Profile Photo

বিষণ্ন সুমনOffline

  • logolabbd
  • Profile picture of বিষণ্ন সুমন

    বিষণ্ন সুমন

    • 2 months, 1 week ago

    সীমানা পেরিয়ে
    (পূর্ণাঙ্গ ওয়েস্টার্ণ)

    অধ্যায়-সাত
    পরদিন ভোরে র‍্যাঞ্চের উঠোনে অস্বাভাবিক নীরবতা নেমে ছিল। সূর্যের প্রথম আলো পাহাড়ের কাঁধ ছুঁয়ে তৃণভূমির ওপর ছড়িয়ে পড়লেও অন্য দিনের মতো কোথাও হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছিল না। আস্তাবলের সামনে ঘোড়াগুলো দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তাদের পরিচর্যা করতে আসা কাউবয়দের মুখে আজ অদ্ভুত গাম্ভীর্য। যেন রাতের অন্ধকার পুরোপুরি সরে গেলেও তার সঙ্গে ভয়টা কোথাও যায়নি। আগের সন্ধ্যায় ব্ল্যাক রিভার শহর থেকে ফিরে আসার পর থেকে সবাই জানে, অদৃশ্য কোথাও একটা ঝড় জমছে। পশ্চিমের চরাগাহের শুকনো ঘাসের ভেতর যে বার্তা রেখে আসা হয়েছে, তাতে এটা তো পরিস্কার, হুমকিটা মিথ্যা নয়। আর সেই কারণেই আজ সকাল থেকে র‍্যাঞ্চের প্রতিটি মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক।

    মারদেকার ঘুম ভাঙল ঘোড়ার ক্ষীণ হ্রেষাধ্বনিতে। কয়েক মাস আগেও এমন শব্দ তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ অচেনা, অথচ এখন এই শব্দেই তার সকাল শুরু হয়। বিছানা ছেড়ে উঠে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই সে দেখল উঠোনে বাড হিগিন্স, ক্লে মরগান আর রুবেন কোল নিচু গলায় কথা বলছে। তাদের কথার অর্থ সে পুরোপুরি বুঝতে পারে না, কিন্তু মুখের ভাব বুঝতে তার আর অসুবিধা হয় না। আগের দিনের সেই শহর ভ্রমণের আনন্দ যেন রাতারাতি কোথায় মিলিয়ে গেছে। কাল পর্যন্ত যে মানুষগুলো হেসে কথা বলছিল, আজ তাদের চোখে শুধু হিসাব আর সতর্কতা।

    ঘর থেকে বেরিয়ে সে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল। রান্নাঘরের দরজা খোলা। ভেতরে ইলাই আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে সকালের নাস্তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় লোহার প্যানে বেকনের টুকরো ভাজা হচ্ছে। পাশে কফির পাত্র থেকে ধোঁয়া উঠছে। আরেক পাশে ওভেন থেকে সদ্য বের করা রুটির গন্ধ পুরো ঘর ভরে দিয়েছে। ইলাই বয়সে বৃদ্ধ হলেও তার চলাফেরায় কোনো অস্থিরতা নেই। বহু বছরের অভ্যাসে সে একা হাতে সব সামলে নেয়। কখন রুটি নামাতে হবে, কখন কফি ঢালতে হবে, কখন ডিম উল্টে দিতে হবে, সব যেন না দেখেই জানে। মারদেকাকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে মৃদু হেসে হাতের ইশারায় ভেতরে ডাকল। তারপর কাঠের টেবিলের ওপর রাখা একটা প্লেট তার সামনে এগিয়ে দিল। কয়েক মাস আগেও এই ছেলেটা ক্ষুধা পেলে কীভাবে খাবার চাইতে হয় জানত না। এখন সে নিজের জায়গায় চুপচাপ বসে অপেক্ষা করে। এই ছোট্ট পরিবর্তনটুকুও ইলাইয়ের চোখ এড়ায় না।

