-
“লাশবাহী নদীর পাশে”
নীরবতা নদীর পাড় ছিল অদ্ভুত। এলাকার লোকজনের কাছে এর নাম ছিল ‘লাশবাহী নদী’, কারণ ভরা বর্ষায় প্রায় প্রতি বছরই এখানে ভেসে আসত অচেনা কোনো মৃতদেহ। তবুও, এই শুষ্ক মৌসুমে নদীটি শান্ত, এক অলস দৈত্যের মতো পড়ে থাকত।
সেদিন ছিল ভরা দুপুর। সুমন আর সৌরভ মাছ ধরার জন্য নদীর ভেতরের দিকে গিয়েছিল। যে জায়গাটা গ্রামের বাকিদের কাছে ছিল প্রায় নিষিদ্ধ, কারণ সেখানে নদীর বাঁকটা খুব ভয়ানক। সেখানেই দেখা গেল সেই অদ্ভুত দৃশ্য।
“কিরে, এটা কীসের পায়ের ছাপ?” সৌরভ ফিসফিস করে বলল, তার চোখ বিস্ময়ে বড়।
সুমন ঝুঁকে পড়ল। ছাপটা কোনো সাধারণ পায়ের ছাপ ছিল না। খালি পায়ের, কিন্তু এত বড় যে সুমনের নিজের পা তার অর্ধেক হবে। ছাপগুলো কাদা থেকে শুরু হয়ে ভেজা বালির ওপর দিয়ে শুকনো ঘাসের দিকে চলে গেছে। সবচেয়ে অদ্ভুত, ছাপগুলো নদীর পাড় থেকে বাইরের দিকে যাচ্ছে। যেন কেউ গভীর জল থেকে উঠে দ্রুতগতিতে দৌড়ে পালিয়েছে।
“মানুষের নাকি অন্য কিছুর?” সুমনের গলাতেও একরাশ ভয়।“মানুষেরই, তবে… এত বড় পায়ের মানুষ তো এই তল্লাটে নেই!” সৌরভ চারপাশে তাকাল। তাদের দ্রুত এই খবরটা নূরকে জানানো দরকার। নূর, গ্রামের একমাত্র ব্যক্তি, যার বইয়ের জ্ঞান আর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
তারা দুজন দ্রুত গ্রামে ফিরে গেল।নূর, একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক, তার বারান্দায় বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। তার বয়স হলেও চোখ ছিল বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ। সুমন আর সৌরভ হাঁপাতে হাঁপাতে তাকে সব বলল।
নূর সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন। “চলো।”
নদীর পাড়ে পৌঁছে নূর খুব মনোযোগ দিয়ে ছাপগুলো পরীক্ষা করলেন। তিনি কেবল ছাপের আকার নয়, তার গভীরতা এবং ভেতরের কণার দিকেও নজর দিলেন।“সাইদ ভাই, আপনি কী মনে করেন?” নূর এলাকার মাতব্বর সাইদকে প্রশ্ন করলেন, যিনি উৎসুক জনতার ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সাইদ, স্থূলকায় একজন মানুষ, তার নাক কুঁচকে বললেন, “আরে ধুর! গাঁজাখুরি গল্প। নিশ্চই কোনো মাতাল মাঝরাতে জল খেতে এসে কাদা মেখে চলে গেছে। এর মধ্যে রহস্য খুঁজতে যেও না, নূর। লোক হাসাবে।”
নূর সাইদের কথায় কান দিলেন না। তিনি আঙুল দিয়ে ছাপের ভেতরের ভেজা বালিগুলো ছুঁয়ে দেখলেন।“সাইদ ভাই, দেখুন,” নূর শান্ত স্বরে বললেন, “এই ছাপের ভেতরের বালিগুলো এখনও ভিজে। মানে, এই ঘটনা খুব বেশি হলে ভোর রাতের। আর ছাপের গভীরতা বলছে, লোকটার ওজন কম করে হলেও একশো কেজির উপরে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছাপগুলো পাড়ের একেবারে শেষ অংশ থেকে শুরু হয়েছে, যেখানে সাধারণত জল থাকে। মনে হচ্ছে, লোকটা নদী থেকে কোনো কিছু নিয়ে উঠে এসেছে।”
