-
❤️ “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী” ❤️
✍️ পর্ব চৌদ্দঃ (নতুন মাধ্যম, নতুন অপেক্ষা )
নীরার বিয়ের সানাই বাজতেই রবিন ও শৈলীর প্রেমের প্রথম চিঠি-বাহক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে যে মেয়েটি তাদের দুজনের হৃদয়ের মাঝখানে এক নীরব সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, সে এবার নিজের নতুন জীবনের পথে পা বাড়াল। নীরার চলে যাওয়া যেন তাদের ভালোবাসার পথ থেকে একটি পরিচিত ছায়াকে সরিয়ে দিল, কিন্তু থামিয়ে দিতে পারল না তাদের অনুভূতির যাত্রা।
শৈলীর পরামর্শ অনুযায়ী এবার রবিন যোগাযোগের চেষ্টা করল রিসার সঙ্গে।
রিসা ছিল শৈলীদের বাড়ির অদূরে থাকা একটি পরিচিত মুখ। তার বাড়ির পাশের সরু কাঁচা পথ দিয়েই মাঝেমধ্যে শৈলীদের পুরোনো বাড়িতে যাতায়াত করতে হতো শৈলীকে। একদিন কলেজে যাওয়ার পথে রিসাকে একা পেয়ে কিছুটা ইতস্তত করেই রবিন বলল,
— রিসা, একটা অনুরোধ ছিল…
রিসা মুচকি হেসে বলল,
— বলুন রবিন ভাই।
— শৈলী কি তোমাদের ওদিকে আসে?
কথাটা শুনেই রিসার ঠোঁটের কোণের হাসিটা একটু চওড়া হলো। যেন সে আগেই প্রশ্নটির জন্য প্রস্তুত ছিল।
— বুঝেছি। শৈলী আমাকে আগেই সব বুঝিয়ে রেখেছে। চিন্তা করবেন না, আপনাদের চিঠিপত্রের দায়িত্ব আজ থেকে আমার। যতদিন আমি আছি, বিষয়টা একদম নিরাপদ।
তারপর দুষ্টুমি ভরা হাসি হেসে যোগ করল,
— তবে একটা কথা বলে রাখি রবিন ভাই, একদিন কিন্তু এই উপকারের বদলা চাইব। গিভ অ্যান্ড টেক বলে একটা কথা আছে না? আপনার কলেজের সেই বন্ধুটাও কিন্তু আমার বেশ পছন্দের মানুষ। সুযোগ হলে একদিন ওকে নিয়ে একটু বিস্তারিত আলাপ করব, কেমন?
রিসার কথায় রবিন হেসে ফেলল। বুকের ভেতর জমে থাকা দুশ্চিন্তার মেঘটাও যেন খানিকটা সরে গেল। সে বুঝতে পারল, তাদের ভালোবাসার গোপন সেতুটি ভেঙে যায়নি; শুধু একজন পথিকের জায়গায় আরেকজন এসে দাঁড়িয়েছে।
নতুন এক মাধ্যমের মাধ্যমে আবারও চলতে শুরু করল তাদের ভালোবাসার গোপন আদান-প্রদান।
সেদিনগুলো ছিল অপেক্ষার দিন।
দিনের বেলা কলেজ, পড়াশোনা, সংসারের নানা ব্যস্ততা—আর রাত হলেই যেন খুলে যেত অন্য এক জগৎ।
গভীর নীরব রাতে কেরোসিন ল্যাম্পের হলদে আলোয় বসে রবিন চিঠি লিখত। সাদা কাগজের ওপর ফুটে উঠত তার মনের সব অপ্রকাশিত কথা। কখনো ভবিষ্যতের স্বপ্ন, কখনো শৈলীকে নিয়ে ছোট্ট কোনো অভিমান, আবার কখনো শুধুই নিঃশব্দ ভালোবাসার স্বীকারোক্তি। কাগজের পাতায় লেখা প্রতিটি শব্দ যেন তার হৃদয়েরই একেকটি স্পন্দন হয়ে উঠত।
অন্যদিকে শৈলীও দিন গুনত।
রিসাদের বাড়ির পেছনের সুপারি বাগানের নির্জন ছায়ায় দাঁড়িয়ে সে অপেক্ষা করত। সুযোগ বুঝে রিসার হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে দ্রুত নিজের পোশাকের ভাঁজে লুকিয়ে ফেলত। তারপর বাড়িতে ফিরে নির্জনে বসে সেই চিঠি পড়ত বারবার। কখনো একবার, কখনো দুবার, কখনো বা এতবার যে কাগজের ভাঁজগুলোও যেন মুখস্থ হয়ে যেত।
চিঠির প্রতিটি শব্দ তাদের দূরত্বকে একটু একটু করে কমিয়ে দিত।
একদিন রিসার হাত ধরে শৈলীর একটি ছোট্ট চিঠি এসে পৌঁছাল রবিনের কাছে।
চিঠিতে লেখা ছিল—
“প্রিয় রবিন,
পড়াশোনা কেমন চলছে?