    খেতে খেতে মারদেকা বারবার জানালার বাইরে তাকাচ্ছিল। উঠোনে দাঁড়িয়ে ওলফ লারসেন এক এক করে সবার সঙ্গে কথা বলছে। কখনো আস্তাবলের দিকে ইশারা করছে, কখনো দক্ষিণের চারণভূমির দিকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজন কাউবয় ঘোড়ায় চড়ে উত্তর দিকের বেড়া পরীক্ষা করতে বেরিয়ে গেল। আরেকজন পশ্চিমের পাহাড়মুখী পথ ধরে চলে গেল। র‍্যাঞ্চে এমন টহল আগে সে দেখেনি। গতকাল শহরে যাওয়ার সময় যে আনন্দ আর কৌতূহল তার চোখে ছিল, আজ তার জায়গা নিয়েছে এক অদ্ভুত অস্বস্তি। সে বুঝতে পারছে, বড়রা এমন কিছুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার আকার সে এখনও কল্পনাও করতে পারে না।

    নাস্তা শেষ করে ইলাই তাকে নিয়ে পড়ার ঘরে গেল। টেবিলের ওপর স্লেট, চক আর কয়েকটা পুরোনো বই রাখা। কিন্তু আজ ইলাইয়ের মনও যেন পুরোপুরি পড়াশোনায় নেই। মাঝেমধ্যে সে জানালার বাইরে তাকাচ্ছে। মারদেকাও সেটা লক্ষ্য করল। তারপরও পড়া বন্ধ হলো না। ইলাই ধীরে ধীরে নতুন কয়েকটা শব্দ লিখে দেখাল। Gate, Fence, North, South। প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করে আবার আঙুল তুলে বাইরের কোনো না কোনো দিক দেখিয়ে দিল। মারদেকা প্রথমে বুঝতে পারছিল না কেন আজ এসব শেখানো হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর তার মনে হলো, হয়তো র‍্যাঞ্চের কাজের জন্যই এই শব্দগুলো দরকার। সে মন দিয়ে উচ্চারণ করতে লাগল। ভুল হলো, আবার বলল। আবার ভুল হলো, তবু থামল না। ইলাই সন্তুষ্ট চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল। এই ছেলেটার সবচেয়ে বড় শক্তি তার প্রতিভা নয়, তার অধ্যবসায়।

    দুপুরের দিকে বাড হিগিন্স দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। ইলাইয়ের সঙ্গে দু একটা কথা বলার পর সে মারদেকার দিকে তাকিয়ে হাতের ইশারায় বাইরে ডাকল। মারদেকা স্লেটটা টেবিলে রেখে উঠে দাঁড়াল। দরজার বাইরে বেরোতেই সে দেখল আস্তাবলের সামনে ইতিমধ্যে কয়েকটা জিন, দড়ি আর নতুন করে তেল মাখানো লাগাম সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বাডের মুখে আগের মতোই সেই সংযত কঠোরতা, কিন্তু চোখে আজ বাড়তি দায়িত্বের ছাপ। মনে হলো, আজকের শিক্ষা অন্য দিনের মতো হবে না। আজ থেকে তাকে শুধু কাজ শেখানো হবে না, শেখানো হবে সতর্ক থাকতে। আর ঠিক সেই মুহূর্তে মারদেকা বুঝতে না পারলেও, তার জীবনের আরেকটি নতুন অধ্যায়ের দরজা নিঃশব্দে খুলে গেল।

    মারদেকা স্লেটটা টেবিলের ওপর রেখে বাড হিগিন্সের পেছন পেছন বাইরে বেরিয়ে এল। উঠোন পেরিয়ে দুজনে ধীরে ধীরে উত্তর দিকের চারণভূমির দিকে হাঁটতে লাগল। সকালটা পরিষ্কার। আকাশে একটাও মেঘ নেই। দূরের পাহাড়গুলো নীলচে কুয়াশার আড়াল থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাতাসে শুকনো ঘাসের গন্ধ। চারদিকে সবকিছু আগের মতোই শান্ত দেখাচ্ছে। কিন্তু সেই শান্তির ভেতরেও আজ যেন একটা চাপা টানটান ভাব লুকিয়ে আছে। গত সন্ধ্যার সেই অজ্ঞাত হুমকির পর থেকে র‍্যাঞ্চের প্রতিটি মানুষ বুঝে গেছে, এখন আর শুধু কাজ জানলেই চলবে না, চারপাশও দেখতে জানতে হবে।

