-
সবুজের বুকে নিরাপদ সেতু: মধুপুরের বানরদের নতুন পথচলা
……………………………….পংকজ প্রিয়মবনেরও একটি ভাষা আছে। সে ভাষা শব্দে নয়, পাতার মর্মরে, পাখির ডানার ঝাপটায়, কাঠবিড়ালির ছুটে চলায়, আর গাছের ডাল বেয়ে লাফিয়ে বেড়ানো বানরের কোলাহলে উচ্চারিত হয়। কিন্তু মানুষের নির্মিত মহাসড়ক সেই ভাষার মাঝখানে টেনে দেয় এক কঠিন বিভাজনরেখা। প্রতিদিন ছুটে চলা যানবাহনের গর্জনে থেমে যায় অনেক প্রাণের গল্প, নিভে যায় বনবাসী অসংখ্য প্রাণের জীবন।
টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চলও দীর্ঘদিন ধরে এমনই এক নীরব বেদনার সাক্ষী। খাদ্যের সন্ধানে কিংবা নিজেদের স্বাভাবিক বিচরণপথ ধরে এক বনাংশ থেকে অন্য বনাংশে যেতে গিয়ে বানরসহ বহু বৃক্ষচারী বন্যপ্রাণী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। মানুষের উন্নয়নের গতির কাছে বারবার পরাজিত হয়েছে প্রকৃতির সহজ অধিকার।
এই বাস্তবতার মধ্যেই আশার আলো হয়ে এসেছে এক মানবিক উদ্যোগ। বন বিভাগ জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের আওতাধীন মহাসড়কের পাঁচটি স্থানে উঁচু গাছের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে নির্মাণ করেছে পাঁচটি ক্যানোপি করিডোর বা রোপওয়ে। আকাশছোঁয়া এই দড়ির সেতুগুলো যেন শুধু দুই পাশের বনকে নয়, মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ককেও নতুন করে যুক্ত করেছে।
এখন বানর কিংবা অন্যান্য বৃক্ষচারী প্রাণীকে আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পিচঢালা সড়কে নামতে হয় না। তারা গাছের মগডাল থেকেই নিরাপদে এক পাশ থেকে অন্য পাশে চলে যেতে পারে। এই ছোট্ট পরিবর্তনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিশাল এক পরিবেশগত তাৎপর্য। কারণ একটি প্রাণের জীবন রক্ষা মানে কেবল একটি প্রাণীকে বাঁচানো নয়, বরং একটি বন, একটি বাস্তুতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রকৃতির ভারসাম্যকে টিকিয়ে রাখা।
আজ পৃথিবীর নানা দেশে বন্যপ্রাণীর জন্য এমন ক্যানোপি করিডোর, আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের মাধ্যমে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। মধুপুরের এই উদ্যোগ সেই বৈশ্বিক সচেতনতারই এক সুন্দর প্রতিফলন, যা প্রমাণ করে উন্নয়ন মানেই প্রকৃতিকে উপেক্ষা করা নয়; বরং প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলা সম্ভব।
প্রকৃতি মানুষের সম্পদ নয়, মানুষ প্রকৃতিরই একটি অংশ। বন টিকে থাকলে প্রাণ টিকে থাকবে, আর প্রাণ টিকে থাকলেই টিকে থাকবে পৃথিবীর সৌন্দর্য। তাই মধুপুরের এই সবুজ সেতুগুলো কেবল দড়ির তৈরি কয়েকটি করিডোর নয়, এগুলো সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের এক অনন্য প্রতীক।
হয়তো একদিন এই উদ্যোগ দেশের অন্য বনাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে। তখন মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো শুধু ছায়াই দেবে না, তারা হয়ে উঠবে নিরাপদ জীবনের সেতুবন্ধন। আর বনভূমির নিস্তব্ধতা ভেঙে আবারও শোনা যাবে বানরের নিশ্চিন্ত লাফ, পাখির ডানা মেলার শব্দ, আর প্রকৃতির অবিরাম জীবনগান।
——————————————————-
প রি চি তি
লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-‘পলিমাটি’। প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.2 Comments
Friends
faiza adila
@faizaadila
khokon du
@khokondu
মোঃ শাহাব উদ্দিন নয়ন
@shahabuddin1
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (কবি মিজান পঞ্চায়েত/ কবি মিজান বিএসসি)
@mohammedmizanurrahman
proton 69 (asger ahmmed)
@proton69
Mullick Md. A. khaleque
@mullickmd-a-khaleque
MD.MOMTAZUR RAHMAN Munna
@md-momtazurrahmanmunna
Sarker S Islam
@sarkersislam
Jaman Uddin
@jamanuddin

বনের ভাষা পাতার মর্মরে লেখা, মহাসড়কের গর্জন সেই ভাষাকে থামিয়ে দিতে চায়….🖤