তুমি তো চা একটু বেশিই খাও। কিন্তু আমার অনুরোধ, রাত জেগে খুব বেশি চা খেয়ো না। তার বদলে পানি একটু বেশি খেয়ো। আমার আম্মা প্রায়ই বলেন, অতিরিক্ত চা শরীরের জন্য ভালো নয়।
সামনে তোমার এইচ.এস.সি পরীক্ষা। জানি তুমি মন দিয়ে পড়ছ, তবুও কেন জানি বুকের ভেতর একটা অকারণ ভয় কাজ করে। তুমি ভালো ফলাফল না করলে আমাদের সেই অলিখিত চুক্তির কাছে আমি নিজেকেই অপরাধী মনে করব।
নিজের খেয়াল রেখো।
আর হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে আকাশের দিকে তাকিও। সন্ধ্যার প্রথম তারাটা দেখলেই আমার তোমার কথা মনে পড়ে। যদি পারো, প্রতিদিন একবার সেই তারাটার দিকে তাকিয়ো। আমিও তাকাব।
তখন মনে হবে, দূরে থেকেও আমরা একই আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। মনে হবে, আমাদের দুজনের দৃষ্টি এই বিশাল আকাশের কোনো এক অদৃশ্য বিন্দুতে গিয়ে মিলেছে।
আর বেশি দিন নয়। তোমার পরীক্ষার সময় খুব শিগগিরই আমাদের দেখা হবে।
ইতি—
তোমার শৈলী।”
চিঠিটা পড়া শেষ করে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল রবিন।
মুখে অজান্তেই এক টুকরো হাসি ফুটে উঠল।
তার মনে হলো, শৈলী আর আগের সেই চঞ্চল কিশোরীটি নেই। সময় তাকে ধীরে ধীরে অন্যরকম করে গড়ে তুলছে। এখন সে শুধু ভালোবাসতে জানে না, ভালোবাসার মানুষটিকে আগলে রাখতেও জানে। তার প্রতিটি কথায় যেন মিশে আছে দায়িত্ব, মমতা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তা।
একসময় রবিন আলতো করে চিঠিটা ভাঁজ করল। তারপর পরম যত্নে বুক পকেটে রেখে আকাশের দিকে তাকাল।
সন্ধ্যার আলো তখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে। পশ্চিম আকাশে জ্বলে উঠছে প্রথম তারা। সেই তারার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রবিনের মনে হলো, এই মুহূর্তে হয়তো শৈলীও কোথাও দাঁড়িয়ে একই তারাটার দিকে তাকিয়ে আছে।
এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে এলো তার মনে।
রবিন মৃদু হেসে মনে মনে বলল—
“আমি কথা রাখব, শৈলী। আমাদের অলিখিত চুক্তি আমি কোনোদিন ভাঙব না।”✨ দূরের সন্ধ্যাতারায় এসে মিশে গেল দুটি তরুণ হৃদয়ের দৃষ্টি, প্রতীক্ষা, অগণিত স্বপ্ন আর একদিন সমস্ত বাধা পেরিয়ে এক হওয়ার নীরব অঙ্গীকার। ✨
আকাশের প্রথম তারাটি 🌟 তখনও জ্বলজ্বল করছিল—দূরত্বের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি প্রেমময় হৃদয়ের নীরব সাক্ষী হয়ে। 💕💫
(চলবে…) ❤️
3 Comments
Friends
মোঃ আবু সাঈদ বিশ্বাস
@mdabusayeedbiswas
জিনাতুন নেছা
@zinatunnesa99
মোহাম্মদ তোফায়েল হাছান
@mohammedtofaylgmail-com
Smsadek__
@smsadek__
Hossain Muhammad Anwar
@hossainmuhammadanwar
Suranjit Master
@suranjitmaster
মিনহাজ লিমন
@minhaz-limon
নাদিম হোসাইন
@nadim-hossain
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com



sundor