    বাড খুব বেশি কথা বলল না। সে মাঝে মাঝে থামছে, চারদিকে তাকাচ্ছে, আবার হাঁটছে। মারদেকাও তার প্রতিটি ভঙ্গি অনুসরণ করছে। কিছুদূর গিয়ে বাড একটা উঁচু টিলার ওপর উঠে দাঁড়াল। সেখান থেকে র‍্যাঞ্চের প্রায় অর্ধেকটা চোখে পড়ে। আস্তাবল, গরুর খোঁয়াড়, উত্তর দিকের বেড়া, আরও দূরে শহরের শেষ মাথার কয়েকটা ছাদ, সব একসঙ্গে দেখা যায়। বাড ধীরে ধীরে চারদিকে হাত ঘুরিয়ে দেখাল। তারপর নিজের দুই চোখের দিকে আঙুল ছুঁইয়ে আবার চারপাশের দিকে ইশারা করল।

    মারদেকা বুঝতে পারল, আজ তাকে কোনো নতুন কাজ শেখানো হচ্ছে না। শেখানো হচ্ছে কীভাবে দেখতে হয়।

    পাহাড়ের গ্রামে বড় হওয়ার কারণে এই শিক্ষাটা তার কাছে পুরোপুরি নতুনও নয়। ছোটবেলায় শিকারে বের হলে গ্রামের প্রবীণরা বলত, যে শুধু সামনে তাকায়, সে শিকার হারায়; যে চারপাশ দেখে, সেই বেঁচে ফিরে আসে। সেই কথাগুলো হঠাৎ মনে পড়ে গেল তার। সে ধীরে ধীরে চারদিকে তাকাতে শুরু করল। বাতাসে ঘাস কোন দিকে দুলছে, কোথায় কাক উড়ছে, কোন ঝোপে খরগোশ লুকিয়ে আছে, কোন পথে গরুর পাল যাচ্ছে, সবকিছু আলাদা করে খেয়াল করতে লাগল।

    বাড কিছুক্ষণ তাকে লক্ষ্য করল। তারপর উত্তর দিকের বেড়ার দিকে এগিয়ে গেল। সেখানে গিয়ে সে কোনো কথা না বলে একটা খুঁটির গায়ে হাত রাখল। খুঁটিটা শক্ত। তারপর পাশের খুঁটিতে হাত দিল। সেটাও ঠিক আছে। কিন্তু তৃতীয় খুঁটির কাছে গিয়ে সে থেমে গেল। কাঠের গায়ে খুব সূক্ষ্ম একটা আঁচড়। নতুন। যেন ধারালো কিছু একটা ঘষে গেছে। আঁচড়টা এতই ছোট যে না দেখালে চোখেই পড়ত না। বাড আঙুল দিয়ে দাগটা দেখাল।

    মারদেকা কাছে গিয়ে ঝুঁকে পড়ল। কিছুক্ষণ দাগটার দিকে তাকিয়ে থেকে তার চোখ চলে গেল নিচের মাটিতে। সেখানে শুকনো ধুলোর ওপর খুব সামান্য চাপা পড়ার চিহ্ন। মানুষের পায়ের ছাপ স্পষ্ট নয়, কিন্তু ঘাসের মাথাগুলো একদিকে বেঁকে আছে। সে ধীরে ধীরে কয়েক পা এগিয়ে গেল। আরও একটু দূরে একটা ভাঙা ডাল পড়ে আছে। ডালটা শুকনো হলেও ভাঙার জায়গাটা এখনো ফ্যাকাশে সাদা। অর্থাৎ খুব বেশিদিন আগে ভাঙেনি। সে নিচু হয়ে ডালটা তুলে বাডকে দেখাল।

    বাড ডালটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ দেখল। তারপর চারপাশে চোখ বুলিয়ে আবার মাটির দিকে তাকাল। এবার তার মুখের ভাব আরও গম্ভীর হয়ে উঠল। কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নয়, কিন্তু এতগুলো ছোট ছোট লক্ষণ একসঙ্গে কখনোই অবহেলা করার মতো নয়। কেউ একজন এই দিকটায় এসেছিল। হয়তো শুধু দেখে গেছে। হয়তো আরও কিছু করার সুযোগ খুঁজেছে।

