয়। সে কাজ শেষে খায়, ঘুমায়, আবার কাজ করে। তার কোনো পরিবার নেই। নেই কোন বন্ধূ। সে নিজের মত চলে। একাকী, স্বাধীন কিন্তু অন্তর্মূখী। সে কারনেই অতীতে সে কী ছিল, সেটা কেউ জানে না। সে নিজেও কাউকে বলে না। মানুষ জিজ্ঞেসও করে না, যেহেতু পশ্চিমে কাউকে অযাচিত প্রশ্ন করা অভদ্রতা। যদিও পশ্চিমের প্রায় সবাই কোনো না কোনো প্রশ্ন থেকে পালিয়েই বেঁচে থাকতে চায়। জেসন হয়তো তাদেরই একজন।
এই জমিটা কিনতে তার প্রায় সব সঞ্চয় চলে গেছে। বছরের পর বছর গরু চরানো, র্যাঞ্চে কাজ, কখনো পাহারাদারের চাকরি, সব মিলিয়ে যা জমিয়েছিল, সেটাই ঢেলে দিয়েছে এই জায়গায়। সে হিসাব করে জানে, তার ভুল করার কোন সুযোগ নেই। এই বাথান দাঁড়াতে না পারলে তার সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
সেদিন সকালেও সে একা কাজ করছিল। ক্রীকের কাছেরই বন থেকে কাঠ টেনে এনেছে। কুঠারের প্রতিটা আঘাতে শুকনো কাঠ ফেঁটে যাচ্ছে। বাতাসে কাঁচা কাঠের গন্ধ। দূরে একটা বাজপাখি চক্কর কাটছে। এই কাজের ভেতরেই জেসনের মন শান্ত থাকে। হাত ব্যস্ত থাকলে মাথার ভেতরের শব্দ কমে যায়।
ডেডউড শহর এখান থেকে দেখা যায় না, কিন্তু তার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। বাতাসে ভেসে আসা দূরের আওয়াজ, ধুলোর গন্ধ, মানুষের লোভ, সবকিছু এই জায়গার শান্ত কিনারায় আছড়ে পড়ে, যেন নতুন কিছু ঘটার অপেক্ষায় আছে।
একদিন ঠিকই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে।
দুপুরের দিকে, যখন রোদ সবচেয়ে তীব্র, তখন দূরে ধুলোর মেঘ উঠতে দেখা গেল। প্রথমে জেসন ভেবেছিল কোনো গরুর পাল। কিন্তু শব্দটা আলাদা। ঘোড়ার খুরের তালে তালে ভারী কিছু আসছে। সে কাজ থামিয়ে কুঠার নামাল। চোখ সরু করে তাকাল।
চারজন লোক। ঘোড়ায় চড়ে এসেছে। তাদের পোশাক এলোমেলো, মুখে দাড়ি, চোখে অস্থিরতা। এরা কাউবয় নয়, এরা সবাই সুযোগ সন্ধানী, মাটি খুঁড়ে ভাগ্য বদলাতে আসা মানুষ।
একজন এগিয়ে এসে চেঁচিয়ে বলল, “এই জায়গার মালিক কে?”
জেসন এগিয়ে এল। তার হাঁটার ভঙ্গি ধীর, সাবধানী। সে কুঠার হাতে রেখেই বলল,
“আমি।”লোকটা হাসল। হাসিটা বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। তার চোখ চঞ্চল। ওটার ভেতরে লোভ আছে।
“তুমি জানো এখানে কী পাওয়া গেছে?”জেসন কিছু বলল না। শুধু অপলক তাকিয়ে রইল।
“সোনা,” লোকটা বলল। “খাঁটি সোনা।” তার চোখ চকচক করে উঠলো।
এই কথা বলার সময় আশপাশের পাহাড়, ক্রীক, আকাশ, সবকিছু যেন হঠাৎ আলাদা মূল্য পেয়ে গেল। যদিও জেসনের মুখ ভাবলেশহীন। তার চোখে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না।
“তাতে আমার কী?” সে শান্ত গলায় বলল।
লোকটা একটু অবাক হলো। “তাতে তোমারই সব,” সে বলল ভ্রুঁ নাচিয়ে। “এই জায়গা আর আগের মতো থাকবে না।”
তারা চলে গেল। কিন্তু যাওয়ার সময় তাদের চোখ জমির ওপর, ক্রীকের তীরের পাথরের ওপর, মাটির রঙের ওপর আটকে রইল।
