-
ব্যাক টু হেল (ওয়েস্টার্ণ)
অধ্যায় দুই
রকীং স্প্রীং ক্রীকের উপর ভোরটা নেমে আসে খুব ধীরে। যেন রাতটা হঠাৎ করে যেতে চায় না। আকাশের রং বদলায়, কিন্তু আলো আসে না। কুয়াশা কেবল জমাট বাঁধে জলের উপর, ঘাসের উপর, কাঠের গুঁড়ির উপর, আর জেসন স্কটের আধা-তৈরি ঘরের চারপাশে। এই কুয়াশা কোনো স্বাভাবিক কুয়াশা নয়; এতে ভেজা মাটির গন্ধের সঙ্গে মানুষের ঘাম আর ঘোড়ার লেদা মিশে আছে। আগের দিন পর্যন্ত এই জায়গাটা ছিল ফাঁকা, নীরব, নিজের মতো। আজ সেটা আর নেই।জেসন খুব ভোরে জেগে ওঠে। ঘুম ভেঙেছে এমন কোনো শব্দে নয়, বরং এক ধরনের অস্বস্তিতে। সে অনেকদিন ধরেই এই জমিতে কাজ করছে, কাঠ কেটেছে, পেরেক পিটিয়েছে, ক্রীকের পানি দিয়ে মুখ ধুয়েছে। এই জায়গার প্রতিটা শব্দ তার চেনা। কিন্তু আজ ক্রীকের শব্দ আলাদা। জল বইছে ঠিকই, কিন্তু তার তলায় যেন আরেকটা স্তর আছে, অপেক্ষার স্তর। জেসন উঠে বসে। দরজার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকায়। কুয়াশার মধ্যে দূরে কিছু কালচে ছায়া নড়ে ওঠে। হয়তো গাছ। হয়তো কিছু নয়। সে নিশ্চিত হতে পারে না।
সে চুপচাপ কাজ শুরু করে। আগুন জ্বালায় না। কফি বানায় না। শুধু বুট পায়ে দেয়, বন্দুকটা দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে রাখে, হাতে নেয় না। আজকের সকালটা সে শুরু করতে চায় নিজের নিয়মে। কাঠের গাদার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। গাদাটা আগের মতো নেই। খুব বড় কোনো পরিবর্তন নয়, শুধু একটা কোণ একটু সরে গেছে। এমনভাবে, যেন কেউ দেখাতে চেয়েছে যে তারা এসেছিল। ভেঙে দেয়নি, চুরি করেনি, কেবল ছুঁয়ে গেছে।
এই স্পর্শটাই জেসনের পছন্দ হয় না।
সে হাঁটু গেড়ে বসে কাঠের গুঁড়ির পাশের মাটিটা ভালো করে দেখে। কুয়াশা সত্ত্বেও কিছু দাগ স্পষ্ট। ভারী বুটের ছাপ। একটার বেশি। ঘোড়ার খুরের দাগও আছে, কিন্তু সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ঝাপসা করা, যেন কেউ বুঝতে না পারে কয়টা ঘোড়া ছিল। এই ধরনের ছাপ যারা রাখে, তারা নতুন নয়। তারা জানে কীভাবে আসতে হয়, কীভাবে চলে যেতে হয়।
ডেডউড শহর তখনো পুরো জেগে ওঠেনি, কিন্তু রকীং স্প্রীংয়ের ধারে লোকজনের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। অস্থায়ী ক্যাম্প, ত্রিপল টাঙানো, ধোঁয়া ওঠা আগুন, খোলা বোতল, সব মিলিয়ে জায়গাটার চরিত্র বদলে গেছে। জেসন কাঁধে কুঠার তুলে নেয়, শহরের দিকে হাঁটা শুরু করে। সে আজ শহরে যাবে। কিন্তু, কথা বলতে নয়। দেখতে।
ডেডউড তাকে দেখে চুপ করে যায়, এমনটা নয়। বরং তাকে দেখে কথা বদলায়। আগের দিন যারা তাকে হাসিমুখে সম্ভাষণ করত, আজ তারা একটু দেরি করে তাকায়। দোকানের সামনে দাঁড়ানো লোকেরা কথা থামায় না, কিন্তু গলার স্বর নিচু হয়ে যায়। এক মদের দোকানের সামনে দুই লোকের কথা কানে আসে, খুব অস্পষ্টভাবে, “জমিটা ঠিক জায়গায় আছে।” অপরজন বলে, “হ্যাঁ, ভুল জায়গায় মানুষটা।”
