-
সরু গলিটা বিকেলের কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। দু’পাশে পুরোনো ইটের দেয়াল, মাথার ওপরে ঝুলে থাকা মরিচা ধরা ফায়ার এস্কেপ আর মাঝে মাঝে পানির ফোঁটা পড়ার শব্দ—পরিবেশটাকে আরও ভারী করে তুলেছে।
আরিয়ান দ্রুত পা চালিয়ে সামনে এগোচ্ছিল। তার ডান হাতে শক্ত করে ধরা ব্যাগটি। কিন্তু তার চোখ ছিল চারপাশে। বহু বছরের অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে—যখন কোনো ডেলিভারি এত সহজে হয়ে যায়, তখনই সবচেয়ে বড় বিপদ অপেক্ষা করে।
পেছন থেকে আবার সেই লোকটার গলা ভেসে এলো।
“এই! দাঁড়াও!”
আরিয়ান থামল না।
হঠাৎ—
ধাম!
একটা লোহার ডাস্টবিন ছিটকে এসে তার সামনে পড়ল।
সে সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে গেল।
পরের মুহূর্তেই কালো জ্যাকেট পরা লোকটা লাফিয়ে সামনে এসে দাঁড়াল।
তার ঠোঁটে অদ্ভুত এক হাসি।
“তুমি সত্যিই ভেবেছিলে ব্যাগটা নিয়ে এত সহজে চলে যেতে পারবে?”
আরিয়ান ধীরে ধীরে ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে দিল।
“আমি জানতাম তুমি আসবে।”
লোকটা অবাক হলো।
“জানতে?”
“কারণ যারা সত্যিকারের তথ্য দেয়, তারা কখনো চিৎকার করে পিছু নেয় না।”
লোকটার হাসিটা মিলিয়ে গেল।
“তাহলে…”
“তুমি ফাঁদ।”
কথা শেষ হওয়ার আগেই লোকটা ঘুষি চালাল।
কিন্তু আরিয়ান যেন সেটার অপেক্ষাতেই ছিল।
সে মাথা নিচু করে আঘাত এড়িয়ে লোকটার পেটে কনুই বসিয়ে দিল।
ধপ!
লোকটা দুই কদম পিছিয়ে গেল।
এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে সে কোমর থেকে একটা ছুরি বের করল।
ধারালো ফলায় সূর্যের আলো ঝলসে উঠল।
“এবার দেখি তোমার বুদ্ধি কতক্ষণ কাজ করে!”
সে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
আরিয়ান পাশ ফিরতেই ছুরিটা দেয়ালে গিয়ে ঘষা খেল।
সুযোগ বুঝে সে লোকটার কব্জি ধরে এমনভাবে মুচড়ে দিল যে—
কট!
লোকটার হাত থেকে ছুরি পড়ে গেল।
কিন্তু লোকটা মোটেও সাধারণ ছিল না।
মুহূর্তের মধ্যে হাঁটু তুলে আরিয়ানের বুকে আঘাত করল।
আরিয়ান কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে ভারসাম্য হারালেও পড়ল না।
তার চোখ এবার ঠান্ডা হয়ে উঠেছে।
এবার আর আত্মরক্ষা নয়।
আক্রমণ।
সে বিদ্যুৎগতিতে সামনে এগিয়ে এসে একের পর এক ঘুষি চালাতে লাগল।
প্রথমটা চোয়ালে।
দ্বিতীয়টা পাঁজরে।
তৃতীয়টা হাঁটুতে।
লোকটা হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।কিন্তু ঠিক তখনই—
গলির ছাদ থেকে তিনজন মুখোশধারী নিচে লাফ দিল।
একজনের হাতে লোহার রড।
আরেকজনের হাতে চেইন।
শেষজনের হাতে বৈদ্যুতিক স্টান ব্যাটন।
আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“আমি জানতাম… একা আসবে না।”
চারজন একসঙ্গে তাকে ঘিরে ফেলল।
প্রথম লোকটা রড ঘুরিয়ে আঘাত করতেই আরিয়ান নিচু হয়ে তার পা ঝাঁকিয়ে দিল।
লোকটা মাটিতে পড়ে গেল।
দ্বিতীয়জন চেইন ছুড়ে মারল।
আরিয়ান মাঝ আকাশেই সেটা ধরে টান দিল।
চেইনধারী লোকটা নিজের ভারসাম্য হারিয়ে সামনে চলে এল।
আরিয়ান তার কাঁধে কনুই মেরে দেয়ালে ছুড়ে ফেলল।
এদিকে স্টান ব্যাটনধারী পেছন থেকে আঘাত করতে যাচ্ছিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে আরিয়ান দেয়ালে পা রেখে শরীর ঘুরিয়ে উড়ন্ত কিকে তার হাতে আঘাত করল।
ব্যাটন ছিটকে দূরে পড়ে গেল।
কিন্তু প্রথম লোকটা আবার উঠে দাঁড়িয়েছে।
সে এবার পিস্তল বের করল।
“শেষ!”
ট্রিগারে আঙুল পড়তেই—
ঠাস!গুলির শব্দ গলির ভেতর প্রতিধ্বনিত হলো।
কিন্তু গুলি আরিয়ানকে ছুঁতে পারল না।
সে ঠিক সময়ে পাশের কংক্রিটের স্তম্ভের আড়ালে চলে গিয়েছিল।
একই সঙ্গে কোমর থেকে নিজের কমপ্যাক্ট পিস্তল বের করে গুলির বদলে একটি ছোট ধোঁয়ার ক্যাপসুল ছুড়ে দিল।
ফসসসস…
মুহূর্তের মধ্যে পুরো গলি সাদা ধোঁয়ায় ঢেকে গেল।
চারদিক থেকে কাশির শব্দ ভেসে আসতে লাগল।
“কোথায় গেল?”
“ওকে খুঁজে বের করো!”
কিন্তু ততক্ষণে আরিয়ান অদৃশ্য।
ধোঁয়ার আড়াল ব্যবহার করে সে গলির শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে।
হাঁটতে হাঁটতে ব্যাগটা একবার খুলে ভেতরে তাকাল।
ভিতরে একটি কালো ধাতব বাক্স।
বাক্সের ওপরে মাত্র একটি লাল রঙের স্টিকার।PROJECT 707 — LEVEL OMEGA
আর তার নিচে ছোট্ট একটি বার্তা—
“যদি তুমি এটা পড়ে থাকো… তাহলে খেলা শুরু হয়ে গেছে।”
আরিয়ানের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
সে আকাশের দিকে একবার তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“এবার আমার পালা।”
দূরে কোথাও আবার একটি স্নাইপারের স্কোপে তার মুখ ভেসে উঠল।
কেউ একজন ওয়্যারলেসে বলল,
“টার্গেট বেঁচে আছে… অপারেশন ফেজ টু শুরু করো।”
আরিয়ান তখনও জানে না—
তার প্রতিটি পদক্ষেপ নজরবন্দি।3 Comments
হ্যাঁ বা না শব্দ দুটি সবচেয়ে পুরনো এবং ছোট। কিন্তু এ কথা দুটো বলতেই সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয়।
পীথাগোরাস
Friends
Mitul hasan
@mitul
শরীফ খান
@sharifkhan
শাহ্ সাকিরুল ইসলাম
@shahsakirulislam
মো. আবু মোহাদ্দেস
@mohaddesh1967
Syed Farah
@syedfarah
Hridita Islam
@hriditaislam
খালেদা মিম
@haoyakhan
সজল
@sojol
Jannatul Ferdausi
@ferdausi


PROJECT 707 খেলা এইমাত্র শুরু….⚡