সেদিন বিকেলেই খবরটা ছড়িয়ে পড়ল।
ডেডউড এমন শহর, যেখানে গুজব আগুনের মতো ছড়ায়। সন্ধ্যার মধ্যে সেলুনে সবাই জানে, রকীং স্প্রীং ক্রীক এলাকায় সোনার খনি আছে। রাতের মধ্যেই শহরের চেহারা বদলাতে শুরু করে। অজানা অচেনা লোক জড়ো হতে লাগলো। বন্দুক পরিষ্কার হলো, পুরনো মানচিত্র বের করে ঝাড়মোছা শুরু হলো।
পরদিন সকালে জেসন যখন ঘুম থেকে ওঠে, তখন ক্রীকের ধারে আর আগের মতো নীরবতা নেই। দূরে তাঁবু পড়েছে। আগুন জ্বলছে। অপরিচিত লোকেরা হাঁটছে, হাসছে, ঝগড়া করছে। তার জমির সীমানা কেউ মানছে না। কেউ পাথর তুলছে, কেউ মাটি খুঁড়ছে।
জেসন প্রথমে কথা বলার চেষ্টা করে। সে জানায়, এই জমি তার। কেউ শোনে, কেউ শোনে না।
বিকেলে সে ডেডউডে গিয়ে শেরিফের সঙ্গে কথা বলে।
শহরটা তার কাছে আগের চেয়ে নোংরা লাগল। রাস্তায় ধুলো, সেলুনে চিৎকার, চোখে লোভ। শেরিফ তার কথা শুনে শুধু বলে, “সময়টা ভালো নয়, জেসন। নিজের মতো সাবধানে থাকো।”
এই সাবধানতার অর্থ সে বুঝে নিল। তার মানে নিজের মতো করে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত হও জেসন। এই চিন্তার ভেতরেই লুকিয়ে আসে পশ্চিমের আসল আইন।
তিন দিন পর। বিকেলে আকাশ মেঘলা ছিল। বাতাসে ভারী গন্ধ। তখনই সে লোকটাকে দেখল, জোনাথন বাক। তার আগমনে কোনো হইচই হয়নি, কিন্তু চারপাশের মানুষ হঠাৎ চুপ করে গিয়েছিল। এই নীরবতাই তার ক্ষমতার প্রমাণ।
ডেডউডে সে শুধু ধনী নয়, সে ক্ষমতাবান। খনি, জুয়া, জমি, সবখানে তার লোক আছে। সে নিজে অস্ত্র বহন করে না। তবে তার হয়ে লোক ভাড়া খাটে। ফলে অন্যের অস্ত্রই তার হয়ে কথা বলে।
সে ঘোড়া থেকে নামেনি। কালো কোট, পরিষ্কার বুট, চকচকে বেল্ট। তার মুখে এমন এক আত্মবিশ্বাস, যেটা আসে এই বিশ্বাস থেকে, যেন চাইলেই সবকিছু কেনা যায়।
সে জেসনের দিকে তাকিয়ে বলল, “এই জায়গাটা ছাড়ো।”
তার গলায় চিৎকার নেই। আদেশের সুর।
জেসন মাটি থেকে চোখ তুলে তাকাল। “এটা আমার জমি।”
বাক হালকা হাসল। “আজ আছে। কিন্তু, কাল যে আমার হবেনা এটা কে বলতে পারে।”
তার লোকেরা চারদিকে ছড়িয়ে আছে। হাত বন্দুকের কাছে।
“কাল তোমার নাও থাকতে পারে,” বাক কথাটা রিপিট করে।
জেসনের ভেতরে কিছু একটা নড়ল। বহু বছর আগে সে এই অনুভূতিটা চিনত। কিন্তু বাইরে কিছুই দেখাল না।
“আমি কোথাও যাব না,” সে বলল।
বাকের হাসি মিলিয়ে গেল। “শান্ত মানুষগুলোই আগে ভাঙে,” সে বলল। “কারণ তারা ভাবেই না, কেউ তাদের ভাঙতে চাইবে।”
সে চলে গেল। কিন্তু, যাওয়ার পরও তার উপস্থিতি রয়ে গেল, ধুলোর মধ্যে, বাতাসে, চারপাশের প্রকৃতিতে একটা অপ্রত্যাশিত ছায়ার মত।
রাত নামলে চারপাশ অন্ধকার হয়ে এল। ক্রীকের জল শব্দ করছিল ধীরে। জেসন আগুন জ্বালায়নি। সে অন্ধকারেই বসে রইল। দূরে কারও চলাফেরার শব্দ, কোথাও হাসি, কোথাও ফিসফাস। এই শব্দগুলো মিলেমিশে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা তৈরি করছিল।