সুমন ফিসফিস করে সৌরভকে বলল, “লাশবাহী নদী… তবে কি কোনো লাশ?”খবরটা দ্রুত গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল। মিষ্টি আর বৃষ্টি, গ্রামের দুই চঞ্চল তরুণী, তাদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই গল্প করছিল।
“শুনেছিস? বিরাট বড় পায়ের ছাপ,” মিষ্টি বলল। “নিশ্চই কোনো শয়তান ওটা! নীরবতা নদী এমনিতেই ভালো না।”
বৃষ্টি বলল, “আমার মনে হয় এর সাথে ঐ নতুন লোকটার সম্পর্ক আছে।”
“নতুন লোক? জাকিয়া মাসি?”জাকিয়া, সম্প্রতি এই গ্রামে এসেছেন। নদীর পাড় থেকে কিছুটা দূরে, বুনো ঝোপঝাড়ের আড়ালে একটা পুরোনো কুঁড়েঘরে তিনি একা থাকেন। তিনি গ্রামের কারো সাথে মেশেন না, খুব ভোরে বেরিয়ে যান আর সন্ধ্যায় ফেরেন। তার নীরবতা আর একাকীত্ব তাকে এমনিতেই রহস্যময় করে তুলেছে।
সাইদ জাকিয়ার নাম শুনেই নূরের কাছে এলেন। “নূর, আমি আগেই বলেছি, এই মহিলারা এসব বাজে জিনিস টানে। ঐ জাকিয়া! সে নির্ঘাত কিছু একটা লুকিয়ে রেখেছে। ওকে ধরো।”নূর শান্তভাবে বললেন, “সাইদ ভাই, প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা যায় না। আর জাকিয়ার পায়ের মাপ এত বড় হওয়ার সম্ভাবনা কম।”
“তবে ও কেন এত লুকায়? কেন মানুষের সাথে কথা বলে না?” সাইদ চেঁচিয়ে উঠলেন। সাইদের উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট, গ্রামের সমস্ত সমস্যার দায় জাকিয়ার ওপর চাপিয়ে দেওয়া।
নূর তখন তামিম আর শিহাবকে ডাকলেন। “তামিম, তুমি আর শিহাব পাড় বরাবর ঐ পায়ের ছাপগুলো অনুসরণ করো। দেখো কোথায় গিয়ে থেমেছে। সুমন, তুমি ওদের সাহায্য করো।”তিনজন তরুণ, তামিম, সুমন আর শিহাব, সতর্কভাবে ছাপগুলো অনুসরণ করতে শুরু করল। ছাপগুলো প্রথমে শুকনো ঘাসের মধ্যে দিয়ে, তারপর খেতের আল ধরে গ্রামের উল্টো দিকে চলে গেছে। শিহাব ছিল স্বভাবতই নীরব, কিন্তু তার চোখে ছিল অনুসন্ধিৎসা। তামিম ছিল কিছুটা ভীতু, বারবার পেছনে ফিরে তাকাচ্ছিল।
“যদি সত্যি লাশ হয়?” তামিম কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।“তাহলে আমরা প্রমাণ পাব,” সুমন আত্মবিশ্বাসের সাথে জবাব দিল।
প্রায় এক কিলোমিটার হাঁটার পর, ছাপগুলো হঠাৎই শেষ হলো। শেষ ছাপটা পড়েছিল একটা ঘন বাঁশঝাড়ের পাশে। বাঁশঝাড়ের ওপাশেই জাকিয়ার কুঁড়েঘর।শিহাব নীরবে মাটিতে ঝুঁকল। “ভাই, দেখুন, এখানে কিছু একটা টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
মাটিতে একটা দীর্ঘ, অস্পষ্ট দাগ ছিল, যা ছাপগুলো থেকে আলাদা। মনে হচ্ছে, কেউ কোনো ভারী জিনিস ঘাসের ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে গেছে। দাগটা বাঁশঝাড়ের ভেতরে জাকিয়ার বাড়ির দিকে চলে গেছে।সুমন আর তামিম ভয়ে আর এগোতে পারল না। কিন্তু শিহাব তাদের থামিয়ে দিল।
“দাঁড়াও,” সে বলল। “দাগটা কেবল এই পর্যন্ত এসেছে, তারপর আবার ঘুরে গেছে।”
তারা ভালো করে দেখল। দাগটা বাঁশঝাড়ের ভেতরে কিছুদূর গিয়ে একটা ভাঙা মাটির পাত্রের কাছে থেমেছে। কিন্তু এরপরের মাটিতে কোনো দাগ বা ছাপ নেই। কেবল, পাত্রের পাশে মাটিটা সদ্য খোঁড়া হয়েছে এবং আবার ভরাট করা হয়েছে। মাটিটা বেশ আলগা।
