-
রাত দুটো। ব্ল্যাকরিজ টাওয়ার।
আরিয়ান বসে আছে একটা সুসজ্জিত স্ক্রিনের সামনে। চারিদিকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। একটা লুকানো চেম্বার যেখানে সে তার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর কাজ করে। আসলে, আরিয়ান একজন আন্তর্জাতিক অপরাধ গবেষক আর ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার। তার কাছে যে ফাইল এসেছিলো “৭০৭” সেটা খুলে দেখছে আর স্ক্রিনের দিকে নজর রাখছে।
হঠাৎ ই ফ্যাক্স মেশিনে আওয়াজ পেয়ে সেদিকে লক্ষ্য করে। একটা ফ্যাক্স আসার কথা ছিলো। সে দ্রুত সেটা নিয়ে দেখতে বসে। সেখানে শুধু একটা লাইন লেখা, “Including the top shelf, join next Sunday.” HER.এবার দুশ্চিন্তায় পড়ে। আর মাত্র একটা দিন এরমধ্যেই সব গোছাতে হবে। মনে মনে নিজেকে শান্ত থাকতে বলে। মাত্রই অফিসের ডিলটা হলো। এখন যদি এখানে সময় না দেয় তবে ব্যাবসা তো লাটে উঠবে। কিন্তু এই মিশনটাও জরুরী। এতো বছর পর এটার হদিস পাওয়া গেছে কোনো ভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। বস্ খুব সিরিয়াস হয়ে আছেন। যাকে খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলো তার পুরো টিম আর সে নিজে। তাকে এতো সহজে ছেড়ে দেয়া যায় না।
এই কেস তাকে জিততেই হবে। অনেক হেনস্থার স্বীকার হতে হয়েছে। কিছুতেই এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না, এক মিনিট এটাতো অর্ডার। মানে কালকেই যেতে হবে।
আরিয়ান সব ডাটা গুলো নিজের কাছে নিয়ে নেই। এরপর একটা ম্যাসেজ পাঠিয়ে দেয় ব্যুরোর প্রধানের কাছে। মানে তার বসের কাছে। তাকে সব প্রস্তুতি নিতে হবে।
ভোর চারটা। আরিয়ান তার বাড়িতে। ফ্রেশ হয়ে এলার্ম সেট করে। আর ঘুমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ঘুম তো আসে না। অনেকটা উত্তেজনায় আর অনেক দিন পর একটা অ্যাডভেঞ্চারের মুখোমুখি হতে চলেছে। তারপরও শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এপাশ ওপাশ করে। কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পরে।
সকাল সাতটার সময় আরিয়ান রেডি হয়ে টেবিলে নাস্তা খাচ্ছে। আর তার কাজ গুলো রাহাতকে বুঝিয়ে দিচ্ছে। আগেই তাকে জানিয়ে রেখেছিলো যে সে যেনো সকাল হতেই এখানে চলে আসে। তার কথামতোই সে এসেছে। কাজ গুলো প্রায় বুঝানো হয়ে যাচ্ছে। এমন সময় রাহাত জীজ্ঞেস করে, “স্যার, আপনি কি কোথাও যাবেন? হঠাৎ করে আমাকে সব দায়িত্ব দিয়ে দিচ্ছেন।” তার সন্দেহ হয় যে স্যার আবার কোথাও উধাও হয়ে যাবেন সেই গতোবারের মতো। তার কাজ কি সে অবশ্য এখনো জানে না। আর তিনি কোথায় হারিয়ে যান মাঝে মধ্যে তার সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই।
তার কথায় আরিয়ান বলে, “সময় হলেই সব জানতে পারবে। এখন তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট শেষ করে নাও। অফিসে যাবো তারপর তোমাকে নিয়ে আরেক জায়গায় যেতে হবে। আজ পুরো ব্যাস্ত একটি দিন হবে।দশটা নাগাদ তারা অফিসে এসে পৌঁছায়। গাড়ি থেকে নেমে আরিয়ান রাহাতকে বলে সবাইকে ডেকে একটা মিটিং এর আয়োজন করতে। রাহাত তার কথামতো কাজ শুরু করে। আর আরিয়ান তার রুমে চলে যায়।
একটা সুন্দর বিকেল। আরিয়ান একটা কপি শপে বসে আছে। তার মুখ দেখা যাচ্ছে না বড়ো হ্যাটের কারণে। আর একটা বাদামী রঙের ওভারকোট জড়ানো। কারো জন্য অপেক্ষা করছে………
কিছু দূরে একটা গাড়ি পার্ক করা। সেখান থেকে তাকে ফলো করা হচ্ছে।একদিন আগেই সে কোয়ার্টারে এসে পৌঁছেছে। এখানে তার পরিচয় ভিন্ন। দেশের সে বিখ্যাত ব্যাবসায়ী আর এখন একজন টপ সিক্রেট এজেন্ট।
এই স্ট্রীট টা লোকজনে ভরপুর। উইকেন্ড কাটাতে সবাই হয়তো এসেছে। সবার হাসি ঠাট্টা আর গমগম ভাব দেখেই আন্দাজ করা যায়। এই বিদেশি মানুষ গুলো আমোদপ্রমোদ কে বেশি প্রাধান্য দেয়। যার জন্য ওরা কখনোই অভাব ফিল করে না। ইচ্ছে মতো মেলামেশা আর বারে পরে থাকা। আর নিজের দেশের মানুষের হাহাকার দেখলে এসব শুধুই স্বপ্ন মনে হয়। হঠাৎ কারো আওয়াজ পেয়ে সামনে তাকায়।
কালো জ্যাকেট কম দামী বোঝা যাচ্ছে। টাইট জিন্স প্যান্ট আর ক্যাপ পরা। হাত বাড়িয়ে বলে “প্রজেক্ট ৭০৭” । আরিয়ান মাথাটা উঁচু করে। সে শুধু ইয়েস বলে। ওপাশ থেকে গাড়িতে থাকা টিমের মেম্বাররা সতর্ক হয়ে যায়।
লোকটি সামনে চেয়ারে বসে পরে। আর সাথে থাকা ব্যাগটা এগিয়ে দেয়। আরিয়ান ব্যাগটা নিয়ে উঠে পরে। এখানে বেশিক্ষণ থাকা উচিৎ নয়। লোকটি হঠাৎ চিৎকার করে ওকে ডাকতে থাকে আর পিছে পিছে আসতে থাকে। কিন্তু ও আর পিছনে তাকায় না। সোজা একটা সরু গলিতে ঢুকে পরে। এই শহর তার খুব চেনা। আর এখানকার ক্রিমিনাল গুলো তার কাছে সবচেয়ে জঘন্যতম কীটের মতো।7 Comments
হ্যাঁ বা না শব্দ দুটি সবচেয়ে পুরনো এবং ছোট। কিন্তু এ কথা দুটো বলতেই সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয়।
পীথাগোরাস
Friends
Tariqul Sazzib
@tariqulsazzib
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
মিথিলা কনক
@methila06
Mehedy Hasan
@mehedyhasan
খান মোঃ এমদাদুল হক নিসু
@khannisu
Joy Iqbal
@joyiqbal
Subani News
@subaninews
ম পানা উল্যাহ্
@panaullah63gmail-com
Najir Hossain
@najirhossain


রহস্য, অ্যাকশন আর সিক্রেট মিশন—সব মিলিয়ে দারুণ একটা থ্রিলার শুরু।