এই কথাগুলো সরাসরি তাকে বলা নয়। কিন্তু তার জন্যই বলা।
হার্ডওয়্যার দোকানে ঢুকলে মালিক তাকে আগের মতো স্বাগত জানায় না। চোখে এক ধরনের হিসাব। জেসন পেরেক আর দড়ির দাম জানতে চায়। মালিক দাম বলে, আগের চেয়ে বেশি। জেসন কিছু বলে না। পকেট থেকে টাকা বের করে দেয়। মালিক টাকা নেয়, কিন্তু আঙুল কাঁপে। যাওয়ার সময় লোকটা হঠাৎ নিচু গলায় বলে, “নিজের কাজ শেষ করো, স্কট।”
এই উপদেশটা সতর্কতা না হুমকি, জেসন বুঝতে পারে না। কিংবা বুঝতে চায় না।
শহর ছাড়ার সময় সে জোনাথন বাকের নাম প্রথমবার স্পষ্টভাবে শোনে। সেলুনের দরজার পাশে দাঁড়ানো একজন মাতাল আধা-চিৎকার করে বলে, “বাক যেটা চায়, সেটাই হয়।”
আরেকজন সঙ্গে সঙ্গে তার মুখ চেপে ধরে। কথা থেমে যায়। জেসন থামে না। সে হাঁটে।
ফেরার পথে সে লক্ষ্য করে ক্রীকের দিকে যাওয়া পথগুলো আগের চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন লোক, নতুন মুখ, নতুন চোখ। কেউ সরাসরি তার দিকে তাকায় না, কিন্তু তাকায় তার জমির দিকে। সন্ধ্যার দিকে যখন সে ঘরে ফেরে, তখন কুয়াশা কেটে গেছে। আকাশ পরিষ্কার, কিন্তু বাতাস ভারী। দূরে ক্যাম্পগুলো থেকে হাসির শব্দ ভেসে আসে। খুব জোরে নয়। নিয়ন্ত্রিত।
রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে জেসন আগুন জ্বালায়। আলো রাখে কম। সে বসে থাকে দরজার পাশে। কানে আসে ঘোড়ার ক্ষীণ শব্দ। কেউ থামে না। কেউ আসে না। কিন্তু, সে জানে এই নীরবতা উদ্দেশ্যহীন নয়।
মধ্যরাতে হঠাৎ বাইরে কারও পায়ের শব্দ। খুব কাছাকাছি। দরজার সামনে এসে থামে। কেউ কড়া নাড়ে না। কেউ ডাক দেয় না। শুধু দাঁড়িয়ে থাকে। জেসন হাত বাড়ায় বন্দুকের দিকে, কিন্তু তোলে না। কয়েক সেকেন্ড না, মিনিট কেটে যায়। তারপর শব্দ সরে যায়। পায়ের শব্দ দূরে মিলিয়ে যায়।
ভোর হওয়ার আগেই জেসন সিদ্ধান্ত নেয়। সে কারও কাছে যাবে না। কথা বলবে না। জমি ছাড়বে না। সে অপেক্ষা করবে।
কারণ সে বুঝে গেছে, এই লড়াইয়ে যে আগে কথা বলে, সে-ই দুর্বল।
ভোর আসার আগেই ক্রীকের চারপাশে নড়াচড়া শুরু হয়ে গেছে। সেই নিঃশব্দ রাতটা যেন কাউকে আশ্বস্ত করেনি; বরং সবাইকে আরও সতর্ক করেছে। আকাশে তখনো আলো ওঠেনি, কিন্তু অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে আগুন জ্বলছে। সেই আগুনগুলো উষ্ণতার জন্য নয়, সেগুলো সংকেতের মতো। জেসন স্কট ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে দেখে। সে কাউকে আলাদা করে চিনতে পারে না, কিন্তু লোকজনের চলাফেরার ধরন বুঝতে পারে। তারা এখন আর এলোমেলো নয়। তারা দল বেঁধে আছে।