“এখানেই কিছু একটা চাপা দেওয়া হয়েছিল,” সুমন উত্তেজিত হয়ে বলল।
কিন্তু ততক্ষণে গ্রামের বাকি লোক, সাইদ আর নূরের নেতৃত্বে, সেখানে পৌঁছে গেছে।
সাইদ হাঁক দিলেন, “জাকিয়া! বেরিয়ে আয়! তোর সব চালাকি আজ শেষ!”জাকিয়া, রোগা এবং কিছুটা ফ্যাকাশে চেহারার মহিলা, তার দরজা খুলে বেরোলেন। তার চোখে ভয় ছিল না, ছিল এক ধরণের গভীর শূন্যতা।
“কী হয়েছে?” জাকিয়া শান্ত স্বরে প্রশ্ন করলেন।
সাইদ আঙ্গুল তুলে সদ্য খোঁড়া মাটিটা দেখালেন। “এখানে কী লুকিয়েছিস? পায়ের ছাপ আর এই খোঁড়া মাটি সব বলছে। নিশ্চয়ই কোনো লাশ!”
জাকিয়া এক মুহূর্তের জন্য মাটির দিকে তাকালেন, তারপর মাথা তুলে নূরকে দেখলেন। তার চোখে একটা গোপন আবেদন ছিল।
নূর এগিয়ে এসে জাকিয়ার সামনে দাঁড়ালেন। “জাকিয়া, আমরা আপনার ক্ষতি করতে চাই না। শুধু জানতে চাই, নীরবতা নদীর পাড়ে যে পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে, সেটা কার? আর এই মাটিতে কী চাপা দেওয়া হয়েছে?”
জাকিয়া ধীরে ধীরে বললেন, “আমি কাউকেই দেখিনি। মাঝরাতে আমি বাড়ি থেকে বেরোই না।”
বৃষ্টি আর মিষ্টি তখন ফিসফিস করছিল। “মিথ্যা বলছে! ওর চোখ দেখ।”নূর বললেন, “আর ঐ খোঁড়া মাটি?”
জাকিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। “ওটা… ওটা আমার জিনিস ছিল। আমার জীবনের সব সঞ্চয়, কিছু পুরোনো স্মৃতি। নদীর জলে ভেসে যাচ্ছিল, তাই পাড় থেকে উঠে এসে তাড়াতাড়ি এখানে লুকিয়েছিলাম। কেউ যাতে দেখতে না পায়।”
সাইদ অট্টহাসি হেসে উঠলেন। “টাকা? আর এত রাতে একা একশো কেজির লোক কেন নদীর পাড় থেকে উঠল? সত্যি বল! কাকে মেরেছিস?”
জাকিয়ার মুখ কঠিন হলো। “আমি কাউকে মারিনি। আমার কথা বিশ্বাস না হলে আপনারা মাটি খুঁড়ে দেখতে পারেন।”নূর কিছুক্ষণ জাকিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, জাকিয়া কিছু একটা লুকাচ্ছেন, কিন্তু সেটা খুনের ভয় নয়, অন্য কোনো গভীর বেদনা। তিনি তার হাত তুলে ভিড়টাকে থামালেন।
“আমরা পরে দেখব,” নূর বললেন। তিনি জাকিয়াকে আরেকবার দেখলেন, তারপর তার দৃষ্টি গেল সাইদের পায়ের দিকে।
সাইদ, নিজেকে ভিড়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ করার জন্য, বারবার পা ঝাঁকাচ্ছিলেন। তার পায়ে ছিল চামড়ার মোটা স্যান্ডেল, যা সাধারণত গ্রামে কেউ ব্যবহার করে না।সন্ধ্যা নামছিল। সবাই জাকিয়ার ওপর সন্দেহ নিয়ে ফিরে গেল। কেবল নূর একা বসে নদীর পাড়ের ছাপগুলো নিয়ে ভাবছিলেন।
“একশো কেজি… বড় পা… নদী থেকে উঠে আসা… জিনিস লুকিয়ে আবার ফিরে যাওয়া,” নূর মনে মনে সব পুনরাবৃত্তি করলেন।
হঠাৎই তার মাথায় একটা ভাবনা খেলে গেল। তিনি দ্রুত সুমনকে ডেকে পাঠালেন।
“সুমন, তুমি কি একটা কাজ করতে পারবে? সাইদ ভাইয়ের জুতোটা বা একটা ভালো পায়ের ছাপের একটা পরিমাপ এনে দিতে পারবে?”
