-
“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”
✍️ পর্ব : সাত (কলেজের দিনগুলো ও কবিতার ছোঁয়া)
স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে রবিন এবার পা রাখল কলেজে। কলেজে যাওয়া-আসার একটাই রাস্তা ছিল, যা শৈলীদের ঘরের ঠিক পাশ ঘেঁষেই চলে গেছে। জীবনের প্রথম প্রেম, নতুন কেনা সাইকেল, আর একদম নতুন কলেজ জীবন—সব মিলিয়ে রবিনের দিনগুলো কাটছিল এক অন্যরকম রোমাঞ্চে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিল, শৈলী যখন বাড়িতে থাকত, সে দূর থেকেই রবিনের যাওয়া-আসা টের পেয়ে যেত। আর সেটা হতো তাদের এক গোপন সংকেতের মাধ্যমে—রবিনের নতুন সাইকেলের মেটালিক বেলের স্পেশাল হার্ডি ‘টিং-টাং’ শব্দে! শৈলীদের বাড়ি পার হওয়ার সময় রবিন ঠিক একবারই বেলটি বাজাত, আর তাতেই শৈলীর মন চঞ্চল হয়ে উঠত।
এভাবেই দিন কাটছিল। কলেজে উঠে রবিন কিছুটা স্বাধীনতা পেয়েছিল। আর এই নতুন সাইকেল আর চেনা বেলের আওয়াজে শৈলীও নিজের হারানো নির্ভরতা ফিরে পাচ্ছিল। তবে একটা সমস্যা তৈরি হলো—শৈলী রয়ে গেল স্কুলে আর রবিন চলে গেল কলেজে, যার ফলে প্রতিদিন চোখে চোখে কথা বলার সুযোগ কমে গেল। দূরত্ব ঘোচাতে তারা আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরে গেল—চিঠি লেখা।
এখন আর দু-এক লাইনের চিরকুট নয়, রীতিমতো এক-দুই পাতার দীর্ঘ চিঠি লেখা হতো। তাও যেন মনের কথা শেষ হতে চাইত না! বান্ধবীদের মাধ্যমে এই চিঠি আদান-প্রদান হতো। তবে শৈলীর জন্য চিঠি পড়াটা ছিল এক মহা যুদ্ধ। সে বাড়িতেও চিঠি পড়তে পারত না, স্কুলেও না। চিঠি পাওয়ার পর দু-তিন দিন ধরে সে মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষায় থাকত। কখনো নির্জন ধানক্ষেতের আড়ালে, আবার কখনো পাশের বাড়ির বান্ধবীর ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে সে রবিনের ভালোবাসার কথাগুলো গো-গ্রাসে পড়ত।
এরই মাঝে রবিন সুযোগ খুঁজতে লাগল কীভাবে শৈলীর আরও কাছাকাছি যাওয়া যায়। সে বছরই সে এলাকার একটি আঞ্চলিক ত্রৈমাসিক পত্রিকা এবং একটি দেয়ালিকা সম্পাদনার দায়িত্ব পেয়ে গেল। শৈলী এবং তার বান্ধবীদের কয়েকজনের আবার লেখার হাত বেশ ভালো ছিল। নব্বইয়ের দশকের সেই সময়ে তরুণদের কাছে লেখালেখি মানেই ছিল কবিতা; গল্প, উপন্যাস বা প্রবন্ধের ধারেকাছে কেউ ঘেঁষত না। সবাই যেন কবি!
পত্রিকার সুবাদে রবিন ও তার বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে লাগল। আর সেই সুযোগেই কোনো কোনো দিন শৈলীর খুব কাছাকাছি হওয়ার বা তার দৃষ্টির সীমানায় আসার সুযোগ মিলত। আরেকটি বড় সুবিধা ছিল, রবিন প্রায় সব অনুষ্ঠানেই উপস্থাপকের দায়িত্বে থাকত। মঞ্চ থেকে রবিন সবসময় নিচের দিকে তাকিয়ে শৈলীকে খুঁজতে না পারলেও, শৈলী দর্শকদের মাঝে বসে তার নিজের মতো করে রবিনের বাচনভঙ্গি আর আপাদমস্তক দেখে তৃপ্তি পেত।
এমনকি স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানেও রবিনের সদা উপস্থিতি ছিল। স্কুলের শিক্ষকদের সাথে বিভিন্ন পর্ব পরিচালনার দায়িত্বে থাকত সে। সবকিছু মিলিয়ে তাদের প্রেম তখন বেশ জমজমাট। সে সময়ে ‘স্বজন’ ছবির গানটি দুজনেই খুব শুনত। ক্যাসেট প্লেয়ারে যখন বাজত—
“অনেক ভালোবেসে হয়েছি তোমার….।।
শপথ যদি চাও ও তো, শপথ দেব তাই…।।”
তখন মনে হতো এই সুন্দর কথামালা যেন তাদের নিজেদের জীবনের জন্যই লেখা হয়েছে।(গল্প চলমান )
9 Comments-
-
-
ধন্যবাদ @অমিত ভাই আপনাকে। এই লিখার ড্রাফট কপিগুলোই এখানে প্রকাশিত হচ্ছে । আমি এখনো এগুলো এডিট করার সুযোগ নেয়নি। একদম লেখার র’ অংশটুকুই এখানের পাঠকেরা শুধু পাচ্ছে এবং পাবে। সবাইকে বলছি ইহা আমার প্রথম কোন গল্প লেখার চেস্টা, তাই আমার লেখার শুধু ভাল দিকটাই না বলে মাঝে মাঝে একটু আধটু ভুল ভ্রান্তি থাকলে তা শুধরাতে বলবেন – এইটুকু আশা আপনাদের কাছ থেকে আশা করতেই পারি। কিন্তু চমক হবে, এই গল্পের শেষ পর্বটা আমি লিখবোনা- সেটা আপনারা কয়েকজন মিলে লিখে দিবেন। সেখান থেকে আমি ফাইনাল করবো কি ধরনের ফিনিশিং হতে পারে।।।ধন্যবাদ।
-
Friends
Reba Amina Begum
@rebaaminabegum
Kazi Adam
@kaziadam
মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সবুজ) সিকদার
@attokendrik
মোঃ আবু সাঈদ বিশ্বাস
@mdabusayeedbiswas
জিনাতুন নেছা
@zinatunnesa99
মোহাম্মদ তোফায়েল হাছান
@mohammedtofaylgmail-com
Smsadek__
@smsadek__
Hossain Muhammad Anwar
@hossainmuhammadanwar
Suranjit Master
@suranjitmaster



নস্টালজিয়ায় ভরা এক টুকরো নিখাদ প্রেম।