-
দীদার মায়া
আদিত্য ভৌমিক
১৪/৮/২০২৬
আমার জীবনে যদি কোনো একজন মানুষের প্রতি সবচেয়ে বেশি মায়া থেকে থাকে, তিনি আমার প্রিয় দীদা—মীরা নাথ।
আমি কুমিল্লায় জন্ম নিয়েছি, অথচ ছোটবেলা থেকে কুমিল্লায় থাকতে পারিনি। দীদার কাছে থেকে বড় হতে পারিনি, তাঁর পাশে বসে দীর্ঘ সময় কাটাতে পারিনি, প্রতিদিন তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে গল্প শুনতে পারিনি। এই না-পাওয়ার কষ্টটা হয়তো আমার হৃদয়ের ভেতর সারাজীবনই থেকে যাবে।
কখনো কখনো মনে হয়, যদি কোনোদিন কেউ এসে আমাকে আবার দূরে নিয়ে যায়, তখন হয়তো আমার চোখের পানি আর থামবে না। মনে হবে—আবার কি দীদাকে ছেড়ে যেতে হবে? আবার কি তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে? তখন হয়তো কুমিল্লার প্রতিটি পথ, প্রতিটি স্মৃতি আর দীদার মুখটা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠবে। সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে সেই মানুষটাকে, যাঁর কাছে আমার মনের এতটা মায়া জমে আছে।
আমি জানি, পৃথিবীর কোনো মানুষই চিরদিন থাকে না। একদিন আমার প্রিয় দীদাও পৃথিবীর সব মায়া ছেড়ে আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যাবেন। সেই দিনটার কথা ভাবলেই বুকের ভেতরটা কেমন শূন্য হয়ে যায়। মনে হয়, তখন আমি কাকে বলব—দীদা, তোমার কাছে একটু বসি? কাকে বলব—দীদা, তোমার মুখে সেই পুরোনো গল্পটা আবার শুনতে চাই?
মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো কি কখনো চলে যায়? দীদা যদি একদিন আমার চোখের আড়ালেও চলে যান, তাঁর কথা কি আমার হৃদয় থেকে মুছে যাবে? না, কোনোদিনও না।
হয়তো বয়স বাড়বে, সময় বদলাবে, জীবনের অনেক মানুষ আসবে-যাবে; কিন্তু আমার হৃদয়ের এক কোণে দীদা মীরা নাথ ঠিক আগের মতোই থেকে যাবেন। তাঁর কণ্ঠ, তাঁর স্নেহ, তাঁর মুখ, তাঁর সঙ্গে কাটাতে না-পারা সময়—সবকিছুই আমার স্মৃতির সবচেয়ে কোমল জায়গায় জমে থাকবে।
দীদা, আমি জানি না জীবনে আর কতটা সময় তোমার পাশে থাকতে পারব। তাই যতদিন পারি, তোমার মায়াটুকু বুকের মধ্যে আগলে রাখতে চাই। কারণ পৃথিবীতে অনেক সম্পর্ক পাওয়া যায়, কিন্তু কিছু মানুষকে হারানোর ভয় বুকের ভেতর যে কান্না তৈরি করে—তাঁরা আমাদের কাছে শুধু মানুষ নন, তাঁরা আমাদের হৃদয়ের একটি অংশ।4 Comments
Friends
দেবাঞ্জলি সেন
@sendev
sayed sajib
@sayedsajib
Hussain Entazie
@hussainentazie
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
মোঃ ইফতেখার আহমেদ তাজিম
@tazim
Sayeed Patwary
@sayeedp
himel ishaq
@himelishaq
Moin Uddin
@moinuddin1
মোস্তফা কামাল সাকি
@mostofakamal

স্মৃতির অমরত্বের এক সুন্দর স্বীকারোক্তি! শেষ পর্যন্ত মায়াটুকুই থেকে যায়।