সুমন অবাক হলেও কথা বাড়াল না। সাইদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে সাহস হলো না, তাই সে কৌশলে সাইদের পুরোনো জুতো রাখার ঘর থেকে তার ব্যবহৃত একটা স্যান্ডেলের ভেতরের মাপ কাগজে টুকে আনল।
নূর মাপটা ভালো করে দেখলেন। স্যান্ডেলটা ছিল অস্বাভাবিক বড়, প্রায় ১৫ নম্বরের কাছাকাছি। এই মাপের পা গ্রামে আর কারও নেই। কিন্তু ছাপটা ছিল খালি পায়ের।পরের দিন ভোরবেলা। নূর আবার একা সেই বাঁশঝাড়ের কাছে গেলেন। তিনি খুঁড়ে রাখা মাটিটার দিকে তাকালেন। জাকিয়া বলেছেন তিনি টাকা লুকিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা যদি নদীর জলে ভেসে আসে, তাহলে তার সাথে একশো কেজির বিশাল দেহের কী সম্পর্ক?
তিনি আবারও সেই বাঁশঝাড়ের শেষ প্রান্তে গেলেন, যেখানে ছাপগুলো হঠাৎ শেষ হয়েছে। আর সেই টেনে নিয়ে যাওয়ার দাগটা। এবার তিনি গভীরভাবে লক্ষ্য করলেন। টেনে নিয়ে যাওয়ার দাগটা যতটা না ভারী কিছু টেনে নিয়ে যাওয়ার, তার চেয়ে বেশি মনে হচ্ছিল কোনো আটকে যাওয়া বস্তু পা দিয়ে টেনে তোলার দাগ।
নূর তখন সাইদের জুতো আর ছাপের আকারের মধ্যে একটা অদ্ভুত মিল খুঁজে পেলেন।
“যদি ছাপটা পা এর না হয়?” নূর নিজেকেই প্রশ্ন করলেন। “যদি ওটা… অন্য কোনো অঙ্গের ছাপ হয়?”হঠাৎই তার চোখ গেল নদীর দিকে। তিনি দ্রুত হেঁটে নদীর পাড়ের সেই প্রথম ছাপের কাছে গেলেন। এবার তিনি কেবল ছাপের দিকে তাকালেন না, তাকালে ছাপের পাশাপাশি ভেজা বালির ওপর দিয়ে চলে যাওয়া সাইদের স্যান্ডেলের হালকা ছাপটার দিকে। সাইদ কালও এখানে এসেছিলেন, এবং তার ভারী দেহের কারণে তার জুতো সামান্য কাদার ওপরও গভীর দাগ ফেলেছিল।
নূর তার হাতে থাকা পরিমাপের কাগজের সাথে সাইদের জুতো আর পায়ের ছাপের তুলনা করলেন।“একই দৈর্ঘ্যের ছাপ,” নূর ফিসফিস করে বললেন। “তবে খালি পায়ের ছাপটা এত চওড়া কেন?”
উত্তরটা তাকে চমকে দিল। খালি পায়ের ছাপটা আসলে ছিল না, ওটা ছিল একটি ছদ্মবেশী ছাপ। কেউ তার আসল পায়ের মাপ গোপন করার জন্য এমন কিছু ব্যবহার করেছে। কিন্তু কেন?