হঠাৎ সে বুঝল, কেউ তার জমির ভেতরে এসেছে। খুব সাবধানে, খুব ধীরে। জেসন নড়ল না। তার হাত বন্দুকের কাছে গেল। অন্ধকারে সে ছায়া দেখল। শব্দ থেমে গেল। কয়েক সেকেন্ড, দীর্ঘ, ভারী। তারপর ছায়াটা সরে গেল।
কিছু ঘটেনি। কিন্তু এই ‘কিছু না হওয়া’-ই ছিল সবচেয়ে বড় হুমকি।
জেসন বুঝল, এটা শুরু।
সে জানে না, এই লড়াই তাকে কোথায় নিয়ে যাবে। শুধু জানে, পিছিয়ে যাওয়ার আর জায়গা নেই।
এই রাতে রকীং স্প্রীং ক্রীকের জল আগের মতোই বয়ে চলেছিল। কিন্তু তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা বদলে যাচ্ছিল।
রাতটা যত গভীর হচ্ছিল, ততই চারপাশের শব্দগুলো আলাদা হয়ে উঠছিল। ক্রীকের জল এখন আর শুধু বয়ে যাওয়ার শব্দ দিচ্ছিল না। তার ভেতরে পাথরের সঙ্গে ধাক্কার খসখসে আওয়াজ, মাঝে মাঝে মাছের লাফ, দূরের কোনো পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ মিলেমিশে এক অদ্ভুত সুর তৈরি করছিল। জেসন এই সুর চেনে। এটা শান্তির সুর নয়, এটা সতর্কতার সুর। পশ্চিমে রাত কখনো শুধু রাত থাকে না, বিশেষ করে যখন মানুষ লোভ নিয়ে আশপাশে ঘোরে।
সে ধীরে উঠে দাঁড়াল। অন্ধকারে চোখ মানিয়ে নিতে সময় লাগে, কিন্তু জেসনের চোখ অভ্যস্ত। বহু রাত সে খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছে, যেখানে আলো কম, কিন্তু বিপদ বেশি। সে চারদিকে তাকাল। তাঁবুগুলোর আগুন নিভে এসেছে, কিন্তু সব নয়। কোথাও কোথাও লালচে আলো জ্বলছে, মানুষজন ফিসফিস করছে। এই ফিসফিসের ভেতর কোনো বন্ধুত্ব নেই।
জেসনের মনে হলো, এই জায়গাটা আর তার একার নেই। জমিটা কিনেছিল সে, কিন্তু পশ্চিমে শুধু টাকা দিলেই জমি নিজের হয় না। জমি ধরে রাখতে হয়। এই সত্যটা সে জানত, কিন্তু এত দ্রুত যে পরীক্ষা শুরু হবে, তা ভাবেনি।
সে নিজের ঘরের দিকে গেল। অস্থায়ী কাঠের ছোট ঘর, যেটা সে নিজেই বানিয়েছে। দরজার কাঠে হাত রাখতেই সে টের পেল, কেউ ভেতরে ঢুকেছিল। খুব সাবধানে, কোনো কিছু ভাঙেনি, কিন্তু দরজার তালায় সূক্ষ্ম আঁচড়। এটা চুরির চেষ্টা নয়। এটা বার্তা।
জেসন ভেতরে ঢুকল। ঘরটা ছোট। একটা খাট, একটা টেবিল, কয়েকটা প্রয়োজনীয় জিনিস। সবকিছু ঠিকঠাক, কিন্তু বাতাসে অন্য গন্ধ। মানুষের গন্ধ। অপরিচিত।
সে চেয়ারে বসল না। দাঁড়িয়েই চারপাশ দেখল। পশ্চিমে যারা ভয় দেখাতে জানে, তারা জানে, ভয়টা চোখে দেখাতে হয় না, টের পাইয়ে দিলেই হয়।
সেই রাতেই জেসন সিদ্ধান্ত নিল, সে আর শুধু প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। সে পরিস্থিতি বুঝবে। কে এসেছে, কেন এসেছে, কারা নেতৃত্ব দিচ্ছে, সব তাকে জানতে হবে। কারণ অন্ধকারের সাথে লড়তে হলে শুধু শক্তি নয়, বুদ্ধিও দরকার।
পরদিন ভোরে কুয়াশা নামল। রকীং স্প্রীং ক্রীকের চারপাশ সাদা ধোঁয়ার মতো কুয়াশায় ঢেকে গেল। দূরের পাহাড়গুলো দেখা যাচ্ছে না, কাছের জিনিসগুলোও ছায়ার মতো। এই কুয়াশার মধ্যে মানুষ নিজেকে নিরাপদ ভাবে। কিন্তু, আসলে এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়।