জেসন বাইরে বের হয় না। সে দরজা বন্ধ রাখে। নিজের জমির ভেতরেই থাকে। এই সিদ্ধান্তটা তাকে অস্বস্তিতে ফেলে, কারণ সে কখনো লুকিয়ে থাকতে অভ্যস্ত নয়। কিন্তু, সে এটাও জানে, এই পরিস্থিতিতে বাইরে যাওয়া মানে কাউকে সুযোগ দেওয়া। সকাল গড়িয়ে দুপুরের দিকে যায়। ক্রীকের ধারে লোকজন বাড়ে। কেউ জাল ফেলে, কেউ পানিতে হাত ধোয়, কেউ ঘোড়া নিয়ে আসে। সবকিছুই স্বাভাবিক কাজের মতো, কিন্তু স্বাভাবিক নয় তাদের চোখ। সেই চোখগুলো বারবার তার আধা-তৈরি ঘরের দিকে ফিরে আসে।
দুপুরের দিকে প্রথম সরাসরি বার্তাটা আসে। কোনো মানুষ নয়, একটা বস্তু। জেসন দেখে, তার জমির সীমানার কাছে একটা কাঠের খুঁটি পুঁতে রাখা হয়েছে। সে আগের দিন এটা দেখেনি। খুঁটির মাথায় একটা পুরোনো টুপি ঝুলছে, ঘাম, ধুলো আর বয়সে শক্ত হয়ে যাওয়া। এটা তার নয়। আশপাশে কেউ নেই। খুঁটিটা ঠিক এমন জায়গায় রাখা, যেন সে উপেক্ষা করতে না পারে। সে কাছে গিয়ে টুপিটা নামায়। ভেতরে কিছু লেখা নেই। কোনো চিহ্ন নেই। এই শূন্যতাই বার্তা।
সে টুপিটা মাটিতে ফেলে দেয়। খুঁটিটা তুলে নেয় না। আবার ঘরে ফিরে যায়।
ডেডউড শহরে খবর ছড়াতে বেশি সময় লাগে না। বিকেলের দিকে শহর থেকে কয়েকজন লোক ক্রীকের দিকে আসে, কথা বলার অজুহাতে। তারা জেসনের জমির ভেতর ঢোকে না। দূরে দাঁড়িয়ে থাকে। একজন বলে, “এখানে এখন ভিড় বাড়বে।”
আরেকজন যোগ করে, “ভিড়ের মাঝেই অনেক কিছু ঘটে যায়।”
এই কথাগুলোর ভেতর কোনো প্রশ্ন নেই। জেসন উত্তর দেয় না। শুধু তাকিয়ে থাকে। লোকগুলো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চলে যায়। তাদের যাওয়ার ভঙ্গিতে তাড়া নেই। যেন তারা জানে, সময় তাদের পক্ষেই।
সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। ক্যাম্পগুলো থেকে শব্দ কমে যায়। হাসি থেমে যায়। আগুনগুলো জ্বলে ঠিকই, কিন্তু তার চারপাশে লোক কম। এই নীরবতা আগের রাতের মতো নয়। এটা ভারী। পরিকল্পিত। জেসন নিজের ঘরের চারপাশ ঘুরে দেখে। মাটিতে নতুন পায়ের ছাপ। আগের চেয়ে কাছাকাছি। কেউ ইচ্ছা করেই তার সীমানা লঙ্ঘন করছে। বারবার। ধীরে ধীরে।
রাত গভীর হলে প্রথম ঘটনা ঘটে। খুব ছোট। কিন্তু অর্থপূর্ণ। তার ঘরের পাশের পানির পিপেটা উল্টে দেওয়া হয়েছে। পানি ছড়িয়ে গেছে মাটিতে। কিছু ভাঙা হয়নি। আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়নি। শুধু দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা চাইলে আরও অনেক কিছু করতে পারত। জেসন পিপেটা আবার সোজা করে রাখে। পানি ভরে না। সে জানে, এটা আবার উল্টে দেওয়া হবে।
মধ্যরাতের দিকে দূরে ঘোড়ার শব্দ। এবার একাধিক। তারা থামে ক্রীকের ওপারে। কেউ এগিয়ে আসে না। আগুনের আলোতে কয়েকটা ছায়া দেখা যায়। জেসন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। বন্দুকটা হাতে নেয়, কিন্তু বের করে না। সে বোঝে, এই রাতের কাজ ভয় দেখানো। রক্ত নয়।