    ফিরে আসার পথে বাড একবারও কোনো কথা বলল না। কিন্তু তার হাঁটার ভঙ্গি বদলে গেছে। আর মারদেকাও বুঝতে পারছিল, আজকের সকালটা অন্য দিনের মতো শেষ হয়নি। সে প্রথমবার উপলব্ধি করল, র‍্যাঞ্চ পাহারা দেওয়া মানে শুধু বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে থাকা নয়। তারও আগে দরকার চোখ খোলা রাখা। কারণ পশ্চিমের এই দেশে অনেক সময় বিপদ বন্দুকের গুলির শব্দ করে আসে না। নিঃশব্দে এসে চারপাশে নিজের উপস্থিতির ছোট ছোট চিহ্ন রেখে যায়। আর যে মানুষ সেই চিহ্ন পড়তে পারে, সে অনেক সময় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই শত্রুর খবর পেয়ে যায়।

    র‍্যাঞ্চে ফিরে তারা দেখল ওলফ লারসেন উঠোনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। বাড সংক্ষেপে সব কথা জানিয়ে দিল। লারসেন মন দিয়ে শুনল। তারপর একবার মারদেকার দিকে তাকাল। ছেলেটা নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তার চোখে আজ নতুন একটা পরিবর্তন স্পষ্ট। কয়েক মাস আগে সে শুধু আশ্রয়প্রার্থী ছিল। এখন সে ধীরে ধীরে এই র‍্যাঞ্চের চোখ হয়ে উঠতে শিখছে। আর ওলফ লারসেনের মনে প্রথমবারের মতো দৃঢ়ভাবে জন্ম নিল একটি ভাবনা, সময় এলে এই ছেলেটাকে শুধু রক্ষা করলেই হবে না, তাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন একদিন সে নিজেই এই ভূমিকে রক্ষা করতে পারে।

    বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। পশ্চিমের আকাশে সূর্যটা ঢলে পড়েছে, তবু তার শেষ আলো র‍্যাঞ্চের বিস্তীর্ণ তৃণভূমির ওপর তামাটে আভা ছড়িয়ে রেখেছে। উঠোনের একপাশে কয়েকটা ঘোড়া মাথা নিচু করে শুকনো খড় চিবোচ্ছে। আস্তাবলের চালের নিচে ঝুলে থাকা চামড়ার জিন আর লাগামগুলো সোনালি আলোয় চকচক করছে। দূরে গরুর পাল ফিরিয়ে আনছে দুজন কাউবয়। বাতাসে ধুলোর সঙ্গে মিশে আছে শুকনো ঘাস, ঘোড়ার ঘাম আর কাঠের গন্ধ। সবকিছুই যেন আগের মতো স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার ভেতরেই কোথাও একটা অদৃশ্য টান তৈরি হয়েছে। দুপুরে নদীর ধারে পাওয়া সেই অচেনা খুরের দাগ যেন সবার মনে অজান্তেই একটা রেখা টেনে দিয়েছে।

    ওলফ লারসেন কোনো কথা না বলে কিছুক্ষণ উঠোনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখ একবার করে সবার মুখের ওপর ঘুরে গেল। ক্লে মরগান, বাড হিগিন্স, মিগুয়েল, হ্যাঙ্ক, রুবেন, তারপর এসে থামল মারদেকার ওপর। ছেলেটা অন্যদের থেকে একটু পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে এখনো সেই দড়িটা, যেটা দিয়ে সে দুপুরে নদীর ধারে একটা ভাঙা বেড়ার খুঁটি টেনে সোজা করেছিল। মুখে কোনো কথা নেই, কিন্তু চোখ দুটো সতর্ক। যেন চারপাশের প্রতিটি শব্দ সে আলাদা করে শুনছে।

    লারসেন ধীরে ধীরে বলল, “আজ থেকে পাহারা বদলাবে।” কথাটা শুনেই সবাই তার দিকে তাকাল। “এখন থেকে রাতে দুজন করে পাহারা দেবে। একজন উত্তর দিক দেখবে, আরেকজন নদীর দিক। দিনের বেলায়ও যে যেখানে কাজ করবে, আশপাশে নজর রাখবে। কোনো অচেনা খুরের দাগ, ভাঙা বেড়া, অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে জানাবে। অনুমান নয়, প্রমাণ চাই।”