নূর সোজা সাইদের বাড়ির দিকে হাঁটলেন। সাইদ তখন বারান্দায় বসে পান চিবোচ্ছিলেন।
“সাইদ ভাই, একটা কথা জানতে চাই,” নূর শান্তভাবে বললেন। “আপনার পায়ের মাপ ১৫, তাই তো?”
সাইদ সামান্য চমকে গেলেন। “তাতে কী? এটা কি অপরাধ?”
“না, অপরাধ নয়,” নূর বললেন। “কিন্তু গতকাল নীরবতা নদীর পাড়ে যে ছাপটা পাওয়া গিয়েছিল, সেটা আপনার পায়ের ছাপের মতোই লম্বা। কিন্তু খালি পায়ের ছাপটা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ চওড়া। আসলে, ওটা কোনো মানুষের পায়ের ছাপ ছিল না। ওটা ছিল আপনার জুতো খুলে, তার ভেতরের দিকটা ব্যবহার করে তৈরি করা এক কৃত্রিম ছাপ।”সাইদের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
“কী বলছিস এসব?”
“আমি বাঁশঝাড়ের কাছে গিয়েছি। মাটি খোঁড়া হয়েছে। কিন্তু জাকিয়া লাশ লুকাননি, তিনি শুধু তার স্মৃতি আর টাকা লুকানোর জন্য মিথ্যে বলেছেন। আসল রহস্য আপনি লুকিয়েছিলেন,” নূর সাইদের চোখের দিকে তাকালেন। “আপনি কোনো একটা ভারী জিনিস নদীতে ফেলেছিলেন। এমন একটা জিনিস, যা ভেসে গেলে আপনার বিপদ হতো। আপনি ভেবেছিলেন স্রোত ওটা দূরে নিয়ে যাবে। কিন্তু ওটা নদীর পাড়েই আটকে গিয়েছিল। আর সেই গভীর রাতে, আপনি আপনার বড় জুতো খুলে, জুতোটার ভেতরের দিকটা দিয়ে কৃত্রিম পায়ের ছাপ তৈরি করে পাড় থেকে নেমেছিলেন। যাতে সবাই ভাবে এটা কোনো রহস্য, আর আপনার আসল কাজ কেউ না দেখে।”
সাইদের হাত থেকে পান পড়ে গেল। তিনি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন। “কী ছিল সেটা?”নূর শান্তভাবে বললেন, “আপনিই বলুন, সাইদ ভাই। আপনি নীরবতা নদীতে কী ফেলেছিলেন, যা এত রাতে এত লুকোচুরি করে আবার তুলতে হলো?”
সাইদ মাথা নিচু করে ফেললেন। তার মোটা শরীরটা কাঁপছিল। তার আর কথা বলার শক্তি ছিল না। জাকিয়াকে ফাঁসানোর চেষ্টা ছিল কেবল একটা নাটক, যাতে কেউ তার আসল কাজের দিকে নজর না দেয়। তিনি জানতেন, নদীর পাড়ে পাওয়া সেই অচেনা পায়ের ছাপ আর কারো নয়—সেটা ছিল তার নিজের ভীতি আর অপরাধ ঢাকার এক ব্যর্থ চেষ্টা।
আর নীরবতা নদী, সে তো চুপচাপ ছিলই। মানুষের সব গোপন পাপ সে নিজের বুকে সযত্নে ধারণ করে।
7 Comments
Friends
মো. আবু মোহাদ্দেস
@mohaddesh1967
ফারহান সীমান্ত
@melbetkhan
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com
জে এস এম অনিক
@00anik
জিনাতুন নেছা
@zinatunnesa99
Rashed Mahamud Mithun
@rashedmithun
মো:শাহীন হাওলাদার
@hmshahin
Shrabon
@shrabon1
Smsadek__
@smsadek__


একেবারে শরদিন্দু বা সত্যজিৎ রায়ের থ্রিলার গল্পের স্বাদ পেলাম! নূর মাস্টারের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ আর ১৫ নম্বর জুতোর মাপ দিয়ে যেভাবে শেষ মুহূর্তে সাইদ মাতব্বরের অপরাধ আর নাটককে খোলসা করা হলো—তা এক কথায় অনবদ্য। আবহ তৈরি থেকে শুরু করে লজিক্যাল এন্ডিং, দুটোই দুর্দান্ত ছিল!