-
ব্রিফিং কক্ষের ভারী নীরবতা ভাঙলেন ডিরেক্টর ব্র্যানসন। তিনি ফাইলের ওপর আঙুল ঠুকে গম্ভীর স্বরে বললেন, “প্রজেক্ট ৭০৭ কোনো সাধারণ নথি নয়। আজ থেকে প্রায় বছর আগে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া আমাদের প্রথম সারির প্রধান গবেষক ড. সাইমন ক্লার্কের গোপন ফাইল এটি। এতদিন সংস্থা জানত তিনি ১৯৫১ সালের এক অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন। কিন্তু এই গোপন ছবি আর এনক্রিপ্টেড নোট অন্য কথা বলছে।”
আরিয়ান চোখ বড় বড় করে ছবির দিকে তাকাল। ১৯৫১ সালের সেই ব্ল্যাক-অ্যান্ড-হোয়াইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে তরুণ ড. সাইমনকে, কিন্তু নথির সাথে থাকা একদম সাম্প্রতিক একটি স্যাটেলাইট ইমেজের সাথে তার চেহারার অদ্ভুত মিল—যেন লোকটির বয়স এক ফোঁটাও বাড়েনি।
“ওকে কোথায় রাখা হয়েছে, স্যার?” আরিয়ান প্রশ্ন করল।
“উত্তর সীমান্তের কাছে এক পরিত্যক্ত সামরিক বাঙ্কারে,” ডিরেক্টর বললেন। “কিন্তু মূল সমস্যা সেটা নয়। আমাদের মূল সমস্যা হলো আমাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কের লিকেজ। তুমি ঠিকই ধরেছিলে আরিয়ান, তথ্য ভেতর থেকেই বের হচ্ছে। তাই এই মিশন কোনো অফিশিয়াল টিম দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”
ডিরেক্টর টেবিলের ওপর চারজনের একটা বিশেষ ফাইল ছুঁড়ে দিলেন। “তোমার অন-ফিল্ড রিকনস্ট্রাকশন টিম রেডি। তবে স্মরণে রেখো—অফিসিয়ালি এই মিশনের অস্তিত্ব নেই।”
এক ঘণ্টা পর।
সদর দপ্তরের মাটির নিচের সাব-লেভেল ৩-এর অপারেশন্স রুমে প্রচণ্ড ব্যস্ততা। চারপাশের বিশাল মনিটরে স্যাটেলাইট ফিড, এনক্রিপ্টেড কোড আর ডিজিটাল ম্যাপ ভেসে উঠছে। আরিয়ানের বিশেষ দল ইতিমধ্যেই কাজে নেমে পড়েছে।
কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে দ্রুত হাত চালাচ্ছিল তাসনিম—টিমের প্রধান হ্যাকার ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ। হেডসেট ঠিক করে সে চিৎকার করে উঠল, “আরিয়ান, সিডান গাড়ির ভেতরের লোকগুলোর লাইভ ফ্রেম পেয়েছি! মেটাডেটা ক্লিয়ার করছি… ড্যাম! ওদের সিস্টেম আমাদের ব্যুরোর ইন্টারনাল ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করছিল। ডিরেক্টর একদম ঠিক বলেছেন, আমাদের মাঝেই কেউ গর্দাপ।”
“ফ্রিকোয়েন্সি সোর্স ট্র্যাকিং চালু রাখো তাসনিম,” আরিয়ান নিজের ট্যাকটিক্যাল ভেস্টের স্ট্র্যাপ টানতে টানতে বলল।
ঘরের এক কোণে অস্ত্রাগারের ভারী টেবিলে নিজের সিগনেচার স্পাইপার রাইফেল অ্যাসেম্বলি করছিল ড্রাভি—টিমের সেরা শুটার। প্রতিটি পার্টস নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করে ম্যাগাজিন লোড করতে করতে সে বলল, “১৯৫১ সালের লোক বেঁচে আছে, আর তা-ও আবার কোনো বয়স না বেড়ে? আমার তো মনে হচ্ছে আমরা কোনো সায়েন্স ফিকশন বাঙ্কারে ঢুকতে যাচ্ছি। ভাই, আমার কিন্তু হাই-ক্যালাইবার বুলেট লাগবে!”