    কেউ কোনো প্রশ্ন করল না। র‍্যাঞ্চের লোকেরা জানে, ওলফ লারসেন অকারণে নিয়ম বদলায় না। তার সিদ্ধান্তের পেছনে সবসময় কারণ থাকে। বাড মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। ক্লে শুধু বলল, “আজ রাত থেকেই শুরু করছি।” মিগুয়েল চুপচাপ নদীর দিকের পাহারার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিল। হ্যাঙ্ক কিছু না বলেই আস্তাবলের দিকে হাঁটতে শুরু করল। সে জানে, রাতে বেরোতে হলে ঘোড়াগুলোও প্রস্তুত রাখতে হবে।

    এই সবকিছু মারদেকা নীরবে দেখছিল। কথাগুলোর অর্ধেকও সে বুঝতে পারছে না। কিন্তু মানুষের মুখের ভাব, চোখের ভাষা, শরীরের ভঙ্গি, এগুলো বোঝার ক্ষমতা তার অনেক আগেই তৈরি হয়েছে। সে বুঝল, আজ থেকে কিছু একটা বদলে গেছে। র‍্যাঞ্চের মানুষগুলো আগের মতো নিশ্চিন্ত নেই।

    সন্ধ্যার খাবারের সময়ও সেই পরিবর্তনটা টের পাওয়া গেল। বড় টেবিলের চারপাশে সবাই বসেছে, ইলাই নিজের হাতে রান্না করা গরম স্ট্যু আর রুটি পরিবেশন করছে। অন্যদিন এই সময় দু একজন হেসে গল্প করে, দিনের কাজের হিসাব দেয়, কেউ ঘোড়ার কথা বলে, কেউ গরুর। আজ কথাবার্তা কম। শুধু প্রয়োজনীয় কথাই হচ্ছে। ইলাইও সেটা বুঝতে পারল। বৃদ্ধ একবার লারসেনের দিকে তাকাল। লারসেন মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে খাচ্ছে। তার চোখে সেই গভীর চিন্তার ছায়া, যেটা ইলাই বহু বছর ধরে চেনে।

    খাওয়া শেষ হওয়ার পর ইলাই মারদেকাকে নিয়ে পড়ার ঘরে গেল। সেদিনের পাঠ ছিল কয়েকটা নতুন শব্দ। “River”, “Fence”, “North”, “Watch”। বৃদ্ধ প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করে বোঝাতে লাগল। মারদেকা মন দিয়ে শুনল, বারবার বলল, আবার লিখল। হঠাৎ “Watch” শব্দটা শুনে তার মনে বিকেলের দৃশ্যটা ভেসে উঠল। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে বাড আর মিগুয়েলের সতর্ক চোখ, লারসেনের কঠিন মুখ, সবার নীরবতা। শব্দের অর্থ সে পুরো বুঝল না, কিন্তু অনুভব করল, এই শব্দটার সঙ্গে আজকের দিনের একটা সম্পর্ক আছে।

    রাত অনেকটা নেমে এলে র‍্যাঞ্চ ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে গেল। দূরের প্রান্তরে কায়োটের দীর্ঘ ডাক ভেসে এল। আকাশজুড়ে অসংখ্য তারা। উঠোনের মাঝখানে একটা কেরোসিনের লণ্ঠন জ্বলছে। তার হলুদ আলোয় ছায়াগুলো আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে। মারদেকা ঘুমোতে যাওয়ার আগে অভ্যাসমতো বারান্দায় এসে দাঁড়াল। কয়েক মাস আগেও সে পাহাড়ের চূড়া থেকে দূরের শহরের আলো দেখত। এখন সে দাঁড়িয়ে আছে সেই র‍্যাঞ্চের বারান্দায়, যেটা তার নতুন ঘর হয়ে উঠেছে।

    ঠিক তখনই তার চোখে পড়ল একটা দৃশ্য। উত্তর দিকের বেড়ার পাশে ক্লে মরগান ঘোড়ায় চড়ে ধীরে ধীরে টহল দিচ্ছে। অন্যদিকে নদীর পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে মিগুয়েল। দুজনের হাতেই রাইফেল। আগে কখনো সে রাতের বেলা এমন পাহারা দেখেনি। তার মনে প্রশ্ন জাগল, কিন্তু জিজ্ঞেস করার মতো ভাষা এখনো সে শেখেনি।

    সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। অদ্ভুতভাবে তার মনে হলো, এই র‍্যাঞ্চটা যেন আজ আর আগের মতো নিশ্চিন্ত নেই। কোথাও কেউ আছে। দেখা যাচ্ছে না, তবু আছে। সেই অদৃশ্য উপস্থিতি বাতাসের ভেতরেও যেন অনুভব করা যায়।

    আর বহু দূরে, ব্ল্যাক রিভারের পশ্চিম প্রান্তের অন্ধকারে, দুটি ঘোড়া কোনো শব্দ না করে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছিল। তাদের আরোহীরা র‍্যাঞ্চের দিকে আসছিল না। তারা শুধু দূরের উঁচু টিলা থেকে একবার লারসেনের জমির দিকে তাকাল। কয়েক মুহূর্ত নীরবে পর্যবেক্ষণ করল। তারপর ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে আবার অন্ধকারের ভেতর মিলিয়ে গেল। তারা কোনো চিহ্ন রেখে গেল না। কোনো গুলি ছোড়েনি। কোনো বেড়া কাটেনি। কিন্তু সেদিন রাতেই প্রথমবারের মতো শিকারি আর শিকারের মাঝখানের দূরত্ব আরও একটু কমে এল।

    পরদিন ভোরে লারসেন র‍্যাঞ্চের ওপর আবারও একটি নতুন দিনের সূচনা হলো। পূর্ব দিগন্তে সূর্যের প্রথম আলো ফুটতেই রাতের শিশিরে ভেজা ঘাসের মাথাগুলো সোনালি ঝিলিক ছড়িয়ে উঠল। দূরের পাহাড়গুলো তখনও হালকা কুয়াশার আবরণে ঢাকা। আস্তাবল থেকে ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনি ভেসে আসছে, গরুর ঘণ্টা ধীরে ধীরে বেজে উঠছে, আর ইলাই রান্নাঘরের চুলায় শুকনো ওক কাঠ জ্বালিয়ে সকালের নাশতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাইরে থেকে সবকিছু আগের মতোই স্বাভাবিক মনে হলেও র‍্যাঞ্চের ভেতরের পরিবেশে অদৃশ্য একটা পরিবর্তন এসে গেছে। আগের মতো কেউ আর নিশ্চিন্তে কাজ করছে না। প্রত্যেকের চোখ মাঝেমধ্যে অকারণেই র‍্যাঞ্চের সীমানার দিকে চলে যাচ্ছে। রাতের অন্ধকারে দূরের টিলায় দেখা সেই দুই অচেনা ঘোড়সওয়ার যেন কাউকে কিছু না বলেও সবার মনে একটি সতর্ক সংকেত রেখে গেছে।

    নাশতা শেষ করেই ওলফ লারসেন সবাইকে উঠোনে ডেকে পাঠাল। ক্লে মরগান, বাড হিগিন্স, মিগুয়েল, রুবেন কোল, হ্যাঙ্ক ডসন, সবাই এসে দাঁড়াল। মারদেকাও একটু দূরে নীরবে দাঁড়িয়ে রইল। লারসেন শান্ত গলায় বলল, আজ থেকে র‍্যাঞ্চের প্রতিটি সীমানা নতুন করে পরীক্ষা করা হবে। উত্তর দিকের নদীর পাড়, পশ্চিমের টিলা, দক্ষিণের চারণভূমি, সব জায়গা প্রতিদিন ঘুরে দেখতে হবে। কেউ একা বের হবে না। সন্ধ্যার আগেই সবাই ফিরবে। তার কণ্ঠে কোনো উত্তেজনা ছিল না, কিন্তু এতদিন যারা তার সঙ্গে কাজ করেছে, তারা জানে এই স্বরই সবচেয়ে বিপজ্জনক। ওলফ লারসেন কখনো অকারণে ভয় পায় না। তাই সে যখন সতর্ক হয়, তখন অন্যরাও বুঝে নেয়, বিষয়টা হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

