-
পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগ: আমরা কি সত্যিই একে অপরের খোঁজ রাখি?
গত কয়েকদিনের কয়েকটি সংবাদ আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।
মিরপুরে এক প্রবীণ নারী, আজিজ মার্কেটের একজন চিকিৎসক, আরও কয়েকজন একাকী মানুষের মৃত্যুর খবর আমরা জেনেছি। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়টি মৃত্যু নয়; বরং মৃত্যুর কয়েক দিন পর দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
একজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে আমি এসব ঘটনাকে শুধু সংবাদ হিসেবে দেখি না; আমি দেখি—এগুলো আমাদের সমাজের নীরব আর্তনাদ।
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন যোগাযোগের মাধ্যম অসংখ্য। মুহূর্তেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে খবর পৌঁছে যায়। অথচ পাশের ফ্ল্যাটে থাকা একজন মানুষ কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ থাকলেও আমরা অনেক সময় তা জানতে পারি না।
আমরা কি সত্যিই একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত, নাকি শুধু অনলাইনে উপস্থিত?
একাকীত্ব হঠাৎ তৈরি হয় না। এটি ধীরে ধীরে জন্ম নেয়—ব্যস্ততা, অভিমান, সম্পর্কের দূরত্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা আর “পরে কথা বলব” বলতে বলতে।
মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু খাবার, ঔষধ বা চিকিৎসা নয়; প্রয়োজন একজন মানুষ- যিনি আন্তরিকভাবে জিজ্ঞেস করবেন—
“আপনি কেমন আছেন?”
আজ আমাদের নিজেদের কাছেই কয়েকটি প্রশ্ন রাখা দরকার—শেষ কবে বাবা-মাকে শুধু গল্প করার জন্য ফোন করেছি?
শেষ কবে একা থাকা কোনো আত্মীয় বা প্রতিবেশীর দরজায় কড়া নেড়েছি?
শেষ কবে কোনো বন্ধুকে শুধু বলেছি—“তোমার কথা মনে হলো, তাই ফোন করলাম।”হয়তো একটি ফোনকল কোনো মানুষের সব সমস্যা দূর করবে না, কিন্তু সেই মানুষটিকে অনুভব করাবে—“আমি একা নই।”
আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে মৃত্যুর খবর দুর্গন্ধে নয় বরং জীবনের প্রয়োজনে ও আন্তরিক যোগাযোগে আসবে।
আজই একজন মানুষের খোঁজ নিন। আপনার একটি ফোনকল হয়তো কারও কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হয়ে উঠবে।
আপনি শেষ কবে কোনো একা থাকা আত্মীয়, বন্ধু বা প্রতিবেশীর খোঁজ নিয়েছেন?
— ড. রাহেনা বেগম
মনোবিজ্ঞানী10 Comments -
Friends
naznin shamim
@nazninshamim
Md Mofiz
@mdmofiz
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
wajibad
@wajibad
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
সুবহা জাহান
@subhajahan
Intisar Jabed
@intisarjabed
মেঘ
@megh
রোদেলা শিশির
@rodelashishir


অসাধারণ লেখা আপা। আপনার সহজাত স্নিগ্ধতা সংশয়ের বাঁধা পেরিয়ে উদ্ভাসিত হয়েছে।