জেসন ঘোড়ায় চড়ে ক্রীকের উজানে গেল। সে খেয়াল করল, কেউ কেউ তার জমির সীমানা পেরিয়ে গেছে। পায়ের ছাপ, ঘোড়ার খুরের দাগ। কেউ জায়গাটা ঘুরে দেখছে, মাপছে। এগুলো কোন সাধারণ লোকের খোঁজার কাজ নয়। এগুলো ব্যাপক কোন পরিকল্পনার অংশ।
সে আবারো ডেডউডে গেল। সেখানে গিয়ে শহরটাকে সে নতুন চোখে দেখল। মানুষজনের আচরণ বদলেছে। আগের মতো হাসি নেই, চোখে প্রশ্ন। সবাই জানে, কোথাও কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।
সেলুনে ঢুকলে কথা থেমে যায়। গ্লাসের শব্দ, কার্ডের শব্দ, সব থেমে গিয়ে সেকেন্ডের নীরবতায় জমে যায়। তারপর আবার শুরু হয় ফিসফাঁস। মাঝখানের এই নীরবতাই সবচেয়ে বেশি সরব হয়ে উঠে তখন।
এক কোণে বসে থাকা এক বৃদ্ধ তার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “ভুল জায়গায় জমি কিনেছ, ছেলে।”
জেসন কোনো উত্তর দিল না। সে জানে এই কথাগুলো উপদেশ নয়, এগুলো তার বিদায়বার্তা।
শহরের ভেতরেই সে জোনাথন বাকের প্রভাব দেখতে পেল। দোকানদারদের চোখে ভয়, শেরিফের গলায় দ্বিধা। আইন এখানে কাগজে আছে, হাতে নয়।
বিকেলে সে আবার ক্রীকের ধারে ফিরে এল। সূর্য তখন ঢলে পড়ছে, আলো লালচে। এই আলোতে সবকিছু সুন্দর লাগে, কিন্তু পশ্চিমে সূর্যাস্ত মানে বিপদের কাছাকাছি আসা।
সে দূরে ঘোড়ার শব্দ শুনল। একা। ধীরে আসছে। জেসন দাঁড়িয়ে রইল।
একজন লোক ঘোড়া থেকে নামল। বয়স কম, চোখে তাড়া। সে জেসনের দিকে তাকিয়ে বলল, “বাক তোমাকে শেষ সুযোগ দিতে বলেছে।”
জেসন চুপ করে রইল।
“তুমি থাকলে এখানে রক্ত পড়বে,” লোকটা বলল।
“রক্ত সবসময় কোথাও না কোথাও পড়ে,” জেসন শান্ত গলায় বলল।
লোকটা তার চোখের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ঘোড়ায় উঠে চলে গেল।
সূর্য ডুবে গেল। অন্ধকার নামল। এই অন্ধকার আগের রাতের মতো নয়। এটা আরও ভারী।
জেসন জানে পরের রাতেই কিছু ঘটবে।
সে বন্দুক পরিষ্কার করল। ধীরে, যত্ন করে। এই কাজটা সে বহু বছর করেনি, কিন্তু হাত ভুলে যায়নি।
রকীং স্প্রীং ক্রীকের জল অন্ধকারে শব্দ করে চলল। পাহাড় দাঁড়িয়ে রইল নীরব সাক্ষীর মতো।
এই জায়গায় শান্ত মানুষ আর শান্ত থাকতে পারবে না।
সে ভালো করেই জানে, এখনো কোনো গুলি ছোড়া হয়নি, কোনো রক্ত পড়েনি, কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।
5 Comments
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন
ডিজাইনার
স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
Friends
MD AMIRUL ISLAM
@mdamirulislam
মোঃ মেহেদী হাসান মুন্না
@mehedihasanmunna
Shah Fakhrul Islam
@shahfakhrulislam
1 Sen
@1sen
Imamul Islam
@imamul-islam
শায়লা এ্যামিন
@shaylaaemin945gmail-com
saad bin
@saadbin
atif ac
@atifac
আব্দুল্লাহ আল আমিন
@abdullahalamin



সোনার লোভে বিষাক্ত প্রকৃতি….🤍