    সেদিন বাড হিগিন্স মারদেকাকে সঙ্গে নিয়েই দক্ষিণের বেড়া ধরে বেরোল। কয়েক মাস আগেও ছেলেটা শুধু তাদের কাজ দেখত। এখন সে নিজেও কাজের অংশ হয়ে উঠেছে। বাড তাকে নতুন কোনো কৌশল শেখাল না। বরং এতদিন যা শিখেছে, সেগুলো বাস্তবে খেয়াল করতে বলল। কোথাও বেড়ার তার ঢিলে হয়েছে কি না, কোথাও খুঁটির গোড়ার মাটি নরম হয়েছে কি না, কোথাও শুকনো ঘাস অস্বাভাবিকভাবে চ্যাপ্টা হয়ে আছে কি না, সবকিছুই লক্ষ্য করতে বলল। মারদেকা ধীরে ধীরে হাঁটছিল। মাঝেমধ্যে হাঁটু গেড়ে বসে মাটির দিকে তাকাচ্ছিল, শুকনো ডাল সরিয়ে দেখছিল, আবার উঠে দাঁড়াচ্ছিল। সে এখনো মিগুয়েলের মতো দক্ষ ট্র্যাকার নয়, কিন্তু তার ভেতরে পর্যবেক্ষণের অভ্যাস জন্মাতে শুরু করেছে। বাড সেটা লক্ষ্য করছিল। সে বুঝতে পারছিল, ছেলেটা আর শুধু নির্দেশ পালন করছে না, নিজের চোখ দিয়েও পৃথিবীকে পড়তে শিখছে।

    দুপুরের দিকে তারা র‍্যাঞ্চে ফিরে এলো। ইলাই তখন বারান্দার ছায়ায় বসে মারদেকার জন্য স্লেট আর বই সাজিয়ে রেখেছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে অক্ষর আর ছোট ছোট শব্দ নিয়ে পড়াশোনা চলল। আগের তুলনায় এখন সে অনেক সহজে শব্দ চিনতে পারে। মাঝে মাঝে ভুল করে, আবার নিজেই সেটা ঠিক করার চেষ্টা করে। ইলাই তাকে কখনো তাড়া দেয় না। তার বিশ্বাস, যে ছেলে ধৈর্য ধরে পাহাড় পেরিয়ে নতুন জীবন খুঁজে নিতে পারে, সে একদিন বইয়ের পাতার ভেতর থেকেও নিজের পথ খুঁজে নেবে।

    বিকেলের শেষ ভাগে সূর্যের আলো একটু নরম হয়ে এলে র‍্যাঞ্চের উঠোনে হঠাৎ এক ঘোড়ার খুরের শব্দ ভেসে উঠল। সবাই স্বাভাবিকভাবেই মাথা ঘুরিয়ে তাকাল। ধুলোমাখা একটি বাদামি ঘোড়া দ্রুত এগিয়ে এসে প্রধান বাড়ির সামনে থামল। ঘোড়া থেকে নামল ব্ল্যাক রিভারের ডেপুটি মার্শাল। লোকটিকে দেখে লারসেন সঙ্গে সঙ্গে চিনতে পারল। বহুবার শহরে গেলে তার সঙ্গে দেখা হয়েছে।

    সে টুপি খুলে সম্মান জানিয়ে বলল, “মার্শাল এলি ব্রুকস আপনাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শহরে যেতে বলেছেন।”

    লারসেন স্থির চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল। “কী হয়েছে?”

    ডেপুটি মার্শাল মাথা নেড়ে বলল, “মার্শাল বিস্তারিত কিছু বলেননি। শুধু বলেছেন, বিষয়টা আপনার নিজের কানে শোনা দরকার।”

    লারসেন আর কোনো প্রশ্ন করল না। এলি ব্রুকসকে সে বহু বছর ধরে চেনে। মানুষটা অকারণে কাউকে খবর পাঠায় না। বিশেষ করে নিজের ডেপুটিকে র‍্যাঞ্চ পর্যন্ত পাঠানোর প্রয়োজন সে তখনই মনে করবে, যখন শহরের ভেতরে এমন কিছু ঘটেছে, যার ছায়া শহরের সীমানা ছাড়িয়ে বাইরেও পড়তে পারে। এই কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া ছোট ছোট ঘটনাগুলো একে একে লারসেনের মনে ফিরে এল। রাতের অচেনা ঘোড়সওয়ার, বেড়ার বাইরে পাওয়া অস্বাভাবিক চিহ্ন, শহরে কিছু মানুষের অদ্ভুত নড়াচড়া। এতদিন পর্যন্ত এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু এখন যেন অদৃশ্য সুতোয় সবকিছু এক জায়গায় বাঁধা পড়তে শুরু করেছে।