পরদিন সকালে ডেডউড থেকে একজন আসে। একা। বয়স মাঝামাঝি। পোশাক পরিপাটি। সে সীমানার বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলে, “কেউ ঝামেলা চায় না।”
জেসন উত্তর দেয় না। লোকটা আবার বলে, “শুধু জায়গাটা ঠিক হওয়া দরকার।”
এই ‘ঠিক’ শব্দটার মানে জেসন ভালোই বোঝে। সে অবশেষে বলে, “এটা আমার জায়গা।”
লোকটা হাসে না। মাথা নেড়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় শুধু বলে, “সব জায়গা সবার থাকে না।”
এই কথাটা হাওয়ার মধ্যে ঝুলে থাকে।
সেই বিকেলে জেসন প্রথমবার বুঝে যায়, এটা আর স্থানীয়দের চাপ নয়। এটা সংগঠিত। সে লক্ষ্য করে, কে কোথায় দাঁড়ায়, কে কার সঙ্গে কথা বলে। কিছু লোক আছে যারা কথা বলে না, শুধু দেখে। এই দেখাটাই বিপজ্জনক। সন্ধ্যার পর সে নিজের কাঠের গাদার দিকে যায়। এবার আর শুধু কোণ সরানো নয়, দুটি কাঠ কেটে নেওয়া হয়েছে। খুব নিখুঁতভাবে। যেন কেউ পরিমাপ করে দেখিয়েছে, কতটা নিতে পারে।
জেসন কিছু বলে না। কিছু ফেরত চায় না। সে শুধু একটা কাজ করে, নিজের ঘরের দরজায় অতিরিক্ত কাঠ লাগায়। জানালায় শাটার বসায়। এই কাজগুলো সে দিনে করে, সবার সামনে। সে লুকোচ্ছে না। সে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাত নামলে আবার সেই নীরবতা। কিন্তু এবার ভিন্ন। কেউ দরজার সামনে আসে না। কেউ শব্দ করে না। কিন্তু দূরে, ক্রীকের ধার ধরে, আগুনের আলোয় জেসন স্পষ্ট দেখে, মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। তারা কথা বলছে না। শুধু দাঁড়িয়ে আছে। যেন গুনছে।
এই দৃশ্যটাই সবচেয়ে ভয়ানক। কারণ এতে কোনো তাড়া নেই। এতে ধৈর্য আছে।
রাত গভীর হলে জেসন বুঝে যায়, পরীক্ষা শেষ। তারা দেখেছে সে ভাঙেনি। ভয় পায়নি। কথা বলেনি। এখন পরের ধাপ আসবে।
ভোরের ঠিক আগে হঠাৎ একটা শব্দ। খুব জোরে নয়। কাঠের ভাঙার শব্দ। জেসন দৌড়ে বাইরে যায়। দেখে, তার ঘরের একপাশের খুঁটি আলগা করা হয়েছে। পুরো ভাঙা নয়। শুধু দুর্বল করে রাখা। স্পষ্ট বার্তা: পরেরবার পুরোটা ভাঙা হবে।
জেসন সেই খুঁটিটা শক্ত করে বসায় না। সে ইচ্ছা করে দুর্বলটাই রেখে দেয়। যেন বলে দেয়, বার্তাটা সে বুঝেছে।
সূর্য ওঠার সময় সে ক্রীকের ধারে দাঁড়িয়ে থাকে। চারপাশে লোকজন। কেউ কাছে আসে না। কেউ কিছু বলে না। কিন্তু সবাই জানে, এই জায়গায় আর নিরপেক্ষতা নেই।
(চলবে)4 Comments
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন
ডিজাইনার
স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
Friends
কাশফিয়া নাহিয়ান
@kashfianahian
জিসান মাহমুদুল হাসান
@mxesun
Md fujal Hossen
@mdfujalhossen
shewly khatun
@shewlykhatun
আরাফাত আল মেহেদী
@arafat76
Hossain Muhammad Anwar
@hossainmuhammadanwar
Suranjit Master
@suranjitmaster
Surjotoron সূর্যতোরণ দূরশিক্ষণ
@surjotoron
Salman Shraban
@salmanshraban


নীরব হুমকির মাঝে অদম্য সাহস…..🤍