Profile Photo

আনিস কবিরOffline

  • aniskabir
  • Profile picture of আনিস কবির

    সাম্প্রদায়িকতা ও বাংলাদেশ
    —————————–
    ধর্ম নিয়ে ব্যবসা, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, ধর্মান্ধতা বা ধর্মীয় উগ্রবাদ যাই বলি না কেন, ভারতবর্ষে এই বিষবাষ্প বিকিরণ হচ্ছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। ভারতবর্ষ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়েছে সত্যি, কিন্তু ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ হয়নি আজো। আমরা শিক্ষিত হচ্ছি, আমরা বিত্তবান হচ্ছি এবং সাথে সাথে আমরা অসভ্য হচ্ছি। কিন্তু হওয়ার কথা ছিল উল্টো। শত শত বছর আগে ইউরোপীয়রা ধর্মকে অস্ত্র বানিয়েছিল রাজ্য দখল ও রাজ্য শাসনের হীন স্বার্থে। তাদেরকে অনুসরণ করেছিল মধ্যপ্রাচ্য ও দূরপ্রাচ্যের দেশগুলো। ভারতবর্ষ সেখান থেকে নিজেকে আলাদা রাখবে কি করে? ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় ধরে ভারতবর্ষ শাসিত হয়েছে কররাজ্য এবং কলোনি হিসেবে। যদিও মগ, পর্তুগিজ কিংবা ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে এসেছিল শুধুই বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে, ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়, তদুপরি ভারতবর্ষ কখনোই তাদের সামন্তবাদী প্রভুদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে অত্মস্ত করতে পিছু পা হয়নি। মনিবকে অনুসরণ করার চিরকালীন মানসিক হীনমন্যতা আরকি! আধুনিক ও ভবিষ্যত পৃথিবীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্ম কোনো নিয়ামক শক্তি হতে পারে না, একথা ইউরোপ বুঝে গিয়েছিল অনেক দিন আগেই, আর তাই তারা তাদের সংবিধানকে সংশোধন করেছিল এবং রাষ্ট্রকে ঘোষণা করেছিল ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে। বলাবাহুল্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ও কমিউনিজমের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে শেষপর্যন্ত ভারতবর্ষও হেটেছে সেই পথেই। দুঃখের বিষয় হলো সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতার যে সংজ্ঞা ইউরোপ বা আমেরিকা প্রণয়ণ করেছিল এবং তাদের সংবিধানে সংযোজন করেছিল, সেই সংজ্ঞায় তারা নিজেরাই নিজেদেরকে সংশোধিত করতে পারেনি। আর পারেনি বলেই আজো পৃথিবীতে ধর্মের নামে ভূমি দখল হয়, সম্পদ লুট হয় আর হয় রাজনীতি। সেই রাজনীতি থেকে খোদ আধুনিক ইউরোপ বা আমেরিকা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারেনি। তাহলে ভারতবর্ষ পারবে কি করে? না পারেনি। হয়তো পারবেও না। তবুও নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে। নিজেদের সঙ্গে আমাদেরকে বুঝতে হবে। কেননা, ভারতবর্ষ এখন আর একক সত্ত্বা নয়। ভারতবর্ষ ভেঙ্গে হিন্দু মেজরিটির ভারত এবং মুসলমান মেজরিটির পাকিস্তান ও বাংলাদেশ হয়ে গেছে আজ বহুদিন হলো। একবিংশ শতাব্দির এই সময়ে এসে এখন আমাদেরকে বাংলাদেশ হিসেবে নিজেদেরকে চিন্তা করতে হবে একক ভাবে। আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করতে হবে। আমরা কি এখনো আমাদের ইউরোপীয় প্রভূদের পা চাটব? মধ্যপ্রাচ্যকে আমাদের নতুন প্রভূর আসনে বসিয়ে দেব? গুজরাটি হিন্দু দুষ্কৃতিকারী ও তাদের অসভ্য অনুসারীদেরকে আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাড় করাব? নাকি আমরা নিজেরাই পৃথিবীকে ধর্মনিরপেক্ষতার নতুন সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করে দেখাব? নিজেরাই পৃথিবীর জন্য দৃষ্টান্ত হব?? বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত “কপালকুন্ডলা” উপন্যাসে বলেছিলেন – “তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?” আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো বঙ্কিমচন্দ্র নিজে একজন ধর্মীয় উগ্রবাদী চিন্তার ধারক এবং বাহক ছিলেন। বঙ্কিম অধম ছিলেন, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?
    বাংলাদেশ হোক ধর্মীয় সহনশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, এ দেশের বুকে শান্তি আসুক নেমে, এই কামনায়….

    1
    1 Comment
    • বাংলাদেশ হোক ধর্মীয় সহনশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—এই কামনায় আপনার সাথে সহমত পোষণ করছি। দারুণ লিখেছেন!

Skip to toolbar