-
আক্কাস আলী ও রুমানা
রুমানার মন খুব খারাপ। কিছুই ভালো লাগছে না। এক কাপ চা খেতে পারলে ভালো লাগতো। সকালে কিছুটা শ্বাসকষ্ট ছিল কিন্তু এখন সে স্বাভাবিকভাবে নিশ্বাস নিতে পারছে। বিছানা থেকে উঠে রান্নাঘরের দিকে যেতে শুরু করতেই আক্কাস আলী তার পিছু নিলো। রুমানার ঘরে অনেক রেস্কিউ করা বিড়াল। তার মধ্যে আক্কাস আলী তার পিছু ছাড়ে না
রুমানা চুলায় পানি চড়িয়ে বারান্দায় পাতা বাহার গাছগুলো দেখতে যায়। বিভিন্ন পাতার শেডে তার চোখ আটকে যায়। কী অদ্ভুত সুন্দর পাতার রং! একটু আগেই পৃথিবীর মানুষগুলোর প্রতি চরম খারাপ ধারণা ছিল তার মনে। এখন আবার সব কিছু ভালো লাগছে। রুমানা রান্নাঘরে ফিরে যায়। এক কাপ ঘণ দুধের চা নিয়ে ফিরে আসে শোবার ঘরে। সারা ঘরে বিড়াল কেউ বসে আছে, কেউ শুয়ে আর কেউ খেলছে।
রুমানা চা খায়। বইয়ের পাতা উল্টায়। আবার সেই তিতা ভাবটা ফিরে আসছে মনে। এই ফ্ল্যাটে প্রথম বিড়াল রেস্কিউ শুরু করে সাজিদ। বিড়াল, সাজিদ আর তার সংসার ভালোই চলছিল। রুমানার শ্বাসকষ্ট আছে। স্টেরয়েড খেতে খেতে শরীর ফুলে গেছে। প্রায়ই অসুস্থ থাকে সে। তার অসুস্থতার জন্যই কী সাজিদ তাকে ছেড়ে চলে গেছে! পুরুষ কী সাংঘাতিক জীব! শরীরের প্রয়োজনই সব। রুমানার মন খারাপ হয়ে যায়। সাজিদের সঙ্গে তার কতোশত স্মৃতি। এসব কেন শুধু মাথায় আসছে।
সে বিড়ালদের দিকে মনোযোগ ফেরায়। ডোরার চোখে ড্রপ দিতে হবে। মনাকে কৃমির ঔষধ দিতে হবে। নতুন নিউটার করা স্যামনের অবস্থা চেক করে। পুরুষের সহজাত খারাপ স্বভাবের কথা ভাবার টাইম থাকে না আর। লিটার পরিষ্কার করে নতুন লিটার দিতে হবে। ঘরগুলো ঝাড়ু দেয় সে। ঝুড়িতে শিলুর বাচ্চাদের কাপড় বদলে দিয়ে বাথরুমে যায় সে। কী সাংঘাতিক ব্যস্ত জীবন। সাজিদের মতো লম্পটের কথা ভাবার সময় নেই তার। গোসল করে রান্নাঘরে গিয়ে ভাত বসায়। তরকারি কুটতে কুটতে সাজিদের কথা মনে পড়ে তার। পাশে ঘুরঘুর করছে আক্কাস আলী। আক্কাস আলীকে একটু আদর করে দেয় রুমানা। অন্তত বিড়ালগুলো তাকে ছেড়ে চলে যাবে না। বিড়ালদের জন্য ভাত আর মুরগির মাংস সেদ্ধ করে সে।
এখন থেকে আর একটা নিচু মনের মানুষের কথা না ভাবার প্রতিজ্ঞা করে রুমানা। খাবার নিয়ে আসতেই একে একে একুশটা বিড়াল ছুটে আসে। মা বিড়ালটিকে আলাদা খাবার দেয় রুমানা। ওহ, এরাই ভালো। এদের নিয়ে তার জীবন অনেক সুন্দরভাবে চলছে। খাওয়ার পরে বিড়ালগুলো নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়।
কিন্তু একি গতকালই আক্কাস আলীকে দেখেছিল লিউনার গা চাটাচাটি করতে। লিউনাকে পটাতে চাইছিল সে। লিউনাতো স্পে করা বিড়াল আক্কাসকে খুব একটা পাত্তা দিত না। আজ আবার আক্কাসকে দেখা যাচ্ছে নতুন ফিমেইল বিড়ালটার গা চাটতে। এই বাচ্চাটার স্পে করা হয়নি। নতুন এসেছে। মিরপুর থেকে অনেক খারাপ অবস্থায় রেস্কিউ করা হয়েছে। কয়েকবার ভেটের কাছে নেওয়ার পরে একটু সুস্থ এখন। আক্কাস আলীকে নতুন বিড়ালটার গা চাটতে দেখে একটু মুচকি হাসে রুমানা। সত্যিই পুরুষের স্বভাব বিড়ালদের মধ্যেও একেবারে সবটুকুই আছে। ওহ কী এক অদ্ভুত ব্যাপার!
3 Comments
Friends
Sayed Mohammad Farid
@sayedmohammadfarid
খালেদা আক্তার
@khaledaakhter
সাদিয়া আক্তার রিমি
@sadiaakterreme
Kazi Adam
@kaziadam
রুদ্র অরণ্য
@click
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
Md Shah Jalal Masim
@mdshahjalalmasim
রাশেদ শাহরিয়ার
@rashed-sahriargmail-com
ujjal mutsuddi
@ujjalmutsuddi



আপনার লেখাটি একাকীত্ব এবং বিড়ালদের সাহচর্যের মধ্য দিয়ে জীবনের জটিল অনুভূতিগুলোকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। মানুষের সম্পর্কের অস্থিরতা এবং পশুপাখিদের নিস্পাপ স্বভাবের মাঝে যে অদ্ভুত মিল আপনি দেখিয়েছেন, তা অনেকটা জীবনানন্দ দাশের কোনো নিভৃত নিসর্গ বর্ণনার মতো শান্ত অথচ গভীর। একুশটি বিড়ালের সাথে ব্যস্ত সময় কাটানো রুমানার জীবনের এই খণ্ডচিত্রটি পাঠকের মনে এক ধরনের প্রশান্তি ও বিষণ্ণতার মিশ্র অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।