-
Suranjit Master is with চাঁদ সদাগর
ডায়েরি যখন ফেইসবুক –
৯০ দশকের কথা। আমি তখন হাইস্কুলে পড়তাম। আমার একটি অভ্যাস ছিলো ড্রয়িং করার।বই বা কোন কাগজে সুন্দর ছবি দেখলেই আঁকার ইচ্ছে হতো। ভীষণ মনোযোগ দিয়ে আঁকতাম। এঁকেই সবার আগে মাকে দেখাতাম। সুন্দর না হলেও মা খুব প্রশংসা করতেন। আমি খুব খুশি হতাম। তারপর এগুলো পড়ার রুমে গাম দিয়ে লাগিয়ে রাখতাম।প্রতিবেশী বা কোন আত্মীয় আসলে মা এগুলো একটা একটা করে দেখাতেন আর বলতেন এগুলো আমার ছেলে এঁকেছে। আমি অনুপ্রাণিত হতাম আরো বেশি করে ড্রয়িং করতে। তখন কিন্তু এত এত কালার পেন্সিল ছিলো না। থাকলেও ৭/৮ মাইল হেঁটে উপজেলায় গিয়ে কিনে আনার সুযোগ ছিলোনা। এত কষ্ট করে আঁকা ছবি কিছু দিন পরেই তেলাপোকা খেয়ে সাবাড় করে দিতো। কেন জানেন? এগলো গাম দিয়ে লাগানো ছিলোনা। গামের অভাবে ভাতের ফেন দিয়ে ঘষিয়ে লাগিয়ে দিতাম তাই। একদিন আমার এক ভাগিনা বেড়াতে আসলো আমাদের বাড়িতে। ও খুব ছোট। সন্ধ্যায় মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে আমার সাথে পড়তে বসলো। হঠাৎ দেয়ালে থাকা ছবিগুলোতে আগুন লাগিয়ে দিলো। সব গুলো পুড়ে ছাই। সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। ভাগিনাকে মা ইচ্ছেমত গালি দিলো। মা তো মা- ই।
আরেকটি অভ্যাস ছিলো। আমি মাঝে মাঝে ডায়েরি লিখতাম। সাড়াদিন কি করলাম, সাড়া সপ্তাহ কি করলাম তা ধারাবাহিক ভাবে লিখতাম। লিখে লুকিয়ে রাখতাম টেবিলের ড্রয়ারে। টেবিলটা সুন্দর ছিলো এবং ড্রয়ারটি বেশ বড় ছিলো।আমার ব্যক্তিগত জিনিস এখানে তালাবদ্ধ করে রাখতাম। যাকগে, যে কথা বলছিলাম আমি কবিতা লিখতাম, ছন্দ লিখতাম, প্রেমের চিঠি লিখতাম যদিও প্রেমিকা ছিলোনা। মনে যা আসতো তাই লিখতাম। একারণেই ডায়েরিটি লুকিয়ে রাখতাম। কেউ এটা দেখতো না। যখন একা থাকতাম তখন ডায়েরি বের করে পড়তাম। বেশ ভালো লাগতো। তবে সহপাঠী বা ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাঝে মাঝে ডায়েরি বের করে পড়তো।আমি রাগ করতাম। বলতাম এটা আমার একান্ত গোপনীয়। তুমি এটা পড়তে পারোনা। কালের বিবর্তনে এখনকার ছাত্ররা এরকম লিখে কিনা জানিনা। হ্যা লিখে।আরো ভালোভাবে লিখে। লিখে প্রকাশও করে।কারণ কি জানেন? ঐ যে আমি ডায়রিটার কথা বললাম না, এটা সময়ের প্রয়োজনে ডায়েরি না হয়ে এর নাম হয়ে গেছে ফেইসবুক। শুধু তফাৎটা হলো আগে লুকিয়ে রাখতাম আর এখন কিছু একটা লিখেই ফেইসবুক এ পোস্ট করে।আবাল- বৃদ্ধ – বনিতা,ছোট-বড়, ছাত্র -শিক্ষক সবাই লিখে পোস্ট করেন। আমরা সবাই একে অপরের লেখা পড়ে লাইক কমেন্ট শেয়ার করি। এটা যে খারাপ তা নয়। এটা থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে। অনেক শিক্ষণীয় পোস্ট আছে যা থেকে জ্ঞান অর্জন করা যায়। সেই ডায়েরি থেকে ফেইসবুক হয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে গেছে। ফেইসবুক নিয়মিত ব্যবহার করলে সংবাদ পত্র বা টিভি নিউজ না দেখলেও চলমান বিশ্বের সাথে আপডেট থাকা যায়। আবার এর খারাপ দিকও আছে। এর সুফল বা কুফল নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর। যেমন ঘোড়া একটি প্রাণীর নাম। একজন পশু বিশেষজ্ঞ এটাকে চতুষ্পদ জন্তু বলবেন, একজন ভ্রমণকারী এটাকে বাহন বলবেন। আবার রাজার কাছে এটা শখের খেলনা। একটি প্রাণীই একেক জনের কাছে একেক অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটাই হচ্ছে দৃষ্টি ভঙ্গি। ফেইসবুকও হচ্ছে তাই। যে যেভাবে ব্যবহার করবে সেরকম ফলও পাবে।
কেই একজনকে একটি চাকুরী দিয়ে গর্ববোধ করে যে আমি অন্তত একটি মানুষের জন্য ভালো কাজ করতে পেরেছি। আবার আরেক জন অন্য একজন শান্তি প্রিয় মানুষের চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে আনন্দে উল্লাস করে।এটাই দৃষ্টি ভঙ্গির ভিন্নতা। কাজেই আমরা যদি সবাই পজিটিভ চিন্তা করে ফেইসবুক ব্যবহার করি তাহলে এটি অর্থবহ না হয় নৈতিকতার স্খলনই বৈকি।
শুভ সকাল
সুরঞ্জিত দাস
১৩/০৯/২৫
Friends
Kd Rezaul Karim Hira
@kdrkh2005
Syed Farah
@syedfarah
তহমিনা পারভীন
@tohominaparvin
Deepro Ruhul Wahab
@deeproruhulwahab
Hossain Muhammad Anwar
@hossainmuhammadanwar
Dalia Al Mim
@daliaalmim
ফারহান সীমান্ত
@melbetkhan
আনিস কবির
@aniskabir
Drako Shajib
@drako