“যা-ই হোক না কেন, মিশন ব্যর্থ হওয়া যাবে না,” ভারী গলায় বলে উঠল জাহিদ। টিমের ফিল্ড কমব্যাট বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন মিলিটারি কম্যান্ডো। সে ম্যাপের ওপর বাঙ্কারের ত্রিমাত্রিক নকশা মেলে ধরে বলল, “বাঙ্কারের বাইরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোটাই অটোমেটেড সায়লেন্ট গান আর লেজার ট্রিপওয়্যার দিয়ে ঘেরা। আমরা আকাশপথে নামতে পারব না। রাডার আমাদের সঙ্গে সঙ্গে ধূলিসাৎ করে দেবে। একটাই রাস্তা—দক্ষিণের পুরনো ড্রেনেজ টানেল।”
আরিয়ান ম্যাপের দিকে ঝুঁকে পড়ল। নথিতে দেখা শেষ সংকেত আর ছবির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক মিলিয়ে দেখল সে।
“শোনো সবাই,” আরিয়ান শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে টিমের উদ্দেশে বলল, “আমাদের উদ্দেশ্য দুটো—প্রথমত, ড. সাইমনকে জীবিত উদ্ধার করা। দ্বিতীয়ত, প্রজেক্ট ৭০৭-এর আসল রহস্য কী এবং ব্যুরোর ভেতর কে শত্রু ব্ল্যাকমেইলারদের তথ্য দিচ্ছে তা বের করা। ড. সাইমনের কাছেই হয়তো ট্রেইটরের নাম আছে।”
ঠিক তখনই তাসনিমের কম্পিউটারে লাল বাতি জ্বলে উঠল। এক তীব্র বিপ-বিপ শব্দে পুরো ঘর কেঁপে উঠল।
“কী হলো তাসনিম?” আরিয়ান দ্রুত তার স্ক্রিনের কাছে এগিয়ে গেল।
তাসনিমের কপালে ঘামের ফোঁটা জমে উঠেছে। সে দ্রুত কিবোর্ডে আঙুল চালিয়ে বলল, “আমাদের মেইনফ্রেমে কেউ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে! বাঙ্কারের রিমোট সিকিউরিটি প্রোটোকল অ্যাক্টিভেট হয়ে গেছে। কে যেন বাঙ্কারটার সমস্ত ডেটা সেলফ-ডিস্ট্রাক্ট মোডে দিয়ে দিচ্ছে! আমাদের হাতে মাত্র তিন ঘণ্টা সময় আছে। তারপর বাঙ্কারটি ভেতরে থাকা সবকিছু নিয়ে উড়ে যাবে!”
আরিয়ান ঘড়ির দিকে তাকাল। সময় খুব কম, আর শত্রুপক্ষ তাদের এক ধাপ আগেই চাল চালছে।
সে জাহিদ আর ড্রাভির দিকে তাকিয়ে বলল, “অস্ত্র নাও। আমরা এখনই বের হচ্ছি। তাসনিম, তুমি ব্যাকআপ থেকে আমাদের রিয়েল-টাইম গাইড করবে। এবার আর আমরা ডিফেন্সিভ খেলব না।”
জাহিদ তার শটগান কক করল, ড্রাভি স্কোপটা সেট করে কাধে ঝুলিয়ে নিল। আরিয়ান তার টেকটিক্যাল ব্যাকপ্যাক থেকে ‘প্রজেক্ট ৭০৭’-এর ডুপ্লিকেট ফাইলটা ড্রয়ারের ভেতর লক করে নিজের ৯ এমএম পিস্তলটা হোলস্টারে পুরে নিল।
বাইরে তখন প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাঙ্কারের উদ্দেশ্যে ব্ল্যাক-আউট করা আর্মার্ড এসইউভি স্টার্ট নেওয়ার গর্জন শোনা গেল। আরিয়ান জানে, বাঙ্কারের ভেতরে তাদের জন্য ড. সাইমন নাকি কোনো ভয়ঙ্কর সত্য অপেক্ষা করছে—তা জানা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
3 Comments
হ্যাঁ বা না শব্দ দুটি সবচেয়ে পুরনো এবং ছোট। কিন্তু এ কথা দুটো বলতেই সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয়।
পীথাগোরাস
Friends
Tariqul Sazzib
@tariqulsazzib
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
মিথিলা কনক
@methila06
Mehedy Hasan
@mehedyhasan
খান মোঃ এমদাদুল হক নিসু
@khannisu
Joy Iqbal
@joyiqbal
Subani News
@subaninews
ম পানা উল্যাহ্
@panaullah63gmail-com
Najir Hossain
@najirhossain


আপনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ঘটনার ঘনঘটা এবং টানটান উত্তেজনা ফুটিয়ে তুলেছেন, যা পাঠককে একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম। প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং অভিযানের রহস্যময় আবহ বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার এই শৈলী সত্যিই প্রশংসনীয়; আপনি আপনার লেখনী নিয়মিত চালিয়ে যাবেন বলে আশা রাখি।