-
𝑼𝑰𝑼-এর ৩:৩৩-এর লিফট
UIU-এর শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা গুজব বহু বছর ধরে ঘুরে বেড়ায়।
গুজবটা হলো:
“রাত ৩টা ৩৩ মিনিটে কখনো একা লিফটে উঠবে না।”
এর কারণ কেউ জানে না। কেউ বিশ্বাসও করে না।
সেমিস্টারের শেষ সপ্তাহ। চারজন শিক্ষার্থী সাজিদ, রিয়াদ, সিয়াম আর রনক মারস রোভারের কাজ শেষ করতে করতে রাত তিনটা পার করে ফেলেছিল।
বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি।
সিঁড়ি দিয়ে নামার বদলে তারা লিফটে নামার সিদ্ধান্ত নিল।
সবার ফোনের ঘড়িতে তখন সময় তিনটা বেজে তেত্রিশ মিনিটে পড়েছে।
দরজা খুলল।
ভেতরে কেউ নেই।
চারজন ঢুকে Ground Floor চাপল।
দরজা বন্ধ হলো…
কিন্তু লিফট নিচে না গিয়ে ওপরে উঠতে লাগল।
১১…
১২…
১৩…
তারপর ডিসপ্লেতে এমন একটি সংখ্যা ভেসে উঠল:
F13
বিস্ময়কর ব্যাপার!
কারণ UIU-তে তো তেরো তলা নেই!লিফট থামল।
দরজা ধীরে ধীরে খুলে গেল।
বাইরে পুরো অন্ধকার।
কোনো আলো নেই।
শুধু লম্বা একটি করিডোর।
দেয়ালের দুই পাশে অসংখ্য ক্লাসরুম।
প্রতিটি দরজায় একই নম্বর…
1333F
সাজিদ ভয়ের মধ্যেও কৌতুহলী হয়ে বলল,
“চলো, দেখি কী আছে জীবনে!”
সিয়াম হেঁসে বলল, “দেখো আবার ইউকামে ফাইন না জমা হয়!”
এরপর রিয়াদ এক ধাপ বাইরে পা রাখতেই করিডোরের সব লাইট একসঙ্গে জ্বলে উঠল।
সবাই একটু আতঙ্কিত হয়ে ভয়ে কেঁপে উঠল।
সব ক্লাসরুমের দরজা… একসঙ্গে খুলে গেল।
ভেতরে শত শত শিক্ষার্থী বসে আছে।
সবাই মাথা নিচু করে।
একদম নীরব।
হঠাৎ সবাই একই সময়ে মাথা তুলল।
তাদের কারও চোখ নেই।
শুধু ফাঁকা কালো গর্ত।
তারপর সবাই একসঙ্গে ভৌতিক সুরে বলে উঠল,
“Late submission accepted… still one left”
লিফটের দরজা হঠাৎ বন্ধ হতে শুরু করল।
রিয়াদ প্রাণপণে “Door Open” চাপতে লাগল।
কাজ হলো না।
ঠিক দরজা বন্ধ হওয়ার আগ মুহূর্তে তারা দেখল…
করিডোরের একেবারে শেষ প্রান্তে একটি লম্বা ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে।
তার গায়ে পুরোনো UIU-এর আইডি কার্ড।
কার্ডে কোনো নাম নেই।
শুধু লেখা:
Student ID: 011011011
হঠাৎ আরেকটা লিফট এসে দরজা খুলে গেল,
ঠিক যেন এটি তাদের উদ্ধার করতে এসেছে,
লিফট নিচে নেমে এল।গ্রাউন্ড ফ্লোর।
দরজা খুলতেই তারা দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে গেল।
সিকিউরিটি গার্ড তাদের দেখে ভয়ে ভয়ে বললেন,
“মামা আপনারা?”
রনক কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“আমরা… ভুলে ১৩ তলায় গিয়েছিলাম…”
বৃদ্ধ গার্ডের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
অনেকক্ষণ চুপ থেকে তিনি বললেন,
“১০ বছর এখানে চাকরি করি, আমাদের তো বিল্ডিংয়ে তো কোনো তেরো তলা নাই। মামা, এসব কি বলেন? আপনাদের তো গত ২১দিন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না”
সিয়াম পকেট থেকে ফোনটা বের করতেই তার চোখটা কপালে উঠলো। বলল, “রিয়াদ, আজকের তারিখটা দেখেছ? এসব কি হচ্ছে আমাদের সঙ্গে!”
সবাই মোবাইল বের করলো আর দেখল:
তারিখ অনেকদিন এগিয়ে গেছে, নতুন সেমিস্টার শুরুর তারিখে পৌঁছে গেছে তারা।
অথচ তাদের কাছে মাত্র পাঁচ মিনিট কেটেছে।
পরদিন তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে গেল।
২১দিন আগের ভিডিওতে দেখা গেল:
রাত ৩:৩৩-এ চারজন লিফটে উঠেছে।
কিন্তু লিফটের ভেতরে…
তারা ছিল পাঁচজন।
পঞ্চম জনটি কোণায় দাঁড়িয়ে ছিল।
মুখ নিচু।
ক্যামেরার দিকে তাকায়নি একবারও।
আরও ভয়ংকর বিষয় হলো:
সেই পঞ্চম ব্যক্তির গলায় ছিল UIU-এর পুরোনো একটি আইডি কার্ড, যেটি বহু বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এক শিক্ষার্থীর বলে কথিত ছিল।
এরপর থেকে চার বন্ধুর জীবন বদলে যায়।
প্রতিদিন রাত ৩:৩৩-এ তাদের ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসে:
“Your elevator is still waiting…”
তারা নম্বরটি ব্লক করে, ফোন বদলায়, এমনকি শহরও ছেড়ে দেয়।
কিন্তু নোটিফিকেশন আসা বন্ধ হয় না।
শোনা যায়, এখনও যদি কেউ গভীর রাতে লিফটের আশপাশে ঘোরাফেরা করে তারা অস্বাভাবিক কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারে।
অনুভূত হয়,
লিফট মাঝে মাঝে এমন একটি তলায় থামে।
যে তলার অস্তিত্ব অফিসিয়াল নকশায় নেই।
এই গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। 🥱
2 Comments
Afraid of death, more afraid of not trying.. Do something today that your future self will thank you for..
Whatever happens, take responsibility
- Asif Rahman
Friends
মোঃ ফাইজুল ইসলাম
@faijulislam
shibatus bhattacharjee
@shibatus
Riyansh Hasmi
@riyanshhasmi
হাসিব মাহমুদ দিপু
@hasibmahmuddipu-2
আরাফাত অভি
@arafatavi
রমজান বিন মোজাম্মেল
@puraton2010pata
জহীর মুহাম্মদ
@johirmuhammad
Sanaullah Al-Mubin
@sanaullahal-mubin
Halima Wahidi
@halimawahidi


মেঘলা দিনে বেশ একটা আমেজ দিল আপনার গল্প! আরো গল্প হোক!