    ডেপুটি মার্শাল চলে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ উঠোনে নীরবতা নেমে রইল। বাতাসে শুকনো ঘাস দুলছে। দূরে গরুর পাল ধীরে ধীরে পানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। লারসেন অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত বলল, “কাল সকালে আমি ব্ল্যাক রিভারে যাব।”

    শুধু একটি বাক্য। কিন্তু সেই বাক্য শুনেই বাড, ক্লে আর মিগুয়েল একে অন্যের মুখের দিকে তাকাল। তাদের কারও মুখে প্রশ্ন নেই। কারণ তারা জানে, ওলফ লারসেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক ভেবেই নেয়।

    মারদেকা একটু দূরে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিল। কথোপকথনের বেশিরভাগই সে বুঝতে পারেনি। কিন্তু একটি শব্দ আবার তার কানে স্পষ্ট ধরা পড়ল। ব্ল্যাক রিভার।

    কয়েক মাস আগে সেই শহরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েই তার জীবনের মোড় ঘুরেছিল। এখন আবার সেই শহরের নাম উচ্চারিত হচ্ছে, কিন্তু এবারের স্বর সম্পূর্ণ আলাদা। এতে বিস্ময়ের চেয়ে সতর্কতার সুর বেশি। সে বুঝতে পারছিল না কী ঘটতে চলেছে, কিন্তু অনুভব করছিল, র‍্যাঞ্চের মানুষগুলোর চোখে যে অদৃশ্য সতর্কতা নেমে এসেছে, তার সঙ্গে ব্ল্যাক রিভারের কোনো না কোনো সম্পর্ক আছে।

    পশ্চিমের আকাশে তখন সূর্য ধীরে ধীরে লাল হয়ে নামছে। দীর্ঘ ছায়া এসে পড়েছে র‍্যাঞ্চের উঠোনে। সেই ছায়ার ভেতর দাঁড়িয়ে মারদেকা নীরবে শহরের দিকেই তাকিয়ে রইল। সে জানত না, পরদিন ওলফ লারসেন ব্ল্যাক রিভারে গিয়ে কী শুনবে। কিন্তু ভাগ্য যেন অদৃশ্য হাতে ধীরে ধীরে সব গুটি সাজিয়ে ফেলছে। আর সেই খেলায় মারদেকা, ওলফ লারসেন, ব্ল্যাক রিভার এবং অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা অজানা শত্রুর পথ খুব শিগগিরই প্রথমবারের মতো এক বিন্দুতে এসে মিলিত হবে।
    (চলবে)

    5
    4 Comments
    • রহস্য বাড়ছে, সাথে উত্তেজনাও…………………

      • একদম! এই পর্বটা পড়ে সত্যিই মুগ্ধ হলাম! রাঞ্চের সেই থমথমে সকালের বর্ণনা থেকে শুরু করে একদম শেষের রহস্যময় দুই ঘোড়সওয়ারের দৃশ্য পর্যন্ত একটা চাপা টেনশন অসাধারণভাবে ধরে রাখা হয়েছে! বিশেষ করে মারদেকার চোখ দিয়ে গল্পটা দেখানোর কৌশলটা লেখক খুব যত্ন নিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন!

    • আপনার এই লেখনীতে অনিশ্চয়তার যে ছায়া এবং চরিত্রগুলোর মধ্যকার গভীর সতর্কতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, তা আমাকে মুগ্ধ করেছে; বিশেষ করে মারদেকার চারপাশ পর্যবেক্ষণ করার বিষয়টি গল্পের আবহকে অত্যন্ত জীবন্ত ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

    • বিষণ্ন সুমন, আপনার ওয়েস্টার্ন জনরার গল্পটি বেশ টানটান উত্তেজনায় এগোচ্ছে, মারদেকার চারপাশ পর্যবেক্ষণ শেখার অংশগুলো দারুণ লিখেছেন। আমাদের এই গ্রুপটি প্রাণবন্ত রাখতে আপনি নিজে যেমন অন্য লেখকদের পোস্টে সুন্দর মন্তব্য করবেন, তেমনই আশা করি অন্যরাও আপনার লেখার ওপর নিয়মিত প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন

ডিজাইনার

স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।